আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের কঠিন লড়াই!

আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের কঠিন লড়াই!
নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম ১৪ মিনিট! আর্জেন্টাইনদের সে কী জাদু। মেসিদের কাছে পাত্তাই পাচ্ছিল না আফ্রিকার সুপার ঈগলরা। নকআউটের লড়াইয়ে ফ্রান্সকে হারাতে হলে এমন জাদুকরী ফুটবলই উপহার দিতে হবে আর্জেন্টাইনদের।

ফরাসিরা এই আসরে ‘হট ফেবারিট’! গোলকিপার থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার পর্যন্ত— ১১ জনই বড় তারকা। ইউরোপের সেরা সেরা ক্লাবে তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। বয়সেও তরুণ। আর এই তারুণ্যের শক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো বাধাই ‘বাধা’ নয়।

তবে প্রতিপক্ষ দলটা মেসির আর্জেন্টিনা বলেই যা ভয়। একটি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে কখনো কখনো মেসির মতো একজন ফুটবলারই যথেষ্ট। এটা তো চিরন্তন সত্য ফুটবল দলীয় খেলা! কিন্তু দলের সেরা তারকা যেদিন ফর্মে থাকেন, তার সংস্পর্শে বাকি দশজনও উজ্জীবিত হন।

নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসির ছোঁয়ায় যেভাবে জেগে উঠেছিলেন বানেগা, রোহো, মাচকেরানো তথা পুরো আর্জেন্টিনা। তারকায় ভরপুর দল ফ্রান্সের ভয়ঙ্কর দুই খেলোয়াড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার পল পগবা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের উইঙ্গার অ্যান্টোনি গ্রিজম্যান। আর্জেন্টাইন ডিফেন্স ভাঙতে নেতৃত্ব দেবেন এই জুটি। অবশ্য তাদের কড়া পাহারায় রাখবেন মাসকেরানো-রোহোরা।

যদিও মাসকেরানোর ভুলেই পেনাল্টি পেয়েছিল নাইজেরিয়া। তারপর অবশ্য নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই অধিনায়ক। তার গাল কেটে রক্ত ঝরছিল, তবু এক বিন্দু ছাড় দেননি প্রতিপক্ষকে।

ফরাসিদের বিরুদ্ধেও ইস্পাতকঠিন হয়ে থাকতে হবে রক্ষণভাগকে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বেশকিছু ভুল করলেও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নকআউটে সতর্ক হয়েই মাঠে নামছে আর্জেন্টাইনরা।

লাতিন এই দলটির জন্য বড় সুখবর হচ্ছে— শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসি কেবল খেলাতেই জাদু দেখাননি, নেতৃত্বেও রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। সতীর্থদের দারুণভাবে উৎসাহিত করেছেন।
নকআউট পর্বেও যদি দ্বৈত ভূমিকায় মেসি সফল হন তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাটা আলবেসিলেস্তোদের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার!
আর্জেন্টিনার একটি অদ্ভুত ইতিহাস আছে, বিশ্বকাপে তারা যে ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে প্রথমে বল জড়াতে পারে সে ম্যাচে আর হারে না। গত ৬০ বছর থেকে এ ধারা অব্যাহত আছে। আলবেসিলেস্তোরা প্রথমে গোল করার পর সর্বশেষ হেরেছিল ১৯৫৮ সালে, জার্মানির বিরুদ্ধে।

সেই প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার পরও ১-৩ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর বিশ্বকাপের ৪০টি ম্যাচে তারা প্রথমে গোল করার পর আর হারেনি। তাই নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ দিয়েগো ম্যারাডোনার আকুতি ছিল মেসিরা যেন যত দ্রুত সম্ভব গোল আদায় করে দেন। সে কাজটিই করেছিল আর্জেন্টিনা।

গোল করেছেন স্বয়ং দলপতি লিওনেল মেসি। ইভার বানেগার দেওয়া উড়ন্ত বলে প্রথমে ডান পায়ের থাই দিয়ে আটকান। বল মাঠ স্পর্শ করার আগেই বুটের মাথা দিয়ে প্লেস করে নেন। তারপর ডান পায়ে প্লেসিং শটে নাইজেরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন।

সমালোচকরা বলেন, মেসির নাকি ডান পায়ে শক্তি নেই। নিশ্চয়ই এই গোলের পর তাদের মুখ বন্ধ হওয়ার কথা। দুরন্ত গোলটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে ১০০তম গোল। এই গোলে ফুটবল জাদুকর টানা তিন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন।

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে এমন কৃতিত্ব ছিল কেবল ম্যারাডোনা (১৯৮২, ’৮৬ ও ’৯৪) ও বাতিস্তুতার (’৯৪, ’৯৮ ও ২০০২)। ইতিহাস অনুসরণ করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও যদি মেসিরা প্রথমে গোলের দেখা পেয়ে যান তাহলে নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে কোয়ার্টার ফাইনাল।

তবে এও ঠিক, ফরাসিদের প্রথমে চাপে ফেলতে না পারলে বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে মেসিদের। কেননা এই ফ্রান্স খুবই ভয়ঙ্কর এক দল। যদিও গ্রুপ পর্বে তারা নিজেদের সেরা পারফর্ম করে দেখাতে পারেনি। তার পরও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।

তাই আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে, আফ্রিকার সুপার ঈগলদের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম ১৪ মিনিটের মতো ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটে খেলতে পারলে এই আর্জেন্টিনাকে আটকানো ফ্রান্সের পক্ষে অসম্ভবই হয়ে যাবে!

loading...

৭ ই মার্চ কথাটি শুনলেই মনের ভিতর জেগে উঠে একটি স্পন্দন। একটি বাজনা, একটি হুঙ্কার ও মুক্তির দমামা।মনে পড়ে যায় অসংখ্য প্রিয়জন হারানোর বেদনা ।

মানুষজন একটি দিনের ভাষণকে মনে কর... Read More

নামাজের সময়সুচী

ফজর ভোর ০৪:৩৬ মিনিট
যোহর বেলা ১১:৫৩ মিনিট
আছর বিকেল ০৪:১১ মিনিট
মাগরীব সন্ধ্যা ০৫:৫৪ মিনিট
এশা রাত ০৭:০৯ মিনিট
সেহরী ভোর
ইফতার সন্ধ্যা

আর্কাইভ

নির্বাচিত সংবাদ