১৮ বছর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আবুল হাওলাদারের রেকর্ড

My invent tv

টানা চতুর্থবারের মতো মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েছেন সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার। তিনি একজন সমাজ সেবক ।
গত রোববার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ।
ভোটার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮বছর ধরে ঝাউদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন আবুল হাওলাদার । আগেরবার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার মাদারীপুর সদরের ১৪টি ইউপিতে দলীয় প্রতীক না থাকায় আবুলকে হারাতে অপর এক প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। শেষ পর্যন্ত তার অপর প্রার্থীকেই পেছনে ফেলে এবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো.হায়দার কাজী আনসার প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ২২২ ভোট।
মাদারীপুর শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার ভেতরে ঝাউদি ইউনিয়ন। জেলা সদর থেকে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় একসময় এ ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা ছিল চরমপন্থীদের দখলে। ২০০৩ সালে প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ করেন সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার। বর্তমানে ঝাউদি এলাকা প্রায় চরমপন্থীশূন্য। উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।
ঝাউদি হোগলপাতিয়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সরদার বলেন, ‘আবুল ভাই আসলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শের সৈনিক। আমরা কখনো তাঁকে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে দেখিনি। এলাকার জনগণের বিপদে-আপদে, আনন্দ-উল্লাসে সব সময় আবুল ভাই ছিলেন। তাই এলাকার মানুষ তাঁকে বারবার নির্বাচিত করছেন। এবারও তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আমরা একজন জনদরদি জনপ্রতিনিধি পেলাম।’
টানা চারবারের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আবুল হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলো।আমি যুদ্ধের আমার বাবা ও তার সহোযোগিদের সাহায্য করেছি। তখন আমার মনের ভিতরে চিন্তা আসে আমি আমার দেশে ও এলাকার মানুষের জন্য কিছু একটা করব। এরপরে আমি সাধারন মানুষের সকল আপদ বিপদে এগিয়ে আসি। ছোট থেকেই আমার চিন্তা ছিলো মানুষের জন্য কাজ করা। ছাত্র রাজনৈতিক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত আছি। এরপর ২০০৩ সালে প্রথম চেয়ারম্যানে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হই। প্রায় ১৮ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবা করে আসছি। কখনো জিততে হবে, এমন চিন্তা করিনি। মানুষের সেবা করতে হবে, তাঁদের পাশে থাকতে হবে, এটাই ছিল আমার লক্ষ্য। এলাকার জনগণ আমাকে অনেক সম্মান এবং মর্যাদা দিয়েছেন। ভোটারদের এই সম্মান ও মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে তাদের সেবায় মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’
‘জনগণের ভালোবাসা ছাড়া এতবার বিজয়ী হওয়া যায় না। তাই তাদের ভালোবাসার মূল্য দিতে আজীবন জনগণের পাশে থাকব।’
তবে এবার নির্বাচন অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন। বিজয় ছিনিয়ে আনা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে জয় পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের।’
রাকিব হাসান,মাদারীপুর

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap