হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পানির অভাবে বোরো ধানের ফলন হয়নি কৃষকের!

Muzammel Hydar, Shayestaganj

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর এলাকায় ফসলের মাঠে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের পানি না পেয়ে ধীরে ধীরে মরে লাল যাচ্ছে জমির বোরো ধান। অন্যান্য কৃষকের ধান কাটা শুরু হলেও আলাপুরের কৃষকের মাঠে এখনো ধান দেখা মিলেনি।

জানা যায়, উপজেলার আলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত বিএডিসি সেচ প্রকল্পের সেচের মাধ্যমে প্রাপ্ত পানি দিয়ে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করে আসছেন। চলতি বোরো মৌসুমেও শতাধিক কৃষক জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন।

ওই সেচ প্রকল্পের পরিচালক আলাপুর গ্রামের সুন্দর হোসেনের পুত্র আব্দুল কাইয়ুম সময়মত পানি সেচ না দেওয়ায় বোরো ধান চাষ করতে বিলম্বের শিকার হয়েছেন কৃষকরা। তাই এখন বোরো মৌসুমের ধান কাটার সময় হলেও আলাপুরের কৃষকের এখন পর্যন্ত ধানের শীষও বের হয়নি। এ ব্যাপারে বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে আলাপুর গ্রামাবাসীর পক্ষে মোঃ নুরুল আলম জামাল স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দায়ের করা হয়েছে। এসময় গ্রামের শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। লিখিত অভিযোগে কৃষকরা উল্লেখ করেন, বোরো ধান চাষাবাদের জন্য ডিসেম্বর জানুয়ারী মাসে জমিতে পানি সেচ দেওয়ার কথা থাকলেও সেচ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম পানি সরবরাহ করেন ফেব্রুয়ারী মাসে। এতেই বোরো ধান চাষাবাদে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানেও জমিতে পানি না থাকায় ধানের জমি ফেটে গিয়ে প্রায় ৫০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির আলী, রেনু মিয়া, তাহির মিয়া, সবুজ মিয়া, সহিদ মিয়া জানান, তারা জনপ্রতি গড়ে ৩শ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। জন প্রতি বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা খরচ গুণতে হয়েছে তাদের। এখন সময়মত পানি না পাওয়ায় ধানের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোজাম্মেল হায়দার,শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি