স্বপ্নের বঙ্গমাতা সেতু উদ্বোধন হবে আজ

স্বপ্নের বঙ্গমাতা সেতু উদ্বোধন হবে আজ

Generic placeholder image
  Ashfak

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম শনিবার সকালে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থল পরিদর্শনে এসে বলেছেন, দুই পাড়ের বিচ্ছিন্ন হওয়া কচা নদীর ওপর ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতু’ প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল, আগামীকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রী বলেছেন, দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের আরো একটি স্বপ্ন পুরণ হতে যাচ্ছে আগামীকাল ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের লক্ষে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সেতু’। এসময় সড়ক ও পনপথ বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী ও সংষিøষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এবং সেতু প্রান্ত এলাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ.কে.এম.এ আউয়াল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না সহ স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ট্রয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এসময় সংবাদ কর্মীসহ এবং স্থানীয় জনসাধারন উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের বেকুটিয়ায় কচা নদীর উপর নির্মিত এই স্বপ্নের সেতুটির নদীর পশ্চিম এবং পূর্ব পাড়ে ২টি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। পশ্চিম পাড়ে উপস্থিত থাকবেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। পূর্ব পাড়ে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপস্থিত থাকবেন।
২০১৩ সালের ১৯ মার্চ পিরোজপুরের এক জনসভায় কঁচা নদীর উপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু নির্মাণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন ৮ম মৈত্রী সেতু  এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৯৪.০৮ কোটি টাকা ব্যায় করে ১৪৯৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং ১৩.৪০ মিটার প্রস্থের এই পিসি বক্স গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার এই সেতুটি নির্মাণে ৬৫৪.৮০ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য প্রদান করেছে এবং বাংলাদেশ সরকার ব্যায় করেছে ২৩৯.৮০ কোটি টাকা। অক্টোবর ২০১৭ হতে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ শুরু হয় এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরে এটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ মাস পূর্বেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শেষ করে সেতু বিভাগের কাছে গত মাসের ৭ তারিখ হস্তান্তর করেন। সেতুর পূর্ব প্রান্তে নদীর তীরে ২২০ মিটার দীর্ঘ ও ৫৫ মিটার প্রস্থের বিনোদন এলাকা উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব প্রান্তে এপ্রোচ সড়ক সংলগ্ন ৬০ মিটার দীর্ঘ ও ৫ মিটার প্রস্থের বিটুমিনাস সড়ক, এপ্রোচ সড়কের নিচে ৬০ মিটার দীর্ঘ ও ৫ মিটার প্রস্থের কংক্রিট সড়ক এবং পশ্চিম প্রান্তে ১২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩.৫০ মিটার প্রস্থের কংক্রিট সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ২২০ মিটার নদী শাসনের কাজ করা হয়েছে। এ সেতু প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাসুদ মাহমুদ সুজন জানান চীনের মেজর ব্রীজ রিকনাইসেন্স এবং ডিজাইন ইন্সটিটিউট কোম্পানী লিঃ এর তত্ত্বাবধানে চায়না রেইল ওয়াচ ১৭ ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানী লিঃ এই সেতুটি নির্মাণ করে। এ সেতুতে গতিময় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ও প্রান-চাঞ্চল্যে ভরপুর হয়ে উঠবে পিরোজপুরসহ পদ্মার এ পাড়ের জেলাগুলো।
পিরোজপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন হিসাবে:

মন্তব্য করুন (0)