সীম চাষ করে স্বাবলম্বী উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক সোহাগ মিয়া!

Shayestaganj

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার উচ্চশিক্ষিত হয়েও বেকার যুবক সোহাগ মিয়া। তিনি হন্যে হয়ে চাকুরি নামের সোনার হরিণের পেছনে অনেক ছুটাছুটি করেছেন। চাকুরি প্রাপ্তিতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে নিজের মেধা ও শ্রমের সমন্বয়ে বিকল্প প্রক্রিয়ায় সাবলম্বী হতে চেষ্টা করে সফল হয়েছেন।

লেখাপড়া শেষে নিজের মেধা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সফল হওয়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণ উদোক্তা মো. সোহাগ মিয়া। সোহাগ মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপট গ্রামের মো. শাহ আলমের পুত্র।

তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে একাউন্টিংয়ে এমবিএ শেষ করেছেন। লেখাপড়া শেষ করে প্রায় চার বছর চাকুরি খোঁজেছেন হন্যে হয়ে, অবশেষে চাকুরী না পেয়ে নিজের অদম্য আকাঙ্খাকে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন একজন উদ্যোক্তা। এরপর হয়েছেন একজন সফল কৃষিজীবী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৯ বছর বছরের উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক মো. সোহাগ মিয়া ১৮ সাল থেকে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি নিজের পতিত জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজির বাগান। তার বাগানে করলা, টমেটো ও সীম চাষ করা হয়েছে।

সোহাগ মিয়া এবছর ৬০ শতক জমিতে চাষ করেছেন সীম এবং জমিতে বাম্পার ফলনও হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার সীম বিক্রি করে দুই লক্ষ টাকা আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওই সীম চাষ করতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্পুর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে তিনি চাষ করেছেন সীম। সোহাগ মিয়ার সীম বাগানে ৪-৫ জন শ্রমিক মাসিক বেতনে কাজ করছেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করে আসছেন তার মা ও বোন।

সোহাগের সীম বাগানে কর্মরত শ্রমিক আনজব আলী বলেন দৈনিক ৪শ টাকা মজুরিতে কাজ করেন এখানে। এই টাকা দিয়েই সংসার চালান তিনি। সৌদি আরবে ১৮ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে আসেন একই গ্রামের ফরিদ মিয়া। দেশে এসে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

মোরগের ফার্ম দিয়ে লোকসান হয়েছে অনেক টাকা। সোহাগে মিয়ার বিভিন্ন সবজির চাষ দেখে উৎসাহ পেলেন তিনি। নিজেও করলেন বিভিন্ন রকম সবজি চাষ। এতে করে এখন ফরিদ মিয়াও ভালো টাকা আয় করছেন।
এ ব্যাপারে সোহাগের মা রেজিয়া খাতুন বলেন উচ্চ শিক্ষিত ছেলে আমার বেকার জীবনে চাকুরী পাচ্ছিল না। পরে ছেলে যখন কৃষি কাজে মনোনিবেশ করলো তখন আমিও তাকে সহযোগীতা করি। এখন আর কোন চিন্তা নাই ছেলে এখন সফল কৃষিজীবী। ছেলের চাষ করা নানান রকমের সবজি বিক্রি করে অনেক টাকা আয় হয় তাদের।
এ বিষয়ে সোহাগ মিয়া বলেন একাউন্টিংএ এমবিএ শেষ করে চার বছর চাকুরির পিছনে ছুটেছি কিন্তু চাকুরি জোটেনি ভাগ্যে। পরে পারিবারিক জমিতে টমেটো, করলা ও সীমের চাষ শুরু করি।

সম্পুর্ন অর্গানিক প্রদ্ধিতে সবজির চাষ করি। যে কারনে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। আর বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। টমেটো আর করলা চাষ করার পরে এবার সীমের চাষ করেছি।

সীম চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মতো। এতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি ২ লাখ টাকার সীমের বিচি বিক্রি করতে পারবো। ৪ বছর চাকুরির পিছনে না ঘুরে কৃষি কাজ করলে এতো দিনে অনেক টাকা আয় করতে পারতাম।

আরও পড়ুনঃ জীবনের ইতি টানলেন ৩০২ কেজি ওজনের মাখন মিয়া

আমাকে দেখে গ্রামে অনেকেই এখন বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ শুরু করেছেন। একই সাথে আমার বাগানে কাজ করে ৪/৫ টি পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সহযোগীতা পেলে তিনি আরও বেশি জমিতে নানান ধরনের সবজি চাষের উদ্যোগ নিতে পরবো।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, উচ্চ শিক্ষিত সোহাগ এখন অনেকেরই অনুপ্রেরনা। চাকুরি পেতে ব্যর্থ হলেও তিনি কৃষিতে সফল। উনার মতো শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি কৃষি কাজে এগিয়ে আসেন তাহলে দেশে কৃষিতে বিপ্লব হবে।

আমি অনেককেই উৎসাহ দেই কৃষি কাজ করার জন্য সাথে সব ধরনের সহযোগীতা। যে কেউ পরার্মশ চাইলে আমি সহযোগীতা করি। সোহাগের সরকারি সহয়তার বিষয়ে তিনি বলেন উনি চাইলে আমি অব্যশই সহযোগীতা করবো।

এম হায়দার চৌধুরী/শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি