সাব-রেজিস্টারের প্রত্যাহারের দাবীতে টঙ্গী দলিল লেখকদের দিনভর কর্ম-বিরতি

mrinalnews-Tongi

টঙ্গীতে রোববার সকাল ৯টা থেকে ঘুষ দূর্নীতি, ও দলিল লেখকসহ অফিস স্টাফদের সাথে অসদ-আচরণ এবং অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে সাব-রেজিস্টারের প্রত্যাহারের দাবিতে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রায় তিন শত দলিল লেখক দিনভর কর্ম-বিরতি পালন করছেন।

দলিল লেখকগন জানান, ১০ অক্টোবর ২০১৯ সালে টঙ্গী সাব- রেজিস্টার মো. মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ যোগদানের পর থেকে নিজেকে আইনমন্ত্রীর আত্বীয় পরিচয়ে টঙ্গী সাব রেজিস্টার অফিসের প্রায় ৩ শত দলিল লেখকসহ অফিস স্টাফদের সাথে অস্যেজন্যমূলক আচরণ, হাতা হাতির মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি টাকা ছাড়া কোন কোন প্রকার ফাইলে সই করেন না।

একই সাথে দুটি রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রনসহ গাজীপুর ছায়া বিথীস্থ অফিস কেরানী এবং টঙ্গী রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবিশ দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। গত কয়েকমাস ধরে দলিল লেখকদের সাথে দলিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উগ্র আচরন শুরু করেন উপরোক্ত টঙ্গী সাব-রেজিস্টার।

দলিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্তেও সাব-রেজিস্টারের সাথে আর্থিক চুক্তিপত্র না করলে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করতে রাজি হন না। দলিল লেখকরা চুক্তিপত্রের জন্য রাজি না হলে নিজেকে আইনমন্ত্রীর আত্বীয় পরিচয়ে দলিল লেখককে গালিগালাজ করে থাকেন। তাকে অবিলম্ভে টঙ্গী থেকে প্রত্যাহার করা না হলে কর্ম-বিরতি চলবে বলে তারা অফিসের ভেতর শ্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী সাব-রেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান স্বপন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন বকুল, সাবেক সভাপতি মো. সালাউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

টঙ্গী সাব-রেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান টুটুল বলেন, সাব-রেজিস্টার সপ্তাহে তিনদিন অফিস করেন যা পর্যাপ্ত নয়। যার ফলে করোনার সময় স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে লোক সমাগমের মধ্যেও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন দলিল লেখকের মৃত্যু হয়েছে।

দলিল লেখকদের সাথে খারাপ আচরন ও অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধ ও সাব-রেজিষ্টারের অপসারণ দাবীও জানান তারা। তিনি আরোও বলেন দলিল লেখকদের নায্য দাবী না মানা পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এব্যাপারে জানতে টঙ্গী সাব- রেজিস্টার মো. মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা সাংবাদিক, জাতির বিবেক, আপনারা তদন্ত করে যা সত্য তা লিখবেন। আমার কোন আপত্তি নেই।

আমি একজন জুডিশিয়াল অফিসার হিসেবে কোন প্রকার বক্তব্য দিতে পারি না। পারবো না। আমি দেড় বছর এসেছি, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই. যদি থাকতো তবে সরকার আমাকে দুটি দায়িত্ব পালন করতে দিতো না। মনে রাখবেন আমার কোন পক্ষ নেই। আমি সরকারের কাজ করি।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী