সংবাদ প্রকাশের জেরঃ সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে পাশ বন্ধ ছিল দুইদিন জেলেদের দেখে নেওয়ার হুমকি এসিএফ জয়নালের

sarankhola bagerhat news

সংবাদ প্রকাশের জেরঃ সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে পাশ বন্ধ ছিল দুইদিন জেলেদের দেখে নেওয়ার হুমকি এসিএফ জয়নালের বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষেপেছেন তিনি ।
ঘুষ গ্রহণের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে সরবরাহের জন্য গড়পড়তা সব জেলেদের দোষারোপ করে শরণখোলা রেঞ্জে দুইদিন পাশ প্রদান বন্ধ রেখেছিলেন এসিএফ জয়নাল আবেদীন ।

জেলেরা কিভাবে সুন্দরবনে কাজ করে তা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে নতুনকরে অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত ১৮ মে, মেট্রো নিউজ টুয়েন্টি ফোর সহ বেশকিছু অনলাইন পত্রিকায় ‘মূল হোতা এসিএফ জয়নাল আবেদীনঃ দূর্নীতির আরেক নাম সুন্দরবনের বন- বিভাগ’ নামে একটি তথ্যবহুল রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ।

প্রকাশিত রিপোর্টে ভুক্তভোগীদের বরাতে জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যের গোলপাতা সাবাড় করার সুযোগ দিয়ে লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয় । সূত্র জানায় এর পরই রীতমত অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন এসিএফ জয়নাল আবেদীন । রেগে যেয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আইন অমান্য করে দুই দিন পাশ বন্ধ রাখেন তিনি । এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেরা । নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেরা বলছেন এখন সুন্দরবনে মাছ ধরার মৌসুম, প্রতিটি দিনই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । সন্দেহের বশে পাশ বন্ধ করার এখতিয়ার এসিএফ জয়নাল আবেদীনের নাই। অবশ্যই কিছু জেলে অভিযোগ করছেন, জয়নাল আবেদীন তার এখতিয়ারে না থাকায় ডিএফও বেলায়েত হোসেনের নাম ব্যবহার করে পাশ বন্ধ রেখেছিলেন । ‘ডিএফও স্যার কোন ধরনের পাশ দিতে নিষেধ করেছেন’, জয়নাল আবেদীনকে উল্লেখ করে জেলেরা জানান । পরবর্তীতে জেলেরা ফুসে উঠলে এসিএফ জয়নাল আবেদীন জেলেদের পাশ প্রদান করতে বাধ্য হন । এদিকে ঘুষ কেলেঙ্কারীর নিউজ প্রকাশিত হওয়ার তিন দিন পরই এসিএফ জয়নাল আবেদীন বন অধিদপ্তরের সম্মননা স্মারক পাওয়ায় শরণখোলা জুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে । সুন্দরবনের দেড়শ’ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মননা স্মারক প্রবর্তন করেছে বন অধিদপ্তর। আর প্রথম স্মারকটি একজন অভিযুক্ত পাওয়ায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন শরণখোলার সাধারণ মানুষ । সাউথখালী গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ।
তা না করে একজন অভিযুক্তকে পুরুস্কৃত করা ঠিক হয়নি। শরণখোলার সাংবাদিক বাবুল দাস তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, “শুনেছি বিভিন্ন ডিগ্রী টাকায় সংগ্রহ করা যায় । সম্মননাও কি তাই? না হলে বনের লুটপাটকারী এক বড় চোর সম্মননা পেল কি করে ?” এ বিষয়ে এসিএফ জয়নাল আবেদীনকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি ।
মেহেদী হাসান, শরণখোলা (বাগেরহাট)

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap