শুটকি মৌসুম শেষের পথে, ডিএফসি আদায়ের নামে দুবলার লাখ লাখ টাকা গায়েব !

sarankhola bagerhat news

চলতি বছরে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হওয়া শুটকি মৌসুম এখন শেষের পথে। এ মৌসুমে চর গুলোতে উন্নত পরিবেশ না থাকা সহ নানা অব্যবস্থাপনার কারনে মান সম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
সেখানকার ব্যবসায়ীদের মতে, উন্নত মানের শুঁটকি উৎপাদন করা গেলে সরকারি রাজস্ব পুর্বের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পেত। চলতি শুটকি মৌসুমের সময় সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসার কারনে দুবলায় কর্মরত বনরক্ষীরা অনেকটা সরকারী রাজস্ব আদায়ের কর্মযজ্ঞে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি মৌসুমে শুটকি পল্লীতে কর্মরত জেলেদের দৈনন্দিন রান্নর কাজে সুন্দরবনের নানা ধরনের জ¦ালানী ব্যবহারের অনুমতি দেয় বন-বিভাগ।

উক্ত জ¦ালানীর সরকারী রাজস্ব (ডিএফসি) আদায় করতে গিয়ে দুবলা টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বানিজ্যে মেতে ওঠেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে দুবলা শুটকি পল্লীতে প্রায় ১৬ হাজার জেলের থাকার জন্য ৭১৭টি, মহাজনদের ৩৫টি বসতঘর ও মৎস আহরন কাজে ৮৫০ টি নৌকার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ অনুসারে তৈরীর নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার ভিন্নতা রয়েছে।

পূর্ব বনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেল বাড়িয়ার চর সহ ৬/৭ টি চরে গত চার দশক ধরে চলছে দুবলা শুঁটকি পল্লী।

প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস চালু থাকে শুঁটকি তৈরীর এ মৌসুম। এতে উপকুলীয় এলাকা খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা, বাগেরহাট, মোংলা, রামপাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্ধসঢ়;্বাজার, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী সহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ী দুবলায় শুঁটকি তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, শুটকি পল্লীর কয়েক জন মহাজন ও জেলে বলেন, শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক (এসিএফ) মো.জয়নাল আবেদীনের যোগসাজশে প্রলাদ বাবু সহ দুবলায় কর্মরত কতিপয় অসাধু বনকর্তা সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করে নানা অনিয়ম চালাচ্ছেন। এছাড়া শুটকি পরিমাপ ও নৌকার (বি.এল.সি) লাইসেন্স নবায়ন এবং সুন্দরবনের জ্বালানী ব্যবহারে জন্য (ডিএফসি) সহ নানা ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম করেছেন তারা। এমনকি বনজ সম্পদ ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও অস্থায়ী বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তা ভঙ্গ করেছেন জেলে ও তাদের মহাজনরা। পল্লীতে অবস্থানরত কয়েক হাজার জেলে তাদের দৈনন্দিন কাজে সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করেন। তার জন্য নিয়মানুযায়ী প্রতিজন জেলের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব ৫৭ টাকা হলেও ফাঁড়ি কর্মকর্তা প্রলাদ বাবুকে দিতে হয়েছে ৪০০/৫০০ টাকা। এ সকল ক্ষেত্রে কোন রিসিপ দেন না বন বিভাগ। এভাবে দুবলা শুটকি পল্লী থেকে চলতি বছরে প্রলাদ বাবু লাখ লাখ টাকা গায়েব করেছেন। তবে, এ টাকা একা হজম করতে পারবেন না তিনি। ওই টাকার ভাগ পৌছাবে বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের পকেটে। এছাড়া আমরা (জেলেরা)বনরক্ষীদের কাছে নিয়মের কথা বললে তারা নানা অজুহাতে আমাদের পাশ পারমিট (অনুমতি) বন্ধ করে দেন। এ ব্যপারে, দুবলা টহলফাড়ীর কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায়, কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে চলতি বছরে ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। জানতে চাইলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের মুঠোফোনে বার-বার কল করা হলেও তিনি তা রিসিপ করেননি।

মেহেদী হাসান,শরনখোলা ,বাগেরহাট

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap