শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন, দম্পতি গ্রেফতার

Mrinal Saykat

টঙ্গীতে এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে দেলোয়ার ও জেসিমিন দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত দম্পতি টঙ্গী মিল গেট এলাকায় আবু শাকেরের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দেলোয়ার ভাড়াবাড়িতে বসবাস করে মিলগেট এলাকায় ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করেতেন বলে জানা যায়।নির্যাতিতা শিশু ফারজানা আক্তার মিম (৯) এর বাবা মো. আনিসুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, আমার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে এবং পরিবারে দারিদ্রতার কারণে প্রায় দেড় বছর আগে আমার দু:সম্পর্কের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে দেলোয়ার ও জেসিমিন দম্পতির বাসায় আমার মেয়ের ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার প্রুতিশ্রুতিতে পাঠানো হয়। কিন্তু আমার মেয়েকে লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঐ দম্পত্তি তার বাসায় কষ্টসাধ্য সকল কাজ করাইতো। কাজ কর্ম করতে সমস্যা হলে ওর উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। আমি ফোনে আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করলে তারা বিভিন্ন অযুহাতে কথা বলতে দিত না। এক পর্যায়ে ইয়াসমিন বেগম ও তার মেয়ে মিলে ফারজানাকে মারপিট করে দাঁত ভেঙ্গে দেয় এবং চোখে আঙ্গুল দিয়ে খোঁচা দেয়।ওই নির্যাতনে মেয়েটির শারিরীক অবস্থা খারাপ হলে তারা ঢাকা থেকে একটি মাইক্রো ভাড়া করে আমার গ্রামের বাড়ির এলাকায় কাউকে কিছু না বলে রেখে চলে যায়। আমি মেয়েটিকে পাওয়ার পর এলাকায় গণ্যমান্য লোকজনের সাথে আলোচনা করে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। আমি আমার মেয়ের উপর বর্বর নির্যাতনের বিচার চাই।
এঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই উত্তম কুমার সুত্রধর জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে ভিকটিমকে সাথে নিয়ে টঙ্গী মিলগেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঐ দম্পতিকে আটক করি। নির্যাতিত শিশু ফারজানা আক্তার মিম নোয়াখালি জেলার সোনাইমড়ি থানার বজরা গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ আলম জানান, নির্যাতিত শিশুকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। নির্যাতিত শিশুটির শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী