শায়েস্তাগঞ্জ সুতাং ব্রীজের রড গোপনে বিক্রিকালে আটক করেছে পুলিশ! - Metronews24 শায়েস্তাগঞ্জ সুতাং ব্রীজের রড গোপনে বিক্রিকালে আটক করেছে পুলিশ! - Metronews24

শায়েস্তাগঞ্জ সুতাং ব্রীজের রড গোপনে বিক্রিকালে আটক করেছে পুলিশ!

Muzammel Hydar, Shayestaganj

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাধীন নুরপুর ইউনিয়নের সুতাং বাজারে অবস্থিত সুতাং ব্রিজটি বিগত প্রায় দশ বছর ধরেই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছ। গত বছর সুতাং নদীর ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য পৌনে পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডারে হয় এবং নির্মাণ কাজ শুরু হলে করোনা প্রদুর্ভাবে থমকে যায়।

এরই মধ্যে এই বছরের শুরুতেই পুরাতন ব্রীজ ভাংগার কাজ শুরু হয়। প্রথমে ধীরগতিতে ব্রীজ ভাংগানো হলে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর নির্মাণ কাজ গতি পায়৷ ঠিকাদার প্রথমে শ্রমিক দিয়ে হাতুড়ি সাবলের সাহায্যে ব্রীজ ভাংগার কাজ শুরু করেন।

মাস দেড়েক এভাবে কাজ করার পর ঢাকা থেকে বুল ডোজার এনে ব্রীজ পুরোপুরি ভাংগার কাজ শেষ করা হয়। এর মধ্যে এলাকার সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য ডাইভারশন ব্রিজ তৈরী করা হয়েছে।

মোটামুটি ভাল গতিতে কাজ চলতে থাকা অবস্থায় এবার ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পুরাতন সুতাং সেতুর রড গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর প্রায় ৭ টন রড গোপনে বিক্রির করার সময় আটক করেছে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।

এদিকে বিষয় নিয়ে ব্রীজ নির্মাণকারী ঠিকাদার জানান, তিনি ঢাকা থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বুল ডোজার এনেছেন যে, যারা ব্রীজ ভেংগে দিবে তারাই অবশিষ্ট ইট, পাথর ও রড নিয়ে যাবে।

এছাড়াও তাদের সাথে অবিশিষ্ট চুক্তির টাকা তো আছেই। কিন্তু হবিগঞ্জ এলজিইডি অফিস থেকে পুরাতন রডের দুই লক্ষ বিরানব্বই হাজার টাকার একটি ইস্টিমেট দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ঠিকাদার গোলাম ফারুক উচ্ছিষ্ট মালামাল নিলামে না তুলে গোপনে বিক্রি করে ফেলছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

সরকারি মালামাল কিভাবে ঠিকাদার বিক্রি করে দিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। এ বিষয়ে প্রকল্পের (এসও) উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার কিভাবে ব্রীজের মালামাল নিলামে না তুলে নিজেই বিক্রি করেছেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়।

আমরা ব্রীজের রডের একটি ইস্টিমেট ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ব্যাপারে অনিয়ম হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় অধিদপ্তর (এলজিইডি)শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী মো. ফারুকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে উনার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব বলেন, স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুতাং পুরাতন ব্রীজের রড বোঝাই ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে আসি। প্রকল্পের ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে কাগজপত্র নিয়ে আসতে।

মোজাম্মেল হায়দার, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

Share