শায়েস্তাগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকট ,দুর্ভোগে এলাকাবাসি !

Muzammel Chowdhury, Shayestaganj

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসি। ফাল্গুন মাসের শুরুতেই হয়েছে এ সংকট দেখা দিয়েছে। তীব্র কাটফাঁটা রৌদ্রের মাস চৈত্র সমাগত প্রায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসূমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অপেক্ষাকৃত নিম্নগামী হওয়ার কারণে প্রতি বছরই এ সংকটে পড়তে হয় এলাকার লোকজনের। মূলত এ সংকটের সূত্রপাত হয় আজ থেকে প্রায় বছর দশেক পূর্ব হতে।

প্রাকৃতিক ভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশঃ নিম্নগামী হওয়াতে এ সংকট ধীরেধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে উল্লেখিত এলাকায় অগভীর নলকূপে পানির প্রবাহ হ্রাস পেতে থাকে।

ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে উক্ত অগভীর নলকূপগুলোর পানির প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উক্ত এলাকার বাসিন্দারা সু-পেয় পানির অভাব অনুভব করতে থাকেন। এলাকাব্যাপী দেখা দেয় পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং, সুরাবই এলাকা ও চা বাগান অঞ্চলে উঁচু টিলার উপরে বেশ কিছু মানুষের বাড়ি ঘর রয়েছে। ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারি মানুষের সু-পেয় পানির সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
আরও জানা যায়, এ সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নগামী হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সাহায্যে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ধান চাষসহ অন্যান্য ফসলী জমিতে সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা।

শীত মৌসূমে রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসল চাষে প্রচুর পরিমানে পানি সেচের প্রয়োজন হয়। তাই নদী নালা, খাল, বিল, পুকুরসহ অন্যান্য সকল জলাধারই পানিশুণ্য হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
এইরূপ পানির সংকট থেকে রক্ষা পেতে এলাকার অনেকেই গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এতে নিজেদের সু-পেয় পানির চাহিদা পুরণ করার পাশাপাশি আশপাশের লোকজনেরও পানির সংকট নিরশনে সহায়তা করেছেন। জানা যায়, ৫/৬ বছর পূর্বে স্থাপিত গভীর নলকূপগুলো এলাকার বিশুদ্ধ পানির অভাব পূরণ করলেও সম্প্রতি গভীর নলকূপগুলোর পানির প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। এটি অতিশয় উদ্বেগের কারন।
এলাকার এ পানি সংকট বিষয়ে পৌরসভার মহলুলসুনামের বাসিন্দা তাফহিম চৌধুরী জানান, উনার বাড়ির অগভীর নলকূপটির পনি প্রবাহ ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

পানি সংকটে ভোক্তভোগী দাউদনগর গ্রামের জুনায়েদ চৌধুরী জানান, উনার বাড়িতে ২৮০ ফুট গভীরতা সম্পন্ন টিউবওয়েলটির পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মোটর সংযোগের মাধ্যমে আপাতত পানির অভাব পূরণ করতে পেরেছেন।

তিনি আরও বলেন মার্চ এপ্রিলের মধ্যে যদি বৃষ্টিপাত নাহয় তা হলে উনার সমস্থ প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। বিরামচর গ্রামের আহমেদ কবির জানান, উনার অগভীর নলকূপটির পনি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তিনি পাশের বাড়ির গভীর নলকূপ থেকে পাইপ লাগিয়ে পানি এনে উনার পানি সংকট থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পেয়েছেন।

বাগুনিপাড়া গ্রামের আলেয়া বেগম বলেন, উনাদের বাড়ির টিউবওয়েলে এখন আর পানি দেয়না, তাই অন্য বাড়ি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের রোকেয়া বেগম বলেন, শুস্ক মৌসুম হওয়ায় আমাদের টিওবওয়েলে বেশ কিছুদিন ধরে পানি দিচ্ছেনা, ফলে অন্য বাড়ি থেকে খাবার পানি এনে খেতে হয়।

একই ইউনিয়নের জহুরা বেগম জানান, আমাদের টিওবওয়েল এ পানি আসছে না, গতবছর ও টিওবওয়েলটি মেরামত করিয়েছিলাম, কিন্তু এবছর ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর নিম্নগামীতার সাথে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে পুকুরের পানিও। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পরিবেশে বিরূপ প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব এলাকায় রাষ্ট্রের উদ্যোগে পর্যাপ্ত সংখ্যক গভীরনলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার এই পানি সংকট দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন অত্র এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল কবির ভুইয়া বলেন, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা এই মৌসুমে হয়েই থাকে, আমি সরেজমিনে বিষয়টি দেখে এসেছি। সেচ কাজে ও বিভিন্ন সময় পাম্প দিয়ে অতিরিক্ত পানি তুলার কারণে ওয়াটার লেভেল নিচে চলে আসে, সেজন্যই এমনটি হয়ে থাকে।

আমরা পানির সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নিয়ে কাজ করছি, পল্লী পানির ব্যবস্থা করছি এছাড়া ও নলকূপ করে দিচ্ছি। তারা নলকূপের মাধ্যমে ওয়াটার লেভেল ৪০ ফুট নিচে চলে গেলেও পানি আসে৷ আমাদের হাতে আরো কয়েকটি প্রজেক্ট রয়েছে, সেগুলো করতে পারলে আশা করছি পানির সমস্যা দূরীকরণ সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বলেন এসময় সব এলাকাতেই পানির স্তর নিচে নেমে যায়। যার ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। উপজেলা থেকে ইতিমধ্যে ৭৮ টি অগভীর নলকৃপ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

মোজাম্মেল হায়দার চৌধুরী/ শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি