শায়েস্তাগঞ্জে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল

Shayestaganj

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে গাছের পাতা ঝড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের ফুল ফোঁটে গাছে গাছে। এসময়ে আম কাঁঠাল গাছগুলোতে ফুল ও মুকুল আসে প্রকৃতির নিয়মে।

গাছে গাছে আমের মুকুল জানিয়ে দিচ্ছে অপেক্ষা শুধু জ্যৈষ্ঠ মাসের। “ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ”। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের কালজয়ী কবিতার ছন্দের বাস্তব রূপ পেতে আর মাত্র তিন’মাস বাকি।

এরই মাঝে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র গাছে গাছে ফুটেছে সোনালী আমের মুকুল। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা মৌ মৌ গন্ধ। যে সুবাস মানুষের মনকে প্রফুল্ল ও বিমোহিত করে। গাছ ভরা সোনালী আমের মুকুল চোখ জুড়ানো সোভা বর্ধনের পাশাপাশি সংবাদ দিচ্ছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ সমাগত প্রায়।
এসময়ে আমের মুকুলে মৌমাছিদের আনাগুনা বৃদ্ধি পায়, তাদের গুনগুন সুর তোলা শব্দ প্রকৃতিতে যেন আবহসংগীত রচনা করে। মৌমাছিরা চিরাচরিত নিয়ম মেনে তাদের মধু আহরণে ব্যস্ত থাকে।

নিজেদের মধু আহরণের পাশাপাশি আমের মুকুলে পরাগায়নের কাজটিও তারা করে থাকে। মৌমাছিদের মাধ্যমে আমের মুকুলগুলি পরাগায়িত নাহলে কোন মুকুলই আর ফলবান হবেনা।
জানা যায়, পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আমের অস্তিত্ব বিদ্যমান। জাতভেদে আমের বাহারী নাম রয়েছে যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, গোপালভোগ, কাঁচামিঠা, খিরসা, অরুনা, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, গোপাল খাস, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাডড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী ইত্যাদি। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বাধিক পরিমাণে বানিজ্যিকভাবে আম চাষ হয়ে থাকে।
বছর কয়েক পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক গবেষক উদ্ভাবন করেছেন ডায়াবেটিক বা বাউ আম-৩ নামের আম। এই আমে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বিধায় তা ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এই আমের আঞ্চলিক নাম হচ্ছে আম্রপালি। আমের এই জাতটি সুগদ্ধযুক্ত, সুস্বাদু, সুমিষ্ট, রসালো ও আঁশহীন। আর কিছু দিন পরই বাজারে আসবে উপরোক্ত মৌসূমী আমগুলো। আমাদের দেশে জাতীয় ফল কাঁঠাল হলেও আমের কদর সর্ব মহলেই সবচেয়ে বেশী।
আম কাঁঠালের মৌসূমে আমাদের আম না হলে চলেনা। আমের মুকুল থেকে শুরু হয় এর ব্যবহার। ঝড়বৃষ্টির দিনে গাছ থেকে ঝগে পড়া আমের মুকুল দিয়ে রান্না করা টকজাতীয় খাবার, একটি অতি সুস্বাদু খাবার। কচি আমের চাটনী ও আচারের কথা বলাই বাহুল্য। মৌসূমে তৈরীকৃত আমের আচার সারা বছরই খাওয়া যায়।
সু-স্বাদু পাকা আম বাজারে আসার পর আম ছাড়া আর এক দিনও চলে না। নিজ গাছের আম হোক কিংবা বাজার থেকে ক্রয় করা আমই হোক, আম খাওয়া চাই। এ সময় আত্মীয়তার সেতু বন্ধনে কিংবা রুগী দর্শনেই হোক আমের কদর সবার উপরে। অতিথি আপ্যায়নেও আম অপরিহার্য্য বস্তু। জামাই শশুর বাড়িতে যেতেও আমের প্রয়োজনীয়তা সবার আগে।

আরও পড়ুনঃ সীম চাষ করে স্বাবলম্বী উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক সোহাগ মিয়া!

আমের পুষ্টিগুন অপরিসীম, স্বাদে পুষ্টিতে ও সুবাসে আম অতুলনীয়। যে কারণে আমকে বলা হয় ফলের রাজা। আমে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ বা ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘সি’ খনিজ পদার্থ ও ক্যালোরি রয়েছে।

ভিটামিন ‘এ’ এর দিক থেকে আমের স্থান পৃথিবীর প্রায় সব ফলেরই উপরে। তাই বলতে হয়, মধুমাসে আমের রসে, থাকেনা মন ঘরে বসে। জাম কাঁঠাল স্বাদের ফল, নাম শুনলেই জিভে জল।

মোজাম্মেল হায়দার চৌধুরী/শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি