শায়েস্তাগঞ্জের বিদেশ ফেরত সফল খামারী নয়ন মিয়া!

Muzammel Hydar, Shayestaganj

বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের তান্ডবে নাজেহাল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞানী পর্যন্ত। বাংলাদেশেও এই কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধ করতে লকডাউন আরোপের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে।

এর প্রভাবে দেশে বিদেশে লক্ষ লক্ষ চাকুরিজীবী বেকার হয়েছেন। দেড় বছর আগে দেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল যার ভয়াবহতা এখনও চলমান। করোনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে দেশে যে হারে বেড়েছে দারিদ্রতা একই হারে কর্ম হারিয়ে বেকারত্বের কষাঘাতে জর্জরিত লক্ষ লক্ষ চাকুরিজীবী। আবার অনেকেই সযত্নেৃ লালিত নিজেদের পেশা পরিবর্তন করেছেন বাধ্য হয়ে। বিশেষ করে প্রবাস থেকে কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেমনি একজন বিদেশ ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধা যুবক মো. নয়ন মিয়া। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের সুরাবই গ্রামের মৃত আজাদুল ইসলামের ছেলে। নয়ন মিয়া ৪ ভাই দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়। মোঃ নয়ন মিয়া ২০১৪ সালের দিকে জীবনের চাকা ঘোরাতে জীবন জিবীকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পাড়ি জমান। সেখানে একটানা ৬ বছর কাজ করে বিগত ২০২০ সালের মার্চ মাসে তিন মাসের ছুটিতে তিনি দেশে এসেছিলেন। এর মাঝে বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়ে যায় দেশে। এ দুর্বিপাকে পড়ে নয়ন মিয়ার তিন মাসের ছুটি এবং ভিসা ও টিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফ্লাইট জটিলতায় তিনি আর ফিরতে পারেন নি কর্মস্থলে। শুরু হয় তার জীবনের এক অজানা অধ্যায়ের। এতে হতাশায় হয়ে পড়েন নয়ন মিয়া। বিদেশ যেতে না পারায় কোম্পানির কাছে তার পাওনা টাকাও গচ্ছা গেছে। তিনি কি করবেন এখন এই দুর্ভাবনায় চলে গেছে অনেক সময়। অদম্য আকাঙ্ধসঢ়;ক্ষা ও সৃজনশীল ইচ্ছা থাকলে সফল হওয়া যায় তা-ই করে দেখালেন নয়ন মিয়া। অবশেষে অনেক চিন্তা-ভাবনার পর নিজের ৪ শতক জায়গার উপর গড়ে তুলেন একটি স্বপ্নের পোল্ট্রি খামার। এই খামার গড়তে তাকে ধার-দেনার আশ্রয় নিতে হযয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ধার-দেনা করে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে এই খামার থেকে উৎপাদিত মুরগী বিক্রি করে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয় নয়ন মিয়ার। এর উপর ভর করে কোনরকমে চলে যাচ্ছে তার সংসার। সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, সফল খামারী নয়ন মিয়ার খামারে বর্তমানে নয়দিন বয়সের সহস্রাধিক মুরগির বাচ্চা রয়েছে। এবিষয়ে নয়ন মিয়া জানান, তিনি ৪৭ টাকা দরে একদিনের মুরগির বাচ্চা কিনে রেখেছেন। এই বাচ্চাগুলোর বয়স ৩৪ দিন হলে ওজন হবে প্রতিটি ২কেজি করে। তখন ১১৫ টাকা কেজি হিসেবে পাইকারি বিক্রি করবেন। ১১শ মুরগির বাচ্চা বড় করে বিক্রির উপযোগী করতে ৭০ বস্তা ব্রয়লার ফিড খাওয়াতে হবে, যার প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম ২৩শ টাকা। নয়ন মিয়া আরো জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই চালানে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় হবে। তবে নয়ন মিয়ার ইচ্ছা সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে তার খামার আরো সম্প্রসারণ করবেন। নয়ন মিয়া বলেন, ‘বেকার হলে তো কেউ এক টাকা দিবে না। নিজে পরিশ্রম করি, সারাদিন নিজেই খামার দেখাশোনা করি। খামার আরো বড় করতে পারলে লাভবান হবো।’ এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, প্রবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে উনি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা উনাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। যেহেতু উনি খামার দিয়েছেন, উনি যদি উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে উনার খামারের নিবন্ধন করেন, তাহলে ব্যাংক থেকে সহজেই ঋণ পাবেন।

মোজাম্মেল হায়দার, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)