শায়েস্তাগঞ্জসহ সারাদেশে চালু হয়েছে ট্রেন ও বাস-যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে!

Muzammel Hydar, Shayestaganj

শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর সারাদেশে একযোগে আজ সোমবার থেকে চালু হয়েছে দুরপাল্লার গণপরিবহন। রেলস্টেশন কেন্দ্রিক পেশাজিবীরা আবারো ফিরে এসেছেন নিজ নিজ কাজে।

দেশে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ধারণ করায় টানা লকডাউনে গত ৫ এপ্রিল থেকে একটানা ২৩ মে পর্যন্ত ট্রেন ও বাস বন্ধ ছিল । প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আজ ২৪ মে থেকে যথারীতি ট্রেন ও বাস চালু হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যথারীতি যাত্রীগণ এই সেবা গ্রহণ করছেন। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীগণও বাস শ্রমিকদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে। সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে আজ সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনে পৌঁছায়। জয়ন্তিকা সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে যে পরিমাণ টিকেট বরাদ্দ আছে তা খুবই অপ্রতুল। টিকেট কাউন্টার থেকে প্রপ্ত তথ্যে জানা যায়, পারাবতের জন্য ৪০ টি, উদয়নের জন্য ৪৫ টি, পাহাড়িকার জন্য ৪৫টি, জয়ন্তিকার জন্য ৪৫ টি সিট বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪৫ টি সিটের বিপরীতে ২৩ টি সিট অনলাইনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার এস এম সাইফুল ইসলাম জানান, সারাদেশে ১০৮টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবল মাত্র ২৮ টি ট্রেন আজ থেকে চালু হয়েছে। সিলেট রুটে মোট ৬টি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করবে। পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন ঢাকা-সিলেট ও পাহাড়িকা ও উদয়ন ট্রেনগুলো ঢাকা-চট্টগ্রামের পথে চলাচল করবে। এছাড়া ও সমগ্র দেশে আটটি পণ্যবাহী ও তৈলবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এর মাঝে সিলেটে দুইটি পণ্যবাহী ও তৈল বাহি ট্রেন নিয়মিত যাতায়াত করছে। স্টেশনমাস্টার আরও জানান, প্রতিটি টিকেট অনলাইনে ক্রয় করতে হয় এবং যাত্রীগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্টেশনে অবস্থান করেন। কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকায়, সেখান থেকে কোন টিকেট বিক্রি হয়না এবং দুরত্ব বজায় রেখে যাত্রীগণ স্টেশনে অবস্থান করছেন।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল শুরু হলেও তুলনামুলকভাবে গাড়ির সংখ্যা কম। তীব্র গরম থাকায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীর সংখ্যাও কম রয়েছে। তবে, সীমিত যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল শুরু হওয়ার কারণে বাস চালক ও শ্রমিকদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা গেছে।

হবিগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায় বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত শুরু করে করেছে । নিয়মানুযায়ী এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রীদের বসতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ৬০% ভাড়া যাত্রীদেরকে বেশি গুনতে হচ্ছে। এটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হওয়ার কারণে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা সরকারী বিধি নিষেধ মেনে গাড়ি চালানোর জন্য চালকদেরকে অবহিত করেছি ।
মোজাম্মেল হায়দার, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি