শরনখোলায় খাস সম্পত্তি দখলে হিড়িক,উদ্ধারে  উদ্যোগ নেই প্রসাশনের !

শরনখোলা (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের শরনখোলায় সরকারী সম্পত্বি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের প্রতিযোগীতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের কয়েক জন ব্যাবসায়ী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানা কৌশলে দিন দিন সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্বি দখল করে তাতে অত্যাধুনিক বহুতল ভবন নির্মান করে চললেও তাদের বিরুদ্ধে রহস্য জনক কারনে আদৌ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের কর্তাব্যক্তিরা।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ১৯৯০ দশকে ৯নং রায়েন্দা মৌজার ১নং-খাস খতিয়ানের-৫৯৯নং- দাগের ১৫শতক সম্পত্বি বন্ধোবস্ত নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের তৎকালীন হোটেল ব্যবসায়ী আ. মালেক।
তবে, কয়েক বছর পর তিনি উক্ত সম্পত্বি বাজারের বাসিন্দা মো. এনায়েত হোসেন তালুুকদার, মো. সাফায়েত হোসেন তালুকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান হাওলাদার সহ একাধিক ব্যক্তির কাছে উক্ত সম্পত্বির দখল বিক্রি করেন।

এছাড়া ৫৯৯নং দাগের বাকী পাঁচ শতক জমির জাল কাগজ পত্র তৈরী করে তা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাঞ্চারাম সাহা, শান্তি রঞ্জন দাস ও অখিলেশ্বর ভৌমিকের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি উক্ত সরকারী জমির সীমা নির্ধারন সহ জবর দখল হওয়া মালিকানাধীন জমি উদ্ধারের জন্য রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দিন সেপাই শরনখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করেন।

কিন্তু দখলদার চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় ওই সম্পত্তি উদ্ধারে এক প্রকার অনীহা প্রকাশ করেন (ইউএনও) সর্দার মোস্তফা শাহিন।পরে কোন উপায় না পেয়ে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী বাগেরহাট আদালতে দেওয়ানী ১৪/২০২১ নং একটি মামলা দ্ধায়ের করেন ব্যবসায়ী জসীম সেপাই।

উক্ত মামলায় ব্যবসায়ী বাঞ্চারাম সাহা, অখিলেশ্বর ভৌমিক,চঞ্চল ভৌমিক, তাপস ভৌমিক, মলয় ভৌমিক, শরনখোলা সরকারী কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র দাস বাবুল (দাস), তার ছোট ভাই প্যথালজি ব্যবসায়ী অসীম কুমার দাস, রায়েন্দা মড়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদীপ ভৌমিক ও জেলা প্রসাশককে বিবাদী করলে তাদেরকে আদালত হতে নোটিশ প্রদান করা হয়। জসীম উদ্দিন সেপাই বলেন, আমার মোট সম্পত্তির মধ্যে থেকে পৌনে দুই শতক সম্পত্তি প্রতিপক্ষরা জবর দখল করেছেন ।

বিষয়টির কোন ফসালা না করে আমার জমি সহ খাস জমি দখল কওে সেখানে বহুতল ভবন নির্মানের কাজ শুরু করেন ব্যবসায়ী শান্তি রঞ্জন দাসের ছেলে কলেজ শিক্ষক বাবুল দাস ও তার ভাই ব্যবসায়ী অসীম কুমার দাস । আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। কিন্তু তিনি সব শুনে বিষয়টির কোন গুরুত্ত দেন না ।

তাই কোন উপায় না পেয়ে আমি বাধ্য হয়ে আমার সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য বাবুল দাস সহ ৮জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দ্ধায়ের করি। পরবর্তীতে এ সক্রান্ত নোটিশ পেয়ে প্রতিপক্ষরা আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন।

যার ফলে আমি ও আমার পরিবার অনেকটা নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে আছি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন , ভুমিহীনদের মাঝে
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ঘর স্থাপনের জন্য জমি পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ প্রভাশালী নামের ভুমিদস্যুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে বড় বড় টাওয়ার তৈরী করছেন । তাছাড়া ৫৯৯নং দাগের ওই ২০শতক জমির বর্তমান বাজার মুল্যে প্রায় দুই কোটি টাকা ।

তবে, বেহাত হওয়া সকল সরকারী জমি উদ্ধারে প্রসাশনের আন্তরিক হওয়া একান্ত প্রয়োজন । তা নাহলে উন্নয়মুখী সরকারের স্বপ্ন বাঁধা গ্রস্ত হওয়ার শংঙ্কা রয়েছে। এবিষয়ে ব্যবসায়ী অখিলেশ্বর ভৌমিক বলেন, আমাদেরকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মো. জসীম সেপাই এই মিথ্যা মামলাটি করেছেন।

আমরা তার কোন জমি দখল করি নাই । তাছাড়া খাস খতিয়ানের সম্পত্তি আমরা নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নিকট থেকে বন্ধোবস্ত নিয়েছি । তার সকল বৈধ কাগজ পত্র আছে ।

তবে, জসীমকে হুমকি থামকি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় । অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে প্রসাশনের অনীহা কথাটি সঠিক নয়। তাছাড়া দখলকারী চক্র যতই প্রভাবশালী হোক না কেন? তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন সহ উক্ত সম্পত্তি উদ্ধারে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মেহেদী হাসান, শরনখোলা (বাগেরহাট)