শরণখোলাস্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে রাত্রী কালীন ডিউটিতে ডাক্তার পাওয়া যায়না,চিকিৎসা বঞ্চিত ৯ মাসের শিশু !

sarankhola

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে রাত্রীকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের চিকিৎসা বঞ্চিত হয়েছে ৯ মাসের একটি শিশু। উপজেলার গোলবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এর ছেলের ব্যাপারে এমনটি ঘটলো।

তিনি জানান, গতকাল গভীর রাতে তার ৯ মাস বয়সী শিশু পূত্র রেদওয়ানুল ইসলাম মানার এর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট সহ খিঁচুনি শুরহয়। ওই সময়েই মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে নিয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এসময় হাসপাতালের জররী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-স্বাস্থ্য সহকারী বিপ্লব কুমারকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন এবং শিশুটির সমস্যার কথা জানিয়ে রাত্রিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফুল ইসলাম রাকিবকে ডেকে আনার জন্য অনুরোধ করেন।

বিপ্লব ডাক্তারকে না ডেকে এবং শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি না করে কয়েকটি ঔষধ লিখে দিয়ে বলেন ডাক্তারের প্রয়োজন নেই এবার আপনারা বাসায় চলে যান। পরে আমি হাসপাতালের কর্পোরেট নম্বর সহ ডাক্তার রাকিবের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে প্রায় ১৫/২০ বার ফোন করি কিন্তু‘ তিনি তা রিসিভ না করায় আমি হতাশ হয়ে পড়ি।

পরবর্তীতে রেদওয়ানকে নিয়ে বাসায় চলে যাই এবং ভোর ৫টার দিকে পুনঃরায় ছেলেটির শ্বসকষ্ট ও খিঁচুনির তীব্রতা বাড়তে থাকে। পরে দ্বিতীয় দফায় ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-স্বাস্থ্য সহকারী বিপ্লব কুমার বলেন, রাতে তো হাসপাতালে কত রোগী আসে।

এরকম কোন রোগী আসছিল কিনা তা আমার মনে পড়ছেনা। জানতে চাইলে ওই আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফুল ইসলাম রাকিব জানান, আমার কাছে কোন ফোন আসেনি।

আরও পড়ুনঃ শায়েস্তাগঞ্জে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল

আর জরুরী বিভাগে কর্মরত উপ-স্বাস্থ্য সহকারী বিপ্লব কুমারও বিষয়টি আমাকে অবগত করেননি।শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ফরিদা ইয়াছমিন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, খোঁজ খবর নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোন গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেহেদী হাসান/শরণখোলা, বাগেরহাট (প্রতিনিধি)