লামায় সাফ কবলা না দিয়ে বিক্রিত ভূমি জবর দখলের পায়তারা

Bandarban News

লামা পৌরসভায় বিক্রি হস্তান্তরিত জমির সাফ কবলা না দিয়ে প্রতারণা। জমি জবর দখলের চেষ্টায় শক্তি প্রদর্শন। পুলিশের হস্তক্ষেপে অল্পের জন্য সহিংস হামলা থেকে রক্ষা পায় কয়েকটি পরিবার।

২০ মে (শুক্রুবার) দুপুর সাড়ে ১২ টায় পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরি ফরেষ্ট অফিস সংলগ্নে পশ্চিম পাশের গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামের কয়েকজন নারী-পুরুষ জানান, প্রায় এক কি:মি: দূরের বড় নুনারবিল পাড়ার বাসিন্দা আবুল কাসেম বুড়ার নেতৃত্বে তার ৬ ছেলেসহ ভাড়াটিয়া আরো কয়েকজন যুবক মিলে দা, রট, লাঠি সোটা নিয়ে হামলা ও জবর দখলের চেষ্টা করে।জানাযায়, সবাই যখন জুম্মার নামাজের প্রস্তুতী নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আবুল কাসেম তার ছেলেরাসহ আট- দশ জনের একদল লাঠিয়াল গ্রামে প্রবেশ করে। তারা রশিদা বেগম ও তার ছেলেদের বাড়িঘরের উপর হামলা করার জন্য উদ্যত হয়। একই সময় জোর করে রশিদা বেগমের ভূমিতে জোরপূর্বক ঘর করার চেষ্টা চালাই। তাৎক্ষনিক লামা থানার এক পুলিশ উপপরিদর্শক ঘটনাস্থলে হাজির হলে হামলাকারীরা যারযার মতন সটকে পড়ে। জানাগেছে, আবুল কালাম ও আবুল কাসেম দু’জন আপন ভাই। তারা দুই ভাই একই ওয়ার্ডে প্রাই ১ কি:মি: দুরত্বে দুই গ্রামের বসবাস করছেন। আবুল কাসেম এর নামীয় ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজায় আর/ ২৭৭ নং হোল্ডিং এ ৫ একর পাহাড়ি ভূমি আছে। সে ভূমির আন্দর তার ছোট ভাই আবুল কালামের স্ত্রী রশিদা বেগমের নিটক দু’একর নব্বই শতক জমি বিক্রি-হস্তান্তর করেন। একই দলিলে শাহনুর বেগম নামের আরেক জনকেও এক একর চল্লিশ শতক জমি বিক্রি করে। যার বায়নানামা রেজিঃ দলিল নং ১২২/২০০৭। ক্রয়কৃত ভূমিতে রশিদা বেগম তার স্বামী সন্তানরা ঘরবাড়ি গাছগাছালী সৃজন করে বহু বছর বসবাস করছে। শাহনুর বেগমও বসতি করছে। কিন্তু দীর্ঘ বছর অতীত হয়ে গেলেও আবুল কাসেম রশিদা বেগম ও শাহনুর বেগমকে জমির সাফ কবলা রেজিষ্ট্রি না দিয়ে নানান টালবাহানা করছে। এদিকে রশিদা বেগম অর্থ সংকটে ক্রয়কৃত সম্পত্তির অংশ থেকে অপরাপর কয়েক জনের নিকট কিছু জমি বিক্রি হস্তান্তর করেন। নিজের নামে সাফ কবলা করাতে না পারায় রশিদা বেগম অন্য ক্রেতাদেরকেও রেজিঃ বায়না দলিল ও সাফ কবল দিতে পারছেন না। এসব বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বহু দেনদরবার হয়েছে। এ ব্যাপারে ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন জানান, “বিক্রেতা আবুল কাসেম ও তার সন্তানেরা আইন কানুন ও সামাজিকতা অগ্রাহ্য করে আসছে। জমি রেজিষ্ট্রির প্রতারনার শিকার রশিদা বেগম লামা বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিবাদী আবুল কাসেম গং সামাজিকভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুরাহা করার জন্য আদালতের নিকট সময় চেয়ে নেয়। গ্রাম্য সমাজের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন। কিন্তু প্রতিটি বৈঠকে আবুল কাসেম ও তার ছেলেরা অসামাজিক আচরণ করে। সর্ব শেষ ১৮ মে সন্ধায় সামাজিক বৈঠকে তাদেরকে বুঝার জন্য আরো এক সাপ্তাহ সময় দেয়া হয়। এদিকে ২০ মে দুপুরে তারা এক দল ভাড়াটিয়া নিয়ে রশিদা বেগমের ক্রয়কৃত দখলীয় ভূমিতে জোরপূর্বক অনাধিকার প্রবেশ করে আইন শৃ্ঙ্খলার অবনতি ঘটানোর জন্য হাঙ্গামার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ উপস্থিত হওয়ায়, সহিংসতা হয়নি”।সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ভূমি আইনের ২০ নং প্রস্তাব লঙ্গণ করেছ আবুল কাসেম গং। সেখানে বলা আছে “অবৈধ দখল গ্রহণ ও বজায় রাখতে পেশিশক্তি:
অস্ত্র প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি ইত্যাদি দেয়া হলে সেটি জামিন অযোগ্য অপরাধ হবে।সেজন্য ছয় মাস থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড, এক লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। প্রস্তাবনার ২৪ নং ক্রমিকে উল্লেখ আছে “অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনা:এই আইনের বর্ণনা করা যেকোনো অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করলে সেই ব্যক্তিরও অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তির মতো সাজা হবে। সুতরাং যারা আবুল কাসেমের সাথে ১০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে রশিদা বেগমের ক্রয়কৃত দখলীয় জমিতে লাঠিসোটা নিয়ে হাঙ্গামা করতে গিয়েছিল, তারাও উল্লেখিত আইনের লঙ্ঘন করেছে।
জাহিদ হাসান,লামা(বান্দরাবন) প্রতিনিধি

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap