লঞ্চ থেকে মাঝ নদীতে ঝাঁপ দিল প্রাথমিকের শিক্ষিকা

Sundarbans-10 launch

মায়ের সাতে রাগ করে লঞ্চ থেকে মাঝ নদীতে ঝাঁপ দেয়া এক শিক্ষিকাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (১৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকা সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী থেকে জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকৃত ফাল্গুনী আক্তার (৩৫) ভোলার লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি লালমোহনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

শনিবার রাত ৯টার দিকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন ফাল্গুনী আক্তার। ফাল্গুনী আক্তার তার মা ও খালার সঙ্গে ওই লঞ্চে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. হারুন-অর রশিদ জানান, বরিশাল নদীবন্দর থেকে রাত ৯টার দিকে সুন্দরবন-১০ লঞ্চটি ঢকার উদ্দেশে যাত্রা করে। রাত ১০টার দিকে কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই এলাকা অতিক্রমকালে এক বৃদ্ধা জানান তার মেয়ে নদীতে পড়ে গেছে।

সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চ থামিয়ে সার্চ লাইট মেরে নদীতে সন্ধান চালানো হয়। পাশাপাশি লঞ্চের মাইকে নদী তীরের বাসিন্দা ও নদীতে থাকা জেলেদের বিষয়টি জানানো হয়।

ঘণ্টাখানেক পর বরিশাল কোতয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াজ মুঠোফোনে জানান ওই নারীকে স্থানীয় জেলেরা জীবিত উদ্ধার করেছেন। তিনি সুস্থ আছেন।খবর পাওয়ার পর লঞ্চে থাকা ওই নারীর মা ও খালাকে বিষয়টি জানানো হয়।

কোতয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াজ জানান, রাত ১১টার দিকে চরমোনাই ইউনিয়নের মক্রমপ্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মুঠোফোনে জানান মক্রমপ্রতাপ গ্রামের আলাম চৌকিদারসহ কয়েকজন জেলে কীর্তনখোলা নদীতে নৌকায় করে মাছ ধরছিলেন।

এ সময় এক নারীকে ভাসতে দেখে তারা উদ্ধার করেন। পরে তাকে আলাম চৌকিদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ করোনায় আক্রান্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

তিনি জানান, জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে উদ্ধারের পর ওই নারী কিছুটা সময় অচেতন ছিলেন। জ্ঞান ফিরে এলে জেলেদের কাছে তার নাম বলেন ফাল্গুনী আক্তার।

তিনি জেলেদের জানান লঞ্চে ওঠার পর তার মা তাকে বকাঝকা করেন। এ কারণে লঞ্চ থেকে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।

জেলে আলাম চৌকিদার জানান, ফাল্গুনী আক্তারকে উদ্ধারের পর স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এনে দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তবে তিনি ভয় পেয়েছেন। এ কারণে কারো সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছেন না।

কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, জেলেদের নজরে পড়ায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন ওই নারী। তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap