রেলওয়ে অনুমতি বা সিটি কর্পোরেশনের লিজ ছাড়াই চলছে চাঁদাবাজি

tonginews

টঙ্গী বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রতি রোববার অস্থায়ী ভাবে বসা হাট বাজারসহ রেলওয়ে লাইনের উপর ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে প্রতিনিয়ত কাঁচা তরি-তরকারীর বাজারগুলোতে একটি প্রভাবশঅলী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজী।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭ নং ওয়ার্ডে রোববারের হাট ও ছোট ছোট অস্থায়ী বাজারে রাজনৈতিক পরিচয়ে কতিপয় নামধারী নেতা ও কর্মীরা লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা জানান, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক লিজ না থাকলেও এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমতি বিহীন কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগীতায় রেলওয়ে লাইনের উপর ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে অসহায় দরিদ্র এবং দূর-দুরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন প্রকার বিশেষ করে শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা, তোয়ালে. শিশুদের বিভিন্ন বাহারী শীত ও গরমের পোষাক বিক্রেতাসহ হাঁস, মুরগী, কবুতর ব্যবসায়ীদে কাছ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে টাকা।

টঙ্গী ছাড়াও আশপাশের পুবাইল, মাজুখান,  উত্তরা মাউছাইদ, ইছাপুর, ঘোড়াশাল অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা টঙ্গী বাজার সংলগ্ন বউবাজার, দক্ষিন আরিচপুর, গরু বাজার, হোন্ডা রোডে আসে উপরোক্ত পন্য-সামগ্রীসহ পশু-পাখি ক্রয়-বিক্রয় করতে।

সপ্তাহের একটি দিন রোববারে এইখানে বিভিন্ন প্রকারের মালামাল বিক্রি করতে এসে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হয়রানির শিকার হন অনায়াসে। টঙ্গীর কহর দরিয়া তুরাগ নদের পাড় থেকে রেল লাইনের পাশ দিয়ে রাস্তার উপর গড়ে উঠা বহু বছরের এই পুরাতন হাট বাজারে প্রতি সপ্তাহে শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক শত ব্যবসায়ীরা আসে তাদের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে ব্যবসা করতে।

আসে হাজার হাজার ক্রেতা। এছাড়াও আরিচপুর বউ বাজার রেলওয়ে লাইনের উপর এবং দু-পাশে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা তরি-তরকারী নিয়ে খোলা মেলা দোকান করে অনেকটা ঝুকিপূর্ণ ভাবে। বিকেল হলেই ওই বাজারে শতশত নারী-পুরুষ ও শিশু কিশোররা ক্রেতা হিসেবে বাজার করতে ভীড় জমায়।

রেল-লাইনের উপর লোক সমাগম বেশী হওয়ায় প্রায়ই ঘটে দূর্ঘটনা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সব কিছু জানার পরও রহস্যজনক কারণে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন না কখনো। ওই বাজারের দোকানীরা জানান, প্রতিদিন দোকান প্রতি তাদেরকে ২শ থেকে ১ হাজার করে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের লোকজনকে টাকা দিতে হয়। আর টাকা দেয়া হয় বিধায় কেউ তাদের কিছু করতে পারে না।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, হোন্ডা রোড, বউ বাজার, গরুর হাট বা আরিচপুর রেল লাইনের পাশে দোকান বসালেই, গুনতে হয় ২শ থেকে ১ হাজার করে টাকা জনপ্রতি। ১ ঘন্টা আর ২৪ ঘন্টা বলে কোন ভেদাভেদ নেই।

টাকা দিতে হবে এবং হয়। প্রথমে ২শ, পরে ৩শ, সর্বপরি ৫শ এইভাবে চলে টাকা ওঠানোর উৎসব।

আরিচপুর রেল লাইনের পাশে রাস্তায় শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বসা কাপড় ব্যবসায়ীদেও একজন বলেন, করোনাকালীন অবস্থাতেও কোনো ছাড় দেয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ ঘরের সামনে থেকে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

বিকেলে, রাতে বা সকালে চলে এই টাকা উঠানোর কর্মজজ্ঞ। ভুক্তভোগী এক কাপড় দোকানী জানান, ঝাড়ুদার, হিজড়া, নাইট গার্ড, স্থানীয় বাড়িওয়ালার নামে, সিটি কর্পোরেশনের নামে, সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিচয়দাতা নেতা-কর্মীদের নামে এই টাকা উঠানো হয়ে থাকে।

ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধ জানান, ৩০০০ টাকার বেচাকেনা করলে তাদের দিতে হয় ৫শ থেকে ১হাজার করে টাকা। কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।

সরকারী অনুমতি বিহীন বা সিটি কর্পোরেশনের লিজ ব্যতিত কারা এই ব্যক্তি যারা টাকা তুলে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে ? অন্যদিকে অসহায় ছোট ছোট ব্যবসায়ীদেরকে জিম্মি করে মাসের পর মাস হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা !

ফলে বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ সরকারের বছরে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কতিপয় ব্যক্তিরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে হচ্ছে কোটি টাকার মালিক !!

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী