রমজান উপলক্ষে টঙ্গী ও উত্তরায় ছিনতাইকারীদের উপদ্রব বৃদ্ধি

sintay

কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা করে মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর (ঈদ) কে সামনে রেখে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা এলাকাসহ উওরা এলাকায় শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী, পকেটমার ও অজ্ঞান পাটির সদস্যসহ স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
গত কয়েকদিনে এসব থানা এলাকায় ১৫/২০ গ্রুপ ধাঁরালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সন্ধ্যার পর সুযোগ বুঝে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

দামী প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে তারা রাতভর পুরো এলাকায় সংগবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। ঈদকে উপলক্ষ্য করে টঙ্গীর পূর্ব পশ্চিম, উওরা পূর্ব ও পশ্চিম এবং তুরাগ, দক্ষিণখান, উওরখান এই ৭টি থানা এলাকায় ছিনতাইকারী গ্রুপের সদস্যরা মাঠ চষে বেড়াচেছ।

অপরদিকে মাদক ব্যবসায়ীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে এসব এলাকায়। প্রতিবারের ন্যায় এসব অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃংখলা বাহিনী র‌্যাব, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যদের তৎপরতাবৃদ্ধি জরুরী হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের জসিম উদ্দিন থেকে শুরু করে টঙ্গীর তারগাছ, কামারপাড়া রোড, টঙ্গী কালীগঞ্জ রোডের মাঝুখান পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ এলাকায় এমনকি রাস্তারর মোড়ে মোড়ে টহল ডিউটিসহ একাধিক স্থানে চেকপোষ্ট বসানো, প্রতিটি মার্কেট, শপিংমল, ব্যাংক এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় রোধে অভিযান পরিচালনা পূর্বক নিরাপওা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে টঙ্গীর শিল্পাঞ্চল এলাকায় কমপক্ষে ৪০/৫০ টি স্থানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। সম্প্রতি উপরোল্লেখিত থানা এলাকায় ছিনতাই প্রবণতা কিছুটা কম থাকলেও এসব থানা পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে প্রায় ২ শতাধিক ছিনতাইকারী, দশ্যুতা ও চাঁদাবাজসহ কয়েকশত মাদক ব্যবসায়ীর নাম।

এছাড়াও ছিনতাই, পকেটমার, অজ্ঞান পাটির সদস্য, মাদকদ্রব্য বিক্রয়, অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর নামধারী প্রায় অর্ধশত র্সোসদের নামও রয়েছে অপরাধের তালিকায় এসব থানা এলাকায়।

এসব অপরাধীরা সিনিয়র ও জুনিয়র গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে বেড়ায়। যে কোন ধরনে অপরাধ সংগঠিত করার আগে স্থানীয় র্সোসদের সহযোগীতা নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ঈদ উপলক্ষে আসা চিহ্নিত অপরাধীরা গোপনে দলবদ্ধ ভাবে বৈঠকে মিলিত হয়ে একে অপরের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাইভেটকার ও মোটর সাইকেল নিয়ে তারা শিকার খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে।

আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামধারী স্থানীয় র্সোস এবং জুনিয়র অপরাধী গ্রুপের সদস্যদের পাহাড়ায় রাখে দলের শীর্ষ নেতারা। র‌্যাব বা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়াদাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সর্তক করে দেয় অপরাধীদের। ফলে অপরাধীরা অতি সহজে পালিয়ে যায়।

পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে উপার্জিত টাকা দলনেতা থেকে শুরু করে সকল সদস্যরা মিলে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। কখনো কখনো এসব ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দন্ধ, মারামারি বা খুনাখুনির ঘটনাও ঘটে থাকে।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইসচার্জ (ওসি) জাবেদ মাসুদ জানান, আমি যদিও এ থানায় নতুন যোগদান করেছি। ততাপিও আমার থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী বা অন্য কোন অপরাধীর ঠাঁই নেই।

তিনি আরো জানান, মাহে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাই ও অপরাধ মূলক কর্মকান্ড বাড়তে পারে ধারণা কওে, গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি ।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী