মাদারীপুরে সম্পত্তি লোভে পিতাকে পাগল সাজিয়ে মানসিক হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগ

Madaripur FatherTorture

মাদারীপুরে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যারা যোগসাজশে খলিল শেখ (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে পাগল সাজিয়ে হাত-পা বেধে মানসিক হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রামে। নির্যাতনের শিকার খলিল শেখ ওই গ্রামের মৃত নুরুউদ্দিন শেখের ছেলে। শুক্রবার ঘরের মধ্যে হাত পা বেধে নির্যাতন করার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আজ মঙ্গলবার এলাকাবাসি জানান, রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রাম এলাকায় ভাল মনের মানুষ প্রবাসী হাজ্বী মোঃ খলিল শেখের সংসারে রয়েছে স্ত্রী হায়াতুন বেগম (৫০), দুই ছেলে নাজমুল শেখ (২৮) ও আসিব শেখ (১৮), দুই মেয়ে রাবেয়া আক্তার (২৫) ও ছোট মেয়ে মাহমুদা আক্তার (২২)। বিভিন্ন কারণে স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদের উপর ক্ষিপ্ত খলিল তার সম্পত্তি আপন ভাই তারা মিয়াকে লিখে দিতে পারে-এমন আশঙ্কায় বাড়ির সবাই মিলে খলিলকে গত ১০ সেপ্টেন্বর (শুক্রবার) জুম্মা নামাজের সময় ঘরের মধ্যে একটি রুমে আটকে রেখে পাগল সাজিয়ে হাত-পা বেঁধে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তার কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।
নির্যাতনের শিকার খলিলের ভাই তারা মিয়া শেখ বলেন, ‘আমার ভাই পাগল না। গ্রামের সবার কাছে শুনে দেখেন। আমার ভাইর স্ত্রী, ছেলে মেয়েরা তাকে পাগল সাজিয়ে হাত-পা বেধে কোথায় যেন নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাচ্ছি না। আমি আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে নির্যাতনের শিকার খলিলের স্ত্রী হায়াতুন বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী পাগল, সে প্রায়ই বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। তাই তাকে বেধে প্রথমে ফরিদপুর এবং পরে পাবনার সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক (প্রাঃ) মানসিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছি।’
রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক জানান, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাদারীপুর প্রতিনিধি