মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নারীকে শ্লীলতাহানি ও শিশুকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

Mathbaria News

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এক নারীকে শ্লীলতাহানি ও তার শিশু কন্যাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মঙ্গলবার মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের ছোট মাছুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আজিজ ফরাজী ছোট মাছুয়া মৌজার ৪৮৩ নং খতিয়ানের ১৮৩২ দাগের ১৩ শতাংশ জমি ১৯৮৪ সালে আপন সহোদর আ. জব্বার নূরীর কাছে কবলা দলিল মূলে বিক্রি করেন। কথা ছিল আসল টাকা ফেরত দিলে জমি রেজিস্ট্রি করে ফেরত দিবেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সাম্যক টাকা ফেরত দিলে জমি ভোগ দখল ছেড়ে দেয়। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি দিতে তালবাহনা শুরু করেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও জব্বার নূরী সালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করে। পরে মুক্তিযোদ্ধা আ. আজিজ ফরাজী মৃত্যুবরণ করলে ছেলে শফিকুল ইসলাম জমির রেজিস্ট্রি পেতে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরে পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) শফিকুল বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার ভোগ দখলীয় জমির সুপারী আ. জব্বার নূরীর ছেলে জহির ফরাজী লোকজন নিয়ে জোর পূর্বক পাড়তে শুরু করে। এসময় শফিকুলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বাঁধা দিলে জহির, জলিল, হাসান, জাকারিয়া মিলে তাকে মারধর শুরু করে। এসময় মরিয়ম বেগমের কোলে থাকা এক বছর বয়সী শিশু কন্যা আয়শা সিদ্দিকাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এদিকে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জহির ফরাজী মরিয়ম বেগমের শ্লীলতাহানি ঘটায়। পরে জোর পূর্বক দুই হাজার কাঁচা পাকা সুপারী পেড়ে নিয়ে যায়।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই জমি ছাড়া আমাদের আর কোন জমি নেই। ওই জমি ফেরত না দিলে আমাদের পথে পথে ঘুরতে হবে। তিনি ওই জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

ইসমাইল হোসেন হাওলাদার,মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি