মঠবাড়িয়ায় পাখিদের প্রতি নিজামের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

Mathbaria News

জলবায়ু পরিবর্তনে গ্রামীণ জনপদের সব ধরনের পাখি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেলও এখনও মাঝে মাঝে দেখা মিলছে শালিকের। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে এদের দেখা মিলে বিভিন্ন হাট বাজারের উন্মুক্ত স্থানে।

পাখি প্রেমিকরা এদের ভালোবাসা ধরে রাখতে খাবার দিয়ে উন্মুক্ত স্থানে মুড়ি, বিস্কিট, পাওরুটি, পরোটা সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার ছিটিয়ে দেন। আর পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে জড়ো হয় শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। এমনি একজন পাখি প্রেমিকের দেখা মিলছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী বাজারের পরোটা সিংগারা-পুরি বিক্রেতা পাখী প্রেমী মো. নিজাম জমাদ্দারের হাতে খাবার খেয়ে প্রতিদিন শালিকের দিন শুরু হয়। নিজাম ও শালিকের দীর্ঘ দিনের এই সখ্যতা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।নিজাম জমাদ্দার উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের ওয়াহেদাবাদ গ্রামের মো. আনেচ জমাদ্দারের ছেলে। মিরুখালী বাজারের ব্রীজের পাশে (দক্ষিণ) সে দীর্ঘ দিন থেকে পরোটা-সিংগারা-পুরি বিক্রি করে আসছেন। সরেজমিনে দেখাযায়, প্রতিদিন ভোর বেলা (সূর্য্য ওঠার আগে) দোকান খোলার আগেই নিজাম জমাদ্দারের দোকানের টিনের চালায় শতশত শালিক পাখি জড়ো হতে থাকে। শালিকের কিচির মিচির শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। নিজাম দোকান খুলে আগের দিনের রেখে দেয়া পরোটা ও পুরি টুকরা টুকরা করে দোকানের সামনে ছড়িয়ে দিলে ঝাকে ঝাকে শালিক রাস্তায় নেমে আসে। খাবার খেয়ে তারা আবার চলে যায়। কোন কারনে কোন দিন নিজাম দোকানে না আসলে সে দিন যেন শালিকদের বেদনার অন্ত থাকে না। দীর্ঘ বেলা পর্যন্ত তারা নীরবে নিজামের জন্য অপেক্ষা করে চলে যায়। নিজামের দেখাদেখি বাজারের আরও অনেকে ভোর বেলা রাস্তায় খাবার দিয়ে শালিকদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। কিন্তু নিজাম দোকান খুলে খাবার দেয়ার সাথে সাথে ঝাকে ঝাকে শালিক নিজামের কাছে চলে আসে। ফজরের নামাজ পড়ে বের হওয়া মুসল্লিরা প্রতিদিন নিজাম ও শালিকের সখ্যতা উপভোগ করেন। মিরুখালী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইলিয়াস জানান, প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে বের হয়ে আমরা শালিকের প্রতি নিজামের ভালবাসা উপভোগ করি। তার কাজটি অত্যন্ত প্রসংশনীয়। ইসলামও আমাদের পশু-পাখিদের প্রতি সদয় হতে বলেছে। মো. নিজাম জমাদ্দার জানান, পাখিদের খাওয়াতে পেরে সে খুব খুশি ও ভাগ্যবান। এ জন্য তার প্রায় এক থেকে দেড়শ টাকা খরচ হয় বলে নিজাম জানান। ১৭৭ নম্বর উত্তর পশ্চিম মিরুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেক জানান, এক সময় সকাল বেলা ফসলী জমিতে বক, ঘুঘু সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলেও এখন শালিক পাখি ছাড়া অন্য কোনো প্রজাতির পাখি চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে সব হারিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে উপকূলীয় জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিষদ মঠবাড়িয়া উপজেলা শাখার পরিচালক আবুল কালাম আজাদ আকন জানান, জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় নিজাম জমাদ্দার যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বর্তমান শীত মৌসুমে এলাকায় অনেক অতিথি পাখির আগমন ঘটবে। আমাদের সবাইকে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। যাতে কেউ পাখি নিধন করতে না পারে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। নিজাম জমাদ্দার আমাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।

ইসমাইল হোসেন হাওলাদার, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap