বেশিরভাগ অর্থই দেশের বাইরে পাচার করেছে সাহেদ

The main accused in the case of fraud and forgery of Regent Hospital is Chairman Mohammad Shahed

রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় প্রধান আসামি এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো.  সাহেদ কেবল অর্থের জন্যই প্রতারণা এবং এর বেশিরভাগই

দেশের বাইরে পাচার করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে র‌্যাব গতকাল সকালে সাহেদকে আদালতে হাজির করে। এরপর চারটি মামলায় তাকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।

সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান ও শাহ আলম তার জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু তার জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, সাহেদ মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা করেছেন।

তিনি একজন মহাপ্রতারক। আমরা তার জামিনের বিরোধিতা করছি। এরপর চার মামলার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু বলেন, সাহেদ প্রতারক। তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। চার মামলায় ৪০ দিনের রিমান্ড নেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু সাহেদের আইনজীবীরা মাত্র একটি মামলায় ওকালতনামা জমা দিতে পেরেছিলেন বলে বিচারক আসামি সাহেদের কাছেই জানতে চান, তার কিছু বলার আছে কিনা। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাহেদ তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি অপরাধ করেছি। ব্যবসা চালু হলে আমি পাওনাদারদের সব টাকা দিয়ে দেব।

রিমান্ডে গেলে আমি আর কুলাতে পারব না। সাহেদ বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাদের সব টাকা-পয়সা আমি পরিশোধ করব। গত ১২-১৩ দিন ধরে আমি খুব প্রেসারের মধ্যে আছি। আমি অসুস্থ। ঈদের পর আমার রিমান্ড শুনানি হলে ভালো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক মামলায় সাত দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী। চারটি মামলার মধ্যে তিনটি মামলা উত্তরা পশ্চিম থানার।

এর দুটিতে ইট, বালু সিমেন্ট সরবরাহের টাকা আত্মসাৎ এবং অন্যটিতে হোটেলের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর উত্তরা পূর্ব থানার মামলাটি করা হয়েছে জাল টাকা রাখার অভিযোগে।

গতকাল সন্ধ্যায় র‌্যাব সদর দফতরে লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সাতক্ষীরায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় গতকালই ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে সাতক্ষীরা আদালত।

আগামীকাল (সোমবার) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাতক্ষীরা কারাগারে নেওয়ার পর র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে। উত্তরা পশ্চিম থানা র‌্যাবের দায়েরকৃত দুটি মামলার ১৭ জন আসামির মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি সাহেদ স্বীকার করেছে। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী সাহেদ ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং নেপালে ঘন ঘন যাতায়াত করেছে। তার মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি আমরা সিআইডিকে অবহিত করেছি। সিআইডির মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হক আদালতে উল্লেখ করেন, আসামি সাহেদ ও মাসুদ পারভেজ রিমান্ডে থাকাকালে মামলার ঘটনার বিষয় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুনঃ সাহেদের ২৮ দিনের রিমান্ড

ফলে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সহযোগী আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেফতার করতে সহায়ক হচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমানে আসামিদের দেওয়া তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।

আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক ও মামলার তদন্ত ব্যাহত হওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

 

 

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap