বৃটিশ আমলে নির্মিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির করুন দশা!

Muzammel Hydar, Shayestaganj

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্থাপিত পুলিশ ফাঁড়ির জরাজীর্ণ ভবনের করুন দশা। ভবনের ছাদের পলেস্তেরা ধ্বসে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃটিশ আমলে ১৯০৩ সালে নির্মিত এ ভবনটি দীর্ঘদিন থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এই পুলিশ ফাঁড়ি ভবনে ১৭ জন পুলিশ সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর না থাকায় দিনদিন এর অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। যেকোন সময় এ ভবনটি ধ্বসে পড়ে প্রাণহানি ঘটার আশংকা রয়েছে।
তথ্যে জানা যায়, ওই পুলিশ ফাঁড়িতে ১৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত থাকলেও এখানে রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা নাই। তাই তারা স্টেশনের বিশ্রামাগারে রাত্রি যাপন করেন তারা। ওই পুলিশ ফাঁড়িতে কোন শৌচাগার না থাকায় প্রয়োজনে তাদের স্টেশনের বিশ্রামাগারের শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়। ওযু গোসল ও খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশ থেকে খাবার পানির চাহিদা পূরণ করতে হয়। গোসল করার প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী দিঘীতে গিয়ে গোসল সারতে হচ্ছে তাদের। পুলিশ ফাঁড়িটির পেছনের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। এটির পেছনের অংশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে থাকে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগ জীবানুর জন্ম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যা ওই পুলিশ ফাঁড়ির আশপাশের এলাকাকে স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলে দিয়েছে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনকে আধুনিক রূপে নির্মাণ করা হয়েছে। ওই সময় ব্যাপকভাবে স্টেশনের অবকাঠামোগত উনয়ন হলেও কোন অজ্ঞাত কারণে এই পুলিশ ফাঁড়িটির সংষ্কার বা পুননির্মাণ করা হচ্ছেনা তা সকলেরই অজানা।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির (ইনচার্জ) এসআই মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, এই ফাঁড়িতে আমরা ১৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত আছি। এখানে বিশ্রাম বা থাকার কোন ব্যবস্থা নাই, কোন শৌচাগার নাই, ওযু গোসল ও খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের টিউবঅয়েল থেকে খাবার পানি আনতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের অসুবিধার কথা অনুভব করে সহকারী স্টেশন মাস্টার মুশফিকুর রহমান যাত্রীদের বিশ্রামাগারে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিশ্রামাগারের টয়লেট আমাদের ব্যবহার করতে হয়।
এ বিষয়ে সিলেট রেলওয়ে পুলিশ সুপার(এসপি) শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন বৃটিশ আমলে স্থাপিত জরাজীর্ন ভবন সম্পর্কে অবগত আছি। নতুন ভবনের জন্য ইতিমধ্যে জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই নতুন ভবন বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
মোজাম্মেল হায়দার, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি