বিপাকে রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীরা,ধস ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা - Metronews24 বিপাকে রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীরা,ধস ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা - Metronews24

বিপাকে রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীরা,ধস ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

rent a car

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে বিধস্ত গোটা বিশ্ব। গত ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। মানুষ ঘরবন্দি। এই স্থবির পরিস্থিতির মাঝে মহাবিপাকে পড়েছে গাড়ির মালিক, চালক ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীরা।

রেন্ট-এ-কার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম জানালেন, দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৫০ লাখ পরিবার।

পাশাপাশি তিনি হতাশা প্রকাশ করলেন, সরকার থেকে আপাতত ঋণের কিস্তি না নিতে বলা হলেও ব্যাংক এবং অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সে নির্দেশনা যথাযথ মানছে না। তাই মরার ওপর খাঁরার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণ নিয়ে ক্রয় করার গাড়ির মাসিক কিস্তির বোঝা।

রাজধানীর একাধিক গাড়ির মালিক জানিয়েছেন, করোনার প্রভাবে সবকিছুই বন্ধ। রাস্তায় কোনো গাড়ি বের হতে পারছে না। আর বের হলেও লাভ নেই, কারণ প্যাসেঞ্জার পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে বেহাল অবস্থায় পড়েছেন তারা।

কয়েকজন গাড়ির চালক বলেছেন, আমরা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। গাড়ি ভাড়া হলে উপার্জন হয়, যে দিন ভাড়া হয় না, আয়ও বন্ধ। কিন্তু এভাবে একাধারে সবকিছু বন্ধ থাকলে আমাদের করোনায় নয়, না খেয়েই মরতে হবে পরিবার নিয়ে।

চালকরা বলছেন, সবাই মনে করে একটা গাড়ি ভাড়ায় গেলেই আমাদের অনেক আয় হয়। যে কারণে কেউ সহযোগীতাও করে না। আর আমরা কারো কাছে হাত পাততেও পারি না।

রেন্ট কার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম নাগরিক বার্তাকে বলেছেন, আমরা বহু রকম বিপদে পড়েছি।

আমাদের সংগঠনের আওতায় সারা দেশে আনুমানিক ৫ লক্ষ গাড়ি রয়েছে। গাড়ির মালিক, চালক ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মিলিয়ে ৫০ লাখ পরিবারের উপার্জনের মাধ্যম হচ্ছে গাড়ি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার আয় থেমে গেছে।

চালকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে মোঃ নূর আলম বলেন, করোনার কারণে সব কর্পোরেট অফিস বন্ধ। তাই তাদের কাছে যেসব গাড়ি নিয়মিত ভাড়ায় থাকতো তাও ছেড়ে দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও কেউ নিচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ দেশে হানা দিতে পারে কালবৈশাখী ঝড়

সংগঠনটির সভাপতি লুৎফুর রহমান বলেছেন, গাড়ি মালিকদের মাথার ওপর স্টাফ খরচ, গাড়ির লোনসহ আরো অনেক রকম চাপ রয়েছে। তাছাড়া গাড়িগুলো এভাবে মাসের পর মাস বসে থাকলে ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন পার্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা কেউ মানছে না। চলতি মাসেও অনেক গাড়ি মালিকের ঋণের কিস্তির টাকা ব্যাংক ও ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান কেটে নিয়েছে।

এ অবস্থায় সভাপতি লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নূর আলম সকল গাড়ি মালিক, চালক ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন, ব্যাংকের ঋণের কিস্তি অন্তত ৬ মাসের জন্য স্থগিত এবং সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করলে গাড়ি ব্যবসায় ধস ঠেকানো সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর সু-নজর কামনা করেছেন।