বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানে তারুণ্য

Injamul Safin

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস৷ ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে ঘতকরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে৷ এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়।

বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানের পথে হাঁটছে।

এই তারুণ্যই দেশের শক্তি, তারুণ্য আনতে পারে সমৃদ্ধি। তরুণ প্রজন্ম স্বপ্ন বুনে যায় একটি সমৃদ্ধ, প্রগতিশীল, মানবিক বাংলাদেশের যার অস্তিত্বের মধ্যে টিকে থাকবেন রাজনীতির কবি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারুণ্যের চেতনায় বঙ্গবন্ধু এক অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস, সমৃদ্ধশালী দেশ বিনির্মাণের আহ্বান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তরুণ প্রজন্মের দুর্বার পথচলা । এ অগ্রযাত্রার লক্ষ্য হলো ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণ।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্নই এদেশের অগণিত তরুণের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু তনয়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে দূর্বার গতিতে। করোনা অতিমারী পরিস্থিতিতে অনেক তরুণ সেচ্ছাসেবী মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছেন যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানের পথে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আউটসোর্সিং, ই-কমার্সসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

তরুণ কৃষকেরা এদেশের উর্বর জমিতে সোনার ফসল উৎপাদন করছেন। কেউ যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্য লোকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। অনেক নারী ঘরে বসে হাতের কাজসহ বিভিন্ন আয়মূলক কর্মকান্ডে সমৃক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোষাক শিল্পের ভূমিকা ব্যাপক। এই শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী তরুণ। তাদের পরিশ্রমের ফলেই আজ তৈরি পোষাক রপ্তানীতে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান। এদেশের অগণিত তরুণ প্রবাস জীবনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছেন। নারীরা কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ করছেন। এভাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি মিলছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের সম্পৃক্তা নজর কাড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে দুর্নীতি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবার জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” ঘোষণা করেছেন । তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন উদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ তরুণ গবেষকদের জন্য “বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ” প্রদান করছে।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে তরুণরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য উপযোগী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছেন। বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে । একইসাথে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের বিনির্মাণের পথে আমরা এগিয়ে চলছি।

ইনজামুল সাফিন
শিক্ষার্থী, সরকারি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, বরিশাল।

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap