প্রয়াত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর জন্মবার্ষিকী আজ

Subir_Nandi,hridoy Khan

“এক যে ছিলো সোনার কন্যা,
মেঘ বরন কেশ।
ভাটি অঞ্চলে ছিলো
সেই কন্যায় দেশ।
দুইচোখে তার আহারে কি মায়া!
নদীর উপর পড়ল কন্যার ছায়া,
তাহার কথা বলি
তাহার কথা বলতে বলতে নাম দৌড়াইয়া চলি। ”
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃতি সন্তান একুশে পদকপ্রাপ্ত ও দেশ বরেণ্য জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর জন্মদিন আজ। প্রয়াত এই কন্ঠশিল্পী ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর আজকের এইদিনে সম্ভ্রান্ত সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তার পৈতৃকনিবাস বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের নন্দীপাড়ায়।
তার পিতা-সুধাংশু নন্দী ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সঙ্গীতপ্রেমী। তার মা পুতুল রানী চমৎকার গান গাইতেন কিন্তু রেডিও বা পেশদারিত্বে আসেননি কখনও।
সুবীর নন্দী ছিলেন একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী। তিনি মূলত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেন। তিনি মহানায়ক (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯),মেঘের পরে মেঘ (২০০৪) ও মহুয়া সুন্দরী (২০১৫) চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে পাঁচবার এই পুরস্কার লাভ করেন। সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।
সুবীর নন্দীর ডাক নাম ছিলো বাচ্চু।শৈশব থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিতে শুরু করেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। তবে সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। বাবার চাকরি সূত্রে তাঁর শৈশবকাল চা বাগানেই কেটেছে। পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাগানেই ছিলেন। চা বাগানে খ্রিস্টান মিশনারিদের একটি বিদ্যালয় ছিল, সেখানেই পড়াশোনা করেন। তবে পড়াশোনার অধিকাংশ সময়ই তাঁর কেটেছে হবিগঞ্জ শহরে। হবিগঞ্জ শহরে তাদের একটি বাড়ি ছিল, সেখানে ছিলেন। পড়েছেন হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে । তারপর হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজে পড়াশোনা করেন।
১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণী থেকেই তিনি গান করতেন। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন। তাঁর গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। লোকগানে ছিলেন বিদিত লাল দাস। সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’ -এর গীত রচনা করেন মোহাম্মদ মুজাক্কের এবং সুরারোপ করেন ওস্তাদ মীর কাসেম। ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত সূর্যগ্রহণ চলচ্চিত্রে। ১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমান পরিচালিত অশিক্ষিত চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের ঠোঁটে তাঁর গাওয়া ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে।১৯৮১ সালে তাঁর একক অ্যালবাম সুবীর নন্দীর গান ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে। তিনি গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্যাংকে চাকরি করেছেন।এছাড়া তাঁর প্রেম বলে কিছু নেই, ভালোবাসা কখনো মরে না, সুরের ভুবনে, গানের সুরে আমায় পাবে (২০১৫) প্রকাশিত হয় এবং প্রণামাঞ্জলী নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়।
প্রয়াত সুবীর নন্দী শিল্পকলায় একুশে পদক পান ২০১৯ সালে এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার যথাক্রমে;……….
(১) শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী – মহানায়ক(১৯৮৪)।
(২) শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী – শুভদা(১৯৮৬)।
(৩) শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী – শ্রাবণ মেঘের দিন(১৯৯৯)।
(৪) শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী – মেঘের পরে মেঘ(২০০৪)।
(৫) শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী – মহুয়া সুন্দরী(২০১৫)।
প্রয়াত এই কন্ঠশিল্পী ২০১৯ সালের ৭ই মে ৬৫ বছর বয়সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
হৃদয় খান,বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap