পৌর নির্বাচনঃ ১১ বছর পর শঙ্কা নিয়ে ভোটাররা যাচ্ছে ভোট কেন্দ্রে

salim rana

দীর্ঘ এগার বছর পর কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাচন আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ভোট কেন্দ্রে শঙ্কা নিয়ে ভোট দিতে যাচ্ছে সাধারণ ভোটাররা। গত ২০০১ সালে পৌরসভা গঠনের পর একবার পৌরবাসী ভোট প্রয়োগ করে মেয়র নির্বাচিত করেন।

এর পর সীমানা জটিলতা দেখিয়ে দীর্ঘ এগার বছর অতিক্রম করার পর নির্বাচন কমিশন পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এ পৌরসভায় ৫জন মেয়র প্রার্থী ৩০ জন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিল ২৭জন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ পৌরসভায় ৪১টি ভোট কেন্দ্রে ৯৫ হাজার ৪৩৫জন নারী পুরুষ ভোটার নানা শঙ্কার মধ্য দিয়ে ভোট প্রদান করবেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভাটি সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমান ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম অ্যাডকোকেট রহমত আলীর হাতে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ২০ বছরে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী এ পৌর সভায় দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।

তবে এবারের নির্বাচনে পৌরসভার মেয়র পদে জয়লাভ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন নৌকার মাঝি রেজাউল করিম রাসেল। কিন্তু এ পৌরসভার বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিকদার মোশারফ হোসেন গত ১১ বছর পৌরবাসীর সুখ দুখে পাশে থাকার পরও দলীয় প্রতীক না পাওয়ায় উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বড় একটা অংশ হতাশা হয়ে বেশিরভাগ নির্বাচনী সময়ে চুপ থেকেছেন। উপজেলা পর্যায় পদধারী দলীয় নেতাকর্মীরা চুপ থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেল নিজের কর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল পৌর সভার নির্বাচনে দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তার আপন বড় ভাই সাইফুজ্জামান সেতু চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। ফলে পৌর ও ইউপি আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা বড় ভাই নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করায় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেলের ভরাডুরির জন্য পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গুজ্জন শুরু হয়েছিল। অপর দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র মজিবুর রহমান মোবাইল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি করলেও তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় নেকাকর্মীরা মাঠে দাঁড়াতেই দেয়নি। গত কয়েক দিনে মোবাইল প্রতীকের প্রার্থীর ১০-১২জন নেতাকর্মীকে মারধরের ঘটনায় সাধারণ ভোটারের মনে শঙ্খা হয়েছে যে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি? নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেল জানান, সকল দলীয় নেতাকর্মীরা আমার নির্বাচন করছেন। ভোটারের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। এখানে ভোটারদের আতংক হওয়ার কিছু নেই। নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসার অনুরোধ থাকলো। নিরাপত্তার জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মুরাদ কবীল জানান, দলীয় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেলের বড় ভাই সাইফুজ্জামান সেতু তার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহি প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে কিছুটা হলে তার পৌর নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে।
মো.সেলিম রানা,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap