পিঁয়াজ উধাও,দোকান খালি!

The onion disappeared from the market

ভারত হঠাৎ করেই পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে-এই একটি মাত্র ঘোষণায় দেশের বাজারে উথাল-পাতাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোক্তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, সুযোগ বুঝে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন দফা পণ্যটির দাম বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। ৬০ টাকা কেজির পিঁয়াজ গতকাল সকালে ৮০ টাকা এবং দুপুরে ১০০ টাকায় উঠে যায়।

বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে পিঁয়াজ নাই! পণ্যটি উধাও! সোমবার সন্ধ্যায় ভারত কর্তৃক পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর এই হচ্ছে গতকাল  সারা দিনের বাজার পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ।

এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যা করেছে : (১) সারা দেশের ডিসিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে পিঁয়াজের সরবরাহ সচল রাখার পাশাপাশি বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে।

রাজশাহী, পাবনা, ফরিদুপর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়াসহ দেশি পিঁয়াজ উৎপাদন হয় এমন জেলার ডিসিদের টেলিফোনে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা; (২) বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে পিঁয়াজের আমদানি ঋণপত্রের মার্জিন কমানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খোলার বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিতে; (৩) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে পিঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক কমাতে তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে; আমদানি পণ্যটি দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে কাস্টমসকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে; (৪) বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে আমদানি পিঁয়াজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে ছাড় করতে; (৫) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে চিঠি দিয়েছে যাতে আমদানিকৃত পিঁয়াজের সেনিটারি ফাইটো সেনিটারি পরীক্ষার ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া হয়; এবং (৬) টিসিবির মাধ্যমে মিয়ানমার, তুরস্কসহ বিকল্প দেশগুলো থেকে প্রায় এক লাখ টন পিঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিসিদের ফোনে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলো- জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, পিঁয়াজের সরবরাহ সচল রাখার বিষয়ে ডিসিদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, দেশি পিঁয়াজের প্রচুর মজুদ আছে। একটি দেশ থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর এই পিঁয়াজ যাতে আন্ডার গ্রাউন্ডে না চলে যায় সে বিষয়ে মনিটরিং বাড়াতে বলা হয়েছে ডিসিদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি-এমনটি উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আসলে যেটি হয়েছে- রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় হঠাৎ ভোক্তারা বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।

আর এই সুযোগে বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের মানসিকতা সংশোধনের মাধ্যমেই বাজার পরিস্থিতি সংশোধন করা যেতে পারে বলে মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

সচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতি বৃষ্টি, বন্যা এসবের ওপর কৃষি উৎপাদন নির্ভর করে। ফলে কোনো একটি পণ্য নিয়ে যখন সংকট সৃষ্টি হয়, তখন তার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যায়।

পিঁয়াজের ক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে। তবে দেশে এর সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এখন বাজারে পিঁয়াজের যে দাম তার অর্ধেক মূল্য যৌক্তিক বলে মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন হতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা থেকে আগেই টিসিবি’র মাধ্যমে পিঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই আমদানি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃপিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারন জানাল ভারত

মিয়ানমার, তুরস্কসহ যেসব দেশে পিঁয়াজ পাওয়া যাবে সেখান থেকে যত দরকার পণ্যটি আমদানি করা হবে। টিসিবির পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবসায়ীদের পণ্যটি আমদানিতে সহায়তা দিতে বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘরে বসে মিলবে ন্যায্যমূল্যের পিঁয়াজ : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজসহ নিত্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তবে সীমিত পরিসরে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক আর নির্দিষ্ট ডিলারের মাধ্যমে পণ্যটি বিক্রি হওয়ায় বেশিরভাগ নাগরিক ন্যায্যমূল্যের পিঁয়াজ কেনা থেকে বঞ্চিত হন।

এ কারণে ই-কমার্সের মাধ্যমে ভোক্তার ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে টিসিবির পিঁয়াজ। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ সংবাদ সম্মেলন করে পিঁয়াজ আমদানিসহ পণ্যটি নিয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানাবেন।

হিলি স্থলবন্দরের চিত্র : সোমবার ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতরের ডিরেক্টর জেনারেল অমিত ইয়াদব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর সারা দেশেই পণ্যটির দাম বেড়েছে।

রাতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশি পিঁয়াজ ব্যবসায়ীদের হাতে এসে পৌঁছায়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটি রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত।

এর ফলে হিলি স্থলবন্দরে গতকাল পিঁয়াজের মূল্য ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় ওঠে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, বন্দরের আমদানিকারকরা ইতিমধ্যে মিসর, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা শুরু করেছেন। এসব পিঁয়াজ বাংলাদেশে এলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে আবারও দাম স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap