পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযুদ্ধে টমটম চালক জসিম! - Metronews24 পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযুদ্ধে টমটম চালক জসিম! - Metronews24

পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযুদ্ধে টমটম চালক জসিম!

Rangabali News

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পঙ্গুত্ব নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন টমটম চালক জসিম প্যাদা (৪৩) নামের এক যুবক। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন তিনি। টমটম চালিয়ে তার যা আয় হতো, তা দিয়েই পরিবারের ভরণ-পোষণ চলতো।

কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার জীবনে আধার নেমে এলো। যে জসিম ছিল সংসারের কর্তা, এখন তিনি সংসারের বোঝা। তিনি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনী গ্রামের বাসিন্দা। জীবনের অর্ধেক মুহুর্তে এসে ওই দুর্ঘটনা তাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে।

যে টমটম চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতো। সেই টমটমেই তাকে অসহায় করেছে। এখন স্ত্রী ও এক ছেলেসহ তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন
করতে হচ্ছে তাকে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী গ্রামে একটি করাতকলে (স’মিল) টমটম বোঝাই গাছ
নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন জসিম। এসময় গাছের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুত্বর আহত হন।

পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু তার আর পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা হয়নি। ওই ঘটনায় তার দু’টি পা অবশ হয়ে যায়। পায়ে বোধ শক্তি না থাকায় হুইল চেয়ারেই তাকে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

তার পঙ্গু জীবনের সহায়ক হিসেবে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন সহধর্মীণি। স্থানীয়রা জানায়, পঙ্গুত্ব জীবন নিয়েও জসিম ঘরে বসে থাকতে পারেনি। সংসারের খরচ মেটাতে বাড়ির কাছাকাছি ধারদেনা করে একটি চায়ের দোকান দিয়েছেন সে।
টমটম চালক জসিম বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছি। পঙ্গু দেখে কোন এনজিও লোন (ঋণ) দেয়নি আমায়। তাই আরেকজনে দিয়ে লোন ছাড়িয়ে একটি চায়ের দোকান দিয়েছি। স্ত্রীর সহায়তায় দোকানে আসা-যাওয়া করি। ওখান থেকে মাসে ৪-৫ হাজার টাকা রোজগার হয়।

কিন্তু তা দিয়ে সংসারের খরচ, ছেলের লেখাপড়ার খরচ, লোনের কিস্তি, আমার ওষুধপাতির খরচ হয় না। প্রতিমাসে উল্টো ঋণগ্রস্ত হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পঙ্গু ভাতা পাই না। এবার আবেদন করছি। দেখি কি হয়!’ জসিমের স্ত্রী রোমানা বেগম বলেন, ‘তার চিকিৎসার জন্য ৭ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।

এখনও প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ওষুধ প্রয়োজন। এরমধ্যে ছেলের পড়াশুনার জন্য মাসে ২ হাজার টাকা খরচ। আর সংসারের আনুসাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা উপার্জন করা লাগলেও দোকান থেকে ৪-৫ হাজার টাকার উপারে আয় হয় না।

ফলে প্রতিমাসেই তাদের ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘জসিমের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি যদি পঙ্গুভাতা না পান, তাহলে পঙ্গু ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।’

মাহমুদ হাসান,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

Share