নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার,এলাকায় শোকের ছায়া

Tongi Shisu Hotta

গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন মাজুখান গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রোববার ভোরে ৬ বছর বয়সী অবুঝ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।

নিহত শিশুটির নাম মো. সিহাব। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানার মাজুখান গ্রামের বাসিন্দা দিনমুজুর মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে স্টুডিও ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বেশ কয়েক বছর আগে টঙ্গীর কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তির বাসিন্দা মৃত মালেক মিয়ার (কানা মালেক) মেয়ে হেলেনাকে বিয়ে করে সংসার করতে থাকে।

সংসার জীবনে গত প্রায় ৬ বছর আগে হেলেনার কোল জুড়ে আসে সিহাব। সিহাবের জন্মের পর থেকে হেলেনা ও জুয়েলের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ এবং ঝগড়ার সৃষ্টি হতো। এক পর্যায়ে হেলেনা তার স্বামী জুয়েল এবং সন্তান শিহাবকে রেখে গত প্রায় ৬ মাস পূর্বে টঙ্গীতে চলে আসে। তারপর থেকে শিহাব তার দাদা-দাদীর কাছে বড় হততে থাকে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টায় শিহাব তার পিত্রালয় থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় সিহাবকে খোঁজে পেতে মাইকিং করে পরিবারের লোকজন। নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর স্থানীয়রা সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পূবাইল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছেন। এ সময় সিহাবের মা হেলেনা বেগমও ঘটনাস্থলে ছিলেন। নিহত সিহাবের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, জুয়েলের সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা সিহাবকে নির্জন কোথাও ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার পর গভীর রাতে লাশ সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গেছে। এ নি:সংস্ব হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত খোঁজে বের করে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী করেন এলাকাবাসী। এঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক এবং শোকের ছায়া নেমে আসে। সিহাব নিহতের বিষয়ে তার মা হেলেনার সাথে কথা বলতে চাইলে, তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। এব্যাপারে সিহাবের মামা ডি এক্স মুনসুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, অজ্ঞাত কারণে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি, বরং মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দেন। নিহতের বাবা মো. জুয়েল জানান, তার ছেলে নিখোঁজের পর তারা স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তার ছেলে সিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবী করেন এবং সুষ্ট তদন্ত পূর্বক ছেলে হত্যার বিচার দাবী করেন তিনি। পূবাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। এ ব্যাপারে খুব দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap