নারায়ণগঞ্জে তৈরী হচ্ছে মেড ইন বাংলাদেশ খ্যাত “বাংলা কার “

shohel ahmed bhuiyan

নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যে একটি পরিচিত জেলা। গার্মেন্টস শিল্প দ্বারা বহুল পরিচিত শহর। এছাড়াও আটা, ডাল, লবন, এমনকি কয়েকটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরীও আছে এই জেলা শহরে। তারই ধারাবাহিকতায় সংযোজন হচ্ছে গাড়ী তৈরীর কারখানা। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক মাইলফলক।।

আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে ঈদের পর বাজারে আসছে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রথম গাড়ি বাংলা কার’ মাত্র ৩০ লাখ টাকায় ৭ আসনের এই গাড়িটি বাজারজাত করছে হােসেন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযােগী প্রতিষ্ঠান বাংলা কারস লিমিটেড। যাতে দেশে প্রথমবারের মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা গাড়ি রাস্তায় দেখা যাবে। আর নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকায় অবস্থিত কারখানা থেকেই এই গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলা কার তৈরির নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটির কারখানা থেকে ১২ধরনের গাড়ি বাজারজাত করা হবে। এর মধ্যে থাকবে প্রাইভেট কার, ট্রাক, বাস, লরি ট্রাক, পিকআপ উল্লেখ যােগ্য।
দৈনিক যুগান্তর সূত্রে জানা যায়, করােনার প্রকোপ হ্রাসসহ সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই দেশীয় ব্র্যান্ড বাংলা গাড়ি রফতানিতে যাবে গ্রুপটি। প্রাথমিকভাবে ৩০টি গাড়ি ট্রায়ালে আছে, এরই মধ্যে ১০টি বিক্রি হয়ে গেছে।

হােসেন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকির হােসেন যুগান্তরকে বলেন, কোটি টাকা খরচে মার্সিডিজ-বিএমডব্লিউ গাড়িতে একজন গ্রাহক যে সুবিধা পান বাংলা গাড়িতে সে সুবিধা মিলবে মাত্র ৩০ লাখ টাকায়।
এটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলাে-
গাড়িটি পােশাক খাতের মতাে মেইড ইন বাংলাদেশ নাম বহন করবে। দেশকে গাড়ি উৎপাদনে নেতৃত্ব দেবে জাপান, চায়না ও
ভারতের মতাে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগে থাকছে বাংলা গাড়ির শােরুম। তাছাড়া আরও ৩০টি শােরুম খুলতে যাচ্ছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
ইতােমধ্যে রাজধানীর তেজগাঁও ১৮১ -১৮২ নম্বর ঠিকানায় বাংলা কার এর একটি শােরুম চালু করা হয়েছে। যেখানে দেশীয় নিজস্ব ব্র্যান্ডের ৮ রঙের গাড়িটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

২০২১ সালের নতুন মডেলের গাড়িও শােভা পাচ্ছে শােরুমে। তিনি বলেন, বাংলা কার তৈরির কারখানা নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটিতে। সেখান থেকে ১২ধরনের গাড়ি বাজারজাত করা হবে।

এর মধ্যে থাকবে প্রাইভেট কার, ট্রাক, বাস, লরি ট্রাক, পিকআপ উল্লেখযােগ্য। তবে গাড়ি বিক্রি কার্যক্রম শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা এখনও শুরু হয়নি।

২৬ মার্চ এর উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড পরিস্থিতির কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে রােজার ঈদের পরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। জানা গেছে, বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডের বাংলা গাড়ি নির্মাণের জন্য জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে হােসেন গ্রুপ।

ইশুজু ইঞ্জিন, জাপানি বডিতে নির্মিত গাড়িতে লেখা থাকবে মেইড ইন বাংলাদেশ।এ প্রসঙ্গে এমডি বলেন, আমরা দেশীয় ব্র্যান্ড,দেশীয় ডিজাইনে গাড়ি ম্যানুফ্যাচারিংয়ে যাচ্ছি।ইসুজু জাপানিজ ইঞ্জিন, চায়না বডি এবং ইন্দোনেশিয়ার চেসিস দিয়ে গাড়িগুলাে তৈরি করছি। এসব গাড়ি অন্য গাড়ি থেকে ভিন্ন। ফোটন বা মিতসুবিশি একটা বা দুটি মডেলের গাড়ি তৈরি করতে পারবে কিন্তু বাংলা কারস সব মডেলের গাড়ি তৈরি করতে পারবে। ১৫০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত যেটা ক্রেতার চাহিদা সেটা আমরা তৈরি করে দিতে পারব। আবার ৮ রঙের গাড়ি থাকলেও ক্রেতা যদি অন্য কোনাে রঙ পছন্দ করেন, আমরা সেটাও দিতে পারব। দেশের মাটিতে দেশের তৈরি গাড়ি হলাে বাংলা কার’।

সোহেল আহমেদ ভূঁইয়া,নারায়ণগঞ্জ