নতুন বছরের হালখাতা অনুষ্ঠান আজ

Feature JnU Reporter

পহেলা বৈশাখ। নববর্ষের শুভাগমনিতে বাংলা বাঙালি যেমন উৎফুল্ল ঠিক তেমনি প্রকৃতির রূপ, আবহাওয়া দেখে যেন মনে হয় উচ্ছলতায় সেঁজেছে সে নতুন রূপে।

বাংলা নববর্ষ যেমন ঐতিহ্যের ধারক তেমনি অনন্য জাতি-ধর্ম বেঁধে সকলের অংশগ্রহণে। বাংলা নববর্ষের অনন্য আকর্ষণ হিসেবে পান্তা ভাতকে যেমন স্থান দেয়া হয়েছে বাংলার জাতীয় খাবার হিসেবে।

তেমনি ব্যবসায়ী মহলের কাছে নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম আনুষ্ঠানিকতা নববর্ষ উপলক্ষ্যে হালখাতা।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেখা যায় শ্রী শ্রী পূজার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

সারাদিন ব্যাপী প্রসাদ মিষ্টি বিতরণ ও সাজ-সজ্জার মাধ্যমে বিগত বছরের বাকি দেনা পাওনা মিটানোর এক আনন্দমুখর পরিবেশের আয়োজন করা হয়।

কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা হালখাতা অনুষ্ঠান পালন করে থাকে মিষ্টি বিতরণ ও এক নান্দনিক আনুষ্ঠানিকতায়।

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ এপ্রিল ২০২১ এ নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে দেশজুরে বিভিন্ন স্থানে আজ এই হালখাতা আয়োজন করা হচ্ছে।
হয়তো অনেকের কাছে অপরিচিত এই হালখাতা।বিশেষ ভাবে বলতে গেলে,হালখাতা বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া।

বছরের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীরা তাদের দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে এদিন হিসাবের নতুন খাতা খোলেন। এজন্য খদ্দেরদের বিনীতভাবে পাওনা শোধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়; শুভ হালখাতা কার্ড’-এর মাধ্যমে ঐ বিশেষ দিনে দোকানে আসার নিমন্ত্রণ জানানো হয়। এই উপলক্ষে নববর্ষের দিন ব্যবসায়ীরা তাদের খদ্দেরদের মিস্টিমুখ করান।

খদ্দেররাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পুরোনো দেনা শোধ করে দেন। আগেকার দিনে ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র মোটা খাতায় তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। এই খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিনে নতুন করে হালনাগাদ করা হতো।

হিসাবের খাতা হাল নাগাদ করা থেকে “হালখাতা”-র উদ্ভব। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছোট বড় মাঝারি যেকোনো দোকানেই এটি পালন করা হয়ে থাকে।
মূলত পহেলা বৈশাখের সকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী দোকানী ও ব্যবসায়ীরা সিদ্ধিদাতা গণেশ ও বিত্তের দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে থাকেন এই কামনায় যে, তাদের সারা বছর যেন ব্যবসা ভাল যায়।

দেবতার পূজার্চনার পর তার পায়ে ছোঁয়ানো সিন্দুরে স্বস্তিকা চিহ্ন অঙ্কিত ও চন্দন চর্চিত খাতায় নতুন বছরের হিসেব নিকেশ আরম্ভ করা হয়। এই দিন ক্রেতাদের আনন্দদানের জন্য মিষ্টান্ন, ঠাণ্ডা পানীয় প্রভৃতির ব্যবস্থা করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেও হালখাতা বা শুভ মহরৎ অনুষ্ঠান করে থাকেন।
আজকে এই হালখাতা অনুষ্ঠান পুরান ঢাকার বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্র বা দোকানপাঠে আয়োজন করা হলেও,কাঠোর লকডাউন এর কারণে সবটুকুই সীমিত পরিসরে হচ্ছে।
করোনা মহামারীর কারণে সকলের ব্যবসা বানিজ্যের অবস্থা সূচনীয় বললেও ভুল হবে না।
তবু নতুন বছরকে বরণ করে নিয়ে সকলের সাথে একাত্ম হয়ে হালখাতা আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যের ধারাকে অব্যাহত রাখার নিমিত্তেই।
অমৃত রায়,নিজস্ব প্রতিবেদন