দেশের ৬৮ টি কারাগারে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রস্তুতি ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা অনলাইন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

Dhaka Ahsania Mission

কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলার অংশ হিসেবে দেশের ৬৮টি কারাগারের কারাভ্যন্তরে কর্মরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও সাধারণ কর্মীদের কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রস্তুতি ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণটি আজ (৪ঠা নভেম্বর ২০২০) শেষ হলো।

জার্মান সরকার ও ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জিআইজেড এর যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর ও ঢাকা আহছানিয়া মিশন ‘কোভিড-১৯ প্রিপেয়ার্ডনেস ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক প্রশিক্ষণটির আয়োজন করেন।

প্রশিক্ষণটি গত ১লা জুলাই ২০২০ তারিখে শুরু হয়ে সর্বমোট ১৭টি ব্যাচের মাধ্যমে ৩৪১ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশিক্ষণটি প্রদান করে। প্রশিক্ষণটির পাঠ্যক্রম যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেডক্রস (আইসিআরসি)।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ খায়রুল আলম সেখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে করোনা মহামারীর শুরুতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, ফলে বাংলাদেশের কারাগারসমূহ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণ এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারা কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি  মনোবলও বৃদ্ধি পেয়েছে  যা তাদের দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

কারা অধিদপ্তর  এই ধরণের প্রশিক্ষণ  কার্যক্রম  ভবিষ্যতেও  অব্যাহত  রাখবে এবং স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোমিনুর রহমান মামুন বলেন- ‘মহামারীর শুরু থেকেই আমরা উপলব্ধি করেছি যে, কারাভ্যন্তরের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও সাধারণ কর্মীদের কোভিড-১৯ প্রতিরোধে করণীয় ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

যার ফলে জিআইজেড এর সহযোগিতায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন দেশের ৬৮টি কারাগারে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য যে মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হয়েছে তা প্রশংসার দাবীদার এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই।

এই প্রশিক্ষণ কারাকর্মীদের মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় মনোবল সুদৃঢ় করবে এবং প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাকে আরো সহজতর করে তুলবে।

জিআইজেড বাংলাদেশ ‘রুল অব ল’ প্রোগ্রামের হেড অফ প্রোগ্রাম, প্রমিতা সেনগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে বিদ্যমান কারা আইন সংশোধনের উদ্যোগে ও জিআইজেড এর কারিগরী সহায়তায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কারগারকে সংশোধনাগারে পরিণত করতে সহায়তা করবে।

এই ধরনের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে অংশিদারিত্ব তৈরি হচ্ছে তা অদূর ভবিষ্যতে কারা সংস্কারে ভূমিকা রাখবে। মুহাম্মাদ রফিকুজ্জামান, গভর্নেন্স অ্যাডভাইজার এবং ডেপুটি টিম লিডার, গভর্নেন্স টিম, এফসিডিও জানান যে, এই ধরনের কার্যক্রমে ব্রিটিশ সরকারের সার্বিক  সহযোগিতা সব সময় বিদ্যমান থাকবে।

সিমোনা কারভি, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেডক্রস এর ডিটেনশন টিম লিডার বলেন যে- অংশিদারিত্বের মাধ্যমে এই সফল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স¤পন্ন হল যা মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে কারাগারে এই ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেডক্রস সব সময় পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য ও  প্রশিক্ষণের অর্জন নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। তিনি প্রশিক্ষণ পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য কারা অধিদপ্তরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এই প্রশিক্ষণ থেকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য ও এর গুরুত্ব উঠে এসেছে, এসব নিয়ে ভবিষ্যতে কারা অধিদপ্তরের সাথে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যা বাস্তবায়নে ঢাকা আহছানিয়া মিশন সর্বাত্মক সহায়তা বজায় রাখবে।

এছাড়াও প্রশিক্ষণটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশেষ করে কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে করনীয়, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদির সঠিক ব্যবহার এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার কৌশল যা তাদের এই মহামারী পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করবে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ সহায়িকা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য কোভিড-১৯ বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও জিআইজেড বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত “ইমপ্রুভমেন্ট অফ দ্যা রিয়েল সিচুয়েশন অব ওভারক্রাউডিং ইন প্রিজন ইন বাংলাদেশ (আইআরএসওপি)” প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে করোনা ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের ৬৮টি কারাগারের  চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সুরক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এফডিএ কর্তৃক অনুমোদিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী যেমন-পিপিই (ফুলবডি গাউন), গ্লাভস, মাস্ক,  গগলস ও আই আর থার্মোমিটার ইত্যাদি কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

পাশাপাশি প্রকল্পের কর্ম এলাকার (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১, ২ এবং কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার) বন্দীদের মাঝে করোনা ভাইরাস  সংক্রমণ  প্রতিরোধে  সচেতনতামূলক  লিফলেট বিতরণ এবং মুক্তিপ্রাপ্ত  কারাবন্দীদেরকে এই ভাইরাস প্রতিরোধ ও ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।