তুরাগে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী সস্তানকে নির্যাতণ করে তাড়িয়ে দিল স্বামী-শ্বশুড় - Metronews24 তুরাগে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী সস্তানকে নির্যাতণ করে তাড়িয়ে দিল স্বামী-শ্বশুড় - Metronews24

তুরাগে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী সস্তানকে নির্যাতণ করে তাড়িয়ে দিল স্বামী-শ্বশুড়

Torage Nari Nirjaton

রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া এলাকায় বার বার যৌতুকের দাবী পূরণ না করায় এক গৃহবধু রাবিয়া আক্তার কল্পনাসহ তার দুই অবুঝ মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েও খান্ত হয়নি পাষন্ড স্বামী ও শ্বশুড়।

থানায় এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশি হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধু ও তার পরিবারের লোকজন। । ভুক্তভোগী গৃহবধু জানান, ২০০৯ সালের ১২ জুন ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার কাদিরারটেক গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. ওমর শরীফ ভূইয়ার সাথে বিয়ে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরানা এবং আমার বাবার দেয়া ১ লাখ টাকার র্স্বণালংকার, ফার্নিচার দিয়ে আমাকে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে আমার স্বামী ও শ্বশুড় প্রায়ই যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করতো।

এছাড়া প্রতি মাসে হাত খরচ বাবদ বা বিভিন্ন অজুহাতে ২০/৫০ হাজার টাকা দাবী করতো। সাধ্য অনুযায়ী আমার পিতা ক্ষুদে মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রশিদ একাধিকবার টাকা দেন। তাতে মন ভরেনি স্বামী ও শ্বশুড়ের। যৌতুকের টাকার জন্য তারা প্রায়ই আমাকে মারধর করে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ইতিমধ্যে আমি দুই কন্যা সন্তানের মা হই। তবু থামেনি স্বামী শ্বশুড়ের অত্যাচার নির্যাতণ। এনিয়ে একাধিকবার স্বামীর বাড়ির আত্বীয়স্বজনসহ স্বামীর বড় ভাই মো. ওমর ফারুক খোকন, স্থানীয় মেম্বার মো. বাকিসহ অন্যান্য লোকজন দেন দরবার করে আমাকে শ্বশুড়ালয়ে নিয়ে যান।

তারপর আবারো সেই একই চিত্র। এভাবে প্রায় ১২ বছর স্বামী-শ্বশুড়ের শত অত্যাচার নির্যাতণ সহ্য করে ২ কন্যা সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে করেছি। এখন আর পারছি না।

সর্বশেষে গত ১০ মার্চ ২০২১ ইং এক লাখ টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দিতে স্বামী ও শ্বশুড় মিলে চাপ সৃষ্টি করে এবং ওইদিন শ্বশুড় নিজে এসে আমার বাবার দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এরপর তারা দাবীকৃত বাকি টাকা এনে দিতে বললে আমি তা অস্বীকার করি। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে ১২ মার্চ রাতে স্বামী ওমর শরীফ আমাকে বেদড়ক মারধর করে এবং ১৩ মার্চ ২০২১ ইং সকালে আবারো মারধর ও জবাই করে হত্যার উদ্দ্যেশে ধাঁরালো দা নিয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তাতে বাঁধা দেয়।

পরে আমিসহ ২ কন্যা সন্তানকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় আমার স্বামী ও শ্বশুড়সহ ওই বাড়ির লোকজন। এসময় তারা আমাকে জানিয়ে দেয়, সংসার করতে হলে ১০ লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে।

এঘটনায় ১৩ মার্চ রাতে আমি ও আমার বাবা এবং আত্বীয় স্বজনরা তুরাগ থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আমাদের কয়েক ঘন্টা থানায় বসিয়ে রেখে অভিযোগ না নিয়ে ফেরৎ পাঠান। রাবেয়া আরো বলেন, আমি আমার ২ মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

ওমর শরীফ ও তার বাবা মিলে আমাকে তাদের বাড়িতে নেয়ার জন্য এখন তুরাগ থানার এ এস আই আ: রহিমকে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে আমাদের বিভিন্ন ভয় দেখাচ্ছে হুমকিও দিচ্ছে। আমি অত্যাচারী ও যৌতুকলোভী ওমর শরীফের সংসার করতে চাই না। আমি তাদের এসব অত্যাচারের বিচার চাই।

এদিকে রাবেয়ার বাবা মো. আব্দুর রশিদ জানান, তুরাগ থানার এ এস আই আ: রহিম যৌতুকলোভী ওমর শরীফের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেন। আমি বা আমার মেয়ে রাবিয়া এতে রাজি হইনি। তিনি গত ২ এপ্রিল সকালে আমার বাসা ও দোকানে এসে জানান, রাবেয়াসহ আমার পরিবারের লোকজনের নামে ওমর শরিফের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আক্বসাৎ করেছি মর্মে সাধারণ ডায়রী করেছেন বলে জানান।

ওই এ এস আই আমার মেয়ে রাবেয়াসহ আমি ও আমার স্ত্রীকে বলেন, রাবেয়া যদি স্বামীর সংসার না করে, তবে তাকেসহ সবাইকে মামলায় জড়িয়ে দেয়া হবে। রাবেয়ার বাবা মো. আব্দুর রশিদ আরো জানান, আমার মেয়ে যৌতুকলোভী অত্যাচারী স্বামীর সংসার করবে কি না, এটা তার ব্যাপার। এব্যাপারে রাবেয়া আক্তার কল্পনার শ্বশুড় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি বলবো আমার ছেলে একটা কুলাঙ্গার। সে মারধর করে এাঁ সঠিক নয় তবে হৈচৈ বেশী করে। ছেলেকে শাস্তি দিতেই মেয়েকে বাপের বাড়ি দেয়া হয়েছে। যৌতুক চাওয়া বা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওরা আমাকে হুমকি দিয়েছে বলেই আমি থানায় সাধারণ ডায়রী এবং উকিল নোটিশ করেছি।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী

Share