টঙ্গীর মাদক ব্যবসায়ীদের কোটিপতি হওয়ার নেপথ্য গল্প

madok momela

টঙ্গীর কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তির শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী এক সময়কার মোমেলা বেগম (৪০) আজ টঙ্গী ও গাজীপুরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এক সময় যাঁরা তাকে ব্যবসা শিখিয়েছেন তারাই আজ তার ব্যবসায়ীক প্রতিদন্ধী। ফলে উভয় ব্যবসায়ীর মধ্যে চলছে চরম প্রতিযোগীতা। কাকে জেলে ঢুকিয়ে কে ব্যবসায়ীক মাঠে রাজত্ব করবে এমন প্রতিযোগীতায় উভয় গ্রুপের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসছে বাড়ি, গাড়ী অর্থ সম্পদের এক অজানা তথ্য। ভয়ঙ্কও এসব মাদক ব্যবসায়ীদেও অবিলম্ভে গ্রেফতারের দাবী উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তিটি আইনশৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন মহলে úরিচিত স্বর্ণ খণি হিসেবে। এখানকার শীর্ষ হিরোইন ব্যবসায়ী রিপা, মহিলালীগ নেত্রী ময়নার মেয়ে শীর্ষ ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী নার্গিসের রাজত্ব চলেছে প্রায় দেড় যুগ। একাধিক মামলা মোকদ্দমায় এ দুটি গ্রুপ ক্ষানিকটা ঝিমিয়ে পড়লে ওই সময়কার তাদেরই সহযোগী মোমেলা ও আফরিনা হয়ে উঠে অপ্রতিরোদ্ধ এবং এ এলাকার শীর্ষ মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী। ওই এলাকার অনেকেই ধারনা করেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রিপা বা নার্গিস সাময়িক নীরবতা পালন করে অতি কৌশলে বর্তমান শীর্ষ ব্যবসায়ীদের রাজত্ব পরিচালনার পেছনে কাজ করছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোমেলা ও আফরিনা মিলে এলাকার রাজত্ব দখল করে এক তরফা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, ব্যাংকের মাঠে সব সময় দুটি পরিবার বিভিন্ন মাদক ব্যবসাসহ নারী ব্যবসার আধিপত্ত্যে থাকে। আজো তাই রয়েছে। কেউ ব্যবসা ছাড়তে পারেনি। শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন করে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আর এ দৃশ্য নজরে পড়ে, কেউ গ্রেফতার বা কোন সমস্যায় পড়লে। তখন তারা স্ব-স্ব পরিবারের পক্ষে ওই ব্যবসায়ীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। এই ফাঁকে কেউ কেউ নিজের অবস্থান শক্ত করে আধিপত্ত্য বিস্তার পূর্বক ব্যবসা পরিচালনা করে কোটিপতি বনে গেছে। এদের মধ্যে মোমেলা একজন। তার চালচলন বা পোষাকে বুঝার উপায় নেই সে কত টাকা বা সম্পদের মালিক। দীর্ঘ এক যুগ ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে একাধিক মামলায় জেল খাটার পরও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো সেই মাদক ব্যবসা। রিপা, নার্গিস, মোমেলা, আফরিনারা জামালপুর, ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ ও গফরগাঁও, পূবাইলের তালটিয়া, টঙ্গীর মরকুন এলাকায় অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক। রিপা ও নার্গিস একাধিক মাদক মামলায় জড়িয়ে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় কারো নজরে আসেনি তেমনটা। তাদের উভয়ের নামে-বেনামে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জায়গা জমি ও বিপুল পরিমান অর্থ। ততাপিও সম্প্রতি রিপা ও নার্গিসকে কোনঠাসা করে মোমেলা ও আফরিনা মাদক ব্যবসা করে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ। স্থানীয় প্রসাশনে মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকায় তাদের প্রত্যেকের নাম রয়েছে অন্যতম স্থানে। সম্প্রতি নার্গিসের মা নেত্রী ময়নার নামও একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনের তালিকায়। এছাড়াও নার্গিসের ব্যবসাটি বর্তমানে তার মা ময়না ও রানী নামে একজন পরিচালনা করে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান। অপরদিকে, বর্তমানে মোমেলা ও আফরিনাকে ব্যবসায়িক সর্বাত্বক সহযোগীতা করছে স্থানীয় একজন যুবলীগের নেতা। যার বিরুদ্ধে জোর পুর্বক নাবালিকা অপহরণ করে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নার্গিস ও ময়না গ্রুপ এবং মোমেলা ও আফরিনা গ্রুপের মধ্যে দন্ধ রয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসার আধিপত্ত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন সময় এ ব্যবসায়ীক দন্ধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় মারামারিসহ বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার বলে জানান এলাকাবাসী। এদিকে মাদকদ্রব্য বিক্রির অর্থ দিয়ে মোমেলা ক্রয় করেছেন টঙ্গীর ৪৭ নং ওর্য়াডের মরকুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কুদ্দুস খলিফা রোডে জাহিদ হাসান ভিলা নামে একটি বহুতল বিলাসবহুল বাড়ী। একই ওয়ার্ডের শিলমুন পূর্ব পাড়া যোগীগীবাড়ী রোডে রয়েছে মাতৃকোল সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমীতির স্বপন মাস্টারের কাছ থেকে ক্রয় করা অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ী। পূবাইলের করমতলা পূর্ব পাড়া আবাসিক এলাকায় পৌনে ৪ কাঠা জমির উপরে একটি আধাঁপাকাঁ বাড়িসহ ব্যাংক মাঠ বস্তিতে একাধিক আধাঁপাঁকা ঘর যার মূল্য কয়েক কোটি টাকার উপরে। মোমেলা বেগম, তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে কিনে দিয়েছেন চারটি মিনি ট্রাক ও মেয়ে জামাই পুলিশের কথিত সোর্স হৃদয়কে ক্রয় করে দিয়েছেন ২০ লক্ষ টাকা দামের একটি প্রাইভেটকার। ওই প্রাইভেটকারসহ কথিত দুই সংবাদকর্মী ও অপর একজন চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সম্প্রতি ফটিক ছাড়তে গ্রেফতার হয়। এছাড়াও টঙ্গী গাজীপুর এলাকায় রয়েছে নামে বেনামে কোটি টাকার সম্পদ। এছাড়া আফরিনার রয়েছে গফরগাঁও ও টঙ্গীতে বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদ। নার্গিসের মরকুন ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় এলাকায়। রিপার, টঙ্গী ও পূবাইলের তালটিয়া বিপুল পরিমান অর্থ ও সম্পদ রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়, ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোমেলার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানাসহ গাজীপুর ডিবি, র‌্যাব ও গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে ২০টির অধিকসহ রিপা, নার্গিস ও আফরিনার নামেও একাধি মাদক মামলা রয়েছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মোমেলা বা আফরিনার বিভিন্ন মাদকের চালান আনা নেওয়ার জন্য রয়েছে তার নিজস্ব মিনি ট্রাকসহ একটি প্রাইভেটকার ও একটি সিএনজি। এসব যানবাহন দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে আনা হয় ফেনসিডিল ও মরণ নেশা ইয়াবা। এসব মাদক রাতের আধারে ব্যাংকের মাঠ বস্তিতে এনে প্রায় ১০/১২ জন হকারের মাধ্যমে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করা হয়ে থাকে। মোমেলার মা জানান, আমার মেয়ে ৩/৪ মাস আগে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। আর তিনটি বাড়ী মাদক ব্যবসা করেই করা হয়েছে বলে তিনি শিকার করেন। তবে একটি বাড়ী মোমেলার নামে বাকি গুলো মোমেলার মায়ের নামে বলে জানান তিনি। মোমেলার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার স্ত্রী একজন মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে সমাজে আমি মুখ দেখাতে পারিনা। আমার শাশুরীর আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারণে আমার স্ত্রী মোমেলা এসব মাদক ব্যবসা করে থাকে। এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিন) ইলতুৎ মিশ জানান, মোমেলা একজন তালিকাভু’ক্ত মাদক ব্যবসায়ী। আমি যোগদানের পর তাকে কয়েকবার মাদকসহ গ্রেফতার করেছি। আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে জামিনে এসে আবারো পুরানো ব্যবসা শুরু করে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী