টঙ্গীর কাজী গেষ্ট হাউজে যুবকের আত্বহত্যার নেপথ্যে কাহিনী !!

Tongi Hotta

গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশন গোল চত্বরে কাজী গেষ্ট ইন নামে একটি আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২৭ নম্বর কক্ষ থেকে কবির হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে ধুম্র জালের সৃষ্টি হয়েছে। টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেমনের সামনে চোরাই জুতা ও পুরোনো জুতা মার্কেটসহ আশপাশের একাধিক লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার কাদুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে কবির হোসেন। দরিদ্র অসহায় পরিবারের ছেলে সে।

গ্রামের বাড়িতে তার মা ভিক্ষে করে জীবিকা নির্বাহ করে। বাবা মারা যাবার পর কবীর হোসেন সংসারের অভাব গোছাতে টঙ্গীতে কাজের সন্ধানে আসে। কোন কাজ না পেলেও তার ভাগ্যে জোটেছে কতিপয় মাদকাসক্ত বন্ধু।
একসময় ওইসব বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সে। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে কোথাও কাজ না পেয়ে অভাব আর মাদকের টাকা যোগাতে গিয়ে পরিচয় হয় মামুন, আওলাদ ও পিন্টু নামের টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশনের গোলচত্বরের চোরাই ও পুরোনো জুতা ব্যবসায়ীর সাথে।

তারা তাকে জুতা চুরির কাজে নামিয়ে দেয়। এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক বাসা বাড়ি এবং ট্রেনে যাত্রীদের জুতা চুুরি করা তার পেশা হয়ে যায়। সেই চুবিকৃত জুতা এনে ষ্টেশনের গোলচত্বরের চোরাই ও পুরোনো জুতা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে চলতে থাকে তার জীবন। সেই থেকে কবির হোসেন টঙ্গী এলাকায় হয়ে উঠে চিহ্নিত জুতা চোর।

তারপর ওই মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন, মামুন, ও পিন্টু মিলে কবির হোসেনকে দাদন হিসেবে (নিয়মিত জুতা চুনি করে এনে তাদের দেয়ার জন্য) টাকা দেয়। জুতা চোর এবং চোরাই জুতা বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে চলতে থাকে ব্যবসা। তাদের উভয়ের মধ্যে সর্ম্পক ঘনিষ্ট হয়।

এক পর্যায়ে জুতা ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন তার পরিচিত এক মেয়েকে বিয়ে দেয় কবির হোসেনের সাথে। সম্প্রতি কবির হোসেন তার চোরাইকৃত জুতার সঠিক মূল্য না পাওয়ায় গোপনে চুরিকৃত জুতা মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীদের দিতে থাকে।

এতে বাঁধা দেয় আওলাদসহ তার অপর দুই ভাই মামুন ও পিন্টু। গত ২১ এপ্রিল রাতে কবির হোসেনকে ধরে ওই হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২৭ নম্বর কক্ষে নিয়ে ওই তিন ভাই মিলে মারধর করে এবং দাদন দেয়া বা পাওনা ১২/১৩ হাজার টাকা ফেরৎ দাবী করে এবং গলায় চুরি ধরে ভয় দেখায় বলে জানায় কবিরের সহযোগীরা। টাকা পরিশোধ না করে হোটেল থেখে বের না হতেও হুমকি দেয় ওই চক্রটি।

স্থানীয়রা আরো জানান, ১৮ এপিল হোটেলের কক্ষ ভাড়ার নেয় এবং ২১ এপ্রিল বুধবার রাতে ওই যুবক হোটেলে প্রবেশের পর আর বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। এরপর বৃহস্পতিবার সারাদিন ওই কক্ষ থেকে যুবকের সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় হোটেল কর্তৃপক্ষের।

বিষয়টি টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে জানালে থানার এস আই মো. লিটন শরীফসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেল কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় বিকেলে কবির হোসেরে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর মর্গে প্রেরন করেন।

এঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে। আরনা করা হচ্ছে, হয়ত টাকার অভাব এবং স্থানীয় তিনজন জুতা ব্যবসায়ীর হুমকি ও চাপে পড়ে ওই যুবক হোটেল কক্ষে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্বহত্যা করেছে। এব্যাপারে মামুন, আওলাদ ও পিন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে পুরাতন ও চোরাই জুতা মার্কেটের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ওই ছেলেকে আমি চিনি না, মামুন, আওলাদ ও পিন্টুরা ওই ছেলেকে মারবে কেনো ? এগুলো মিথ্যে এবং বানানো কথা, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী