টঙ্গীতে বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে বির্তক

mosq

টঙ্গীর মরকুনস্থ বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের মুসল্লি ও মোতয়ালীসহ তার ওয়ারীশগনের দাবী উপেক্ষা করে মসজিদের উন্নয়নের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ করেছেন মোতয়ালীর ভাগ্নে দাবীদার মো. সিদ্দিকুর রহমান।

মেয়াদ উর্ত্তীণ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদকে নতুন কমিটিতে নেয়ার অপচেষ্টাসহ মসজিদের জমি দখল করে দেয়ালে গেইট নির্মাণ এবং ভূয়া বিল ভাউচার এবং জোর করে দানবাক্স খুলে টাকা লুটপাটের অভিযোগও করেছেন তিনি।
মরকুনস্থ বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের মোতয়ালী মো. আমিনুর রহমান হরমুজ এর ভাগ্নে দাবীদার মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ২০১৪ সালে উক্ত মসজিদের জমিটি দান করেন তার মামা আমিনুর রহমান হরমুজ।

তখন থেকে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মো জাহিদ এবং প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় কাউন্সিলর।

তাদের কমিটির মেয়াদকাল উর্ত্তীণ হওয়ার পরও নতুন কোন কমিটি গঠন না করায় মসজিদের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওমর ফারুকক ও মোতয়ালী মো. আমিনুর রহমান হরমুজ প্রধান উপদেষ্টা বা কমিটির অন্যান্য কাউকে বিষয়টি না জানিয়ে গত ২৯ মে ২০২০ ইং উক্ত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেন।

আহবায়ক কমিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুককে আহবায়ক ও মো. সাজ্জাদুর রহমান লিটুকে সদস্য সচিব করা হয়। আহবায়ক কমিটির কাউকে সঙ্গে না নিয়ে আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিলে কাউকে কিছু না জানিয়ে মসজিদের দান বাক্সের টাকাসহ বিভিন্ন অনুদানের টাকায় মসজিদ উন্নয়ণ কাজ শুরু করেন এবং ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠলে মসজিদের মোতয়ালী আমিনুর রহমান হরমুজের একক সিদ্ধান্ত নিয়ে আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুককে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

পরে তার স্থানে মসজিদ উন্নয়নে ভাগ্নে সিদ্দিকুর রহমানকে মৌখিক দায়িত্ব দেন বলে দাবী করেন সিদ্দিকুর রহমান।

সিদ্দিকুর রহমান আরো জানান, জাহিদ ও ওমর ফারুক মসজিদ উন্নয়নের নামে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে জায়গা দখল পূর্বক জাহিদ এর নিজ বাড়ির রাস্তা নির্মাণ এবং মসজিদের দেয়ালে গেইট নির্মাণ করেন।

এতে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে বির্তকের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর থেকে মসজিদের মোতয়ালী ও মুসল্লিরা মিলে আগামীতে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনে মো. সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি ও মো. সাজ্জাদুর রহমান লিটুকে সাধারণ সম্পাদক করার দাবী জানান।

মসজিদের প্রধান উপদেষ্ঠা স্থানীয় কাউন্সিলর বিষয়টি জানার পর আহবায়ক কমিটি মেনে না নিয়ে মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে মসজিদ উন্নয়ণে কাজ করার নির্দেশ দেন।

এছাড়া গত দু-বছর আগে মসজিদের উদ্যেগে অনুষ্টিত ওয়াজের টাকার কোন হিসেব আজো দেয়নি ফারুক ও জাহিদ কমিটি বলে দাবী করেন সিদ্দিকুর রহমান। এব্যাপারে জানতে আমিনুর রহমান হরমুজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার স্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক ও জাহিদ মিলে নিঃস্বার্থভাবে মসজিদ উন্নয়ণে কাজ করছে। সিদ্দিক তাদের কাজে বাঁধা দিচ্ছে। কেনো বাঁধা দিচ্ছে জানি না, সে আমাদের বংশের কেউ নয়, তবু কেনো এসব করছে, কার ইশারায় করছে ? আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন।

আল্লাহর ঘর সকলের জন্য। এলাকার মুসল্লিদের সুবিধার্থে এ মসজিদ করা হয়েছে। আমরা কেউ কোন বিবাদে জড়াতে চাই না।

এব্যাপারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহর ঘরের টাকা আত্বসাতের প্রশ্নই উঠেনা। এসব অভিযোগ সাঁজানো। ভাউছারে কিছু টাকা বেশী ধরা হয়েছে এটা সত্য, মসজিদের জায়গা দখল করা হয়নি, গেইট লাগানো হয়েছে-প্রয়োজেনে খুলে নেয়া হবে।

কাউকে না জানিয়ে একটি চলমান কমিটি হঠাৎ ভেঙ্গে দেয়া বা আহবায়ক কমিটি করা উদ্দেশ্যমূলক। কমিটির উপদেষ্টা একজন কাউন্সিলর তিনিও বিষয়টি জানেন না। এটা হতে পারে না। কাউন্সিলর এবং মুসল্লিদের নির্দেশে আমরা মসজিদের উন্নয় কাজ করছি।
এ বিষয়ে সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওমর ফারুক এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিদ্দিক মসজিদ কমিটিতে কখনো ছিলো না, এখনো নেই অথচ সে দান বাক্স ভেঙ্গে টাকা নিয়ে গেছে। আমরা কয়েকজন মিলে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এ মসজিদ নির্মাণ করেছি।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. সাদেক আলী বলেন, মসজিদ জনগনের সম্পদ, আমার ওয়ার্ডে ৩৭ টি মসজিদ রয়েছে এগুলোর ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার রয়েছে। আপনিও খোজঁ নিয়ে দেখুন। এই মসজিদে কোন প্রকার অনিয়ম দূর্নীতি হলে অবশ্যই দেখবো।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী