টঙ্গীতে প্রকাশ্যে বাড়িতে ঢুকে ধাঁরালো অস্ত্র নিয়ে হামলা ও লুটপাট

Tongi Hamla And Grefter

পূর্ব বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টঙ্গী বনমালার শান্তিবাগ এলাকার একটি বাড়িতে প্রকাশ্যে ধাঁরালো অস্ত্র নিয়ে কিশোর সজল সরকারের নেতৃত্বে সাব্বির ওরফে কেবিডি সাব্বির, আলি হোসেন, শৈশব, লালু মিয়া, রহমত আলী, আক্তার হোসেন, মিশুসহ ২৫-৩০ জনের একদল কিশোর হামলা চালিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় এইচএম মেহের (৫০) ও তার ছেলে জগলুল হায়দার (২১)। আহত হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও রহস্যজনক কারণে বাদী বিবাদী উভয়ে মধ্যে খোদ থানায় বসে আপোষরফা করেন স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিরা। অবশেষে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সাব্বির ওরফে কেবিডি সাব্বিরকে গ্রেফতার ও হামলঅ সংক্রান্ত মামলা রজুর মধ্যদিয়ে বাদী বিবাদীর আপোষ নাটকের অন্ত করে দিলেন ডিসি মো.ইলতুৎ মিস।

স্থানীয়রা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় দত্তপাড়া এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা সজল সরকারের নেতৃত্বে সাব্বির ওরফে কেবিডিসহ ২৫-৩০ জনের একদল কিশোর মিলে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রসহ শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা এইচএম মেহের ও তার ছেলে জগলুলের উপর হামলা চালায় এবং বাড়ি ঢুকে ভাংচুর করে। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি- টঙ্গী) পিযুষ কান্তি দে‘সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহত এইচএম মেহের বলেন, গত বুধবার রাতে আমার ছেলে জগলুলকে মুঠোফোনে রহমত নামে এক কিশোর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা আমার ছেলেকে বনমালা রেলক্রসিং এলাকায় নিয়ে চাপাতির উল্টোপিঠ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে রেললাইনের পাশে ফেলে যায়। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় এসে ফেসবুকে রহতের নাম উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেয় জগলুল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকালে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সাব্বির ওরফে কেবিডি সাব্বির ধারালো চাকু (সুইচ গিয়ার) নিয়ে আমার বাসার সামনে এসে আমার ছেলের ওপর ফের হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয়রা সাব্বিরকে সুইচ গিয়ারসহ আটক করে। খবর পেয়ে সাব্বির গ্রুপের অন্য সদস্যরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা ঘরে থাকা নগদ প্রায় ১২ লাখ টাকা, ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় তারা স্থানীয় দোকানদারদের এ বিষয়ে মুখ না খোলারও হুমকি দেয় বলে দাবী করেন এইচএম মেহের। এঘটনার পর রহস্যজনক কারণে মেহের আলী থানায় মামলা না করে বিবাদী পক্ষের সাথে থানায় বসে আপোষরফা করেন। এঘটনায় মামলা না করে কেনো আপোষ করলেন, জানতে চাইলে এইচএম মেহের বলেন, সবাই আমরা একই এলাকার বাসিন্দা তাছাড়া স্থানীয় লোকজনের চাপে আপোষ করতে বাধ্য হয়েছি। এদিকে কিশোর সাব্বির ওরফে কেবিডি সাব্বির ধাঁরালো ছোঁড়া (সুইচ গিয়ার) নিয়ে প্রকাশ্যে হামলার একটি ভিডিও ক্লিপ স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে এইচএম মেহের স্থানীয় লোকজনসহ সাব্বিরকে বাঁধা দিতে দেখা যায়। বিষয়টি মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টিতে পড়ার পর ওনার নির্দেশে শুক্রবার সকালে সাব্বির ওরফে কেবিডি সাব্বিরকে গ্রেফতার করে। এব্যাপারে এস আই মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বাদী এইচএম মেহের এজাহার দিয়েছেন কিন্তু সাব্বিরকে ওই এজাহারে অভিযুক্ত করেননি। তবে ছোঁরা হাতে ঘটনাস্থলে থাকার ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ায় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে ধরে আনা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিন জোনের ডিসি মো. ইলতুৎ মিস বলেন, গতকালের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছোঁরা হাতে থাকা যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী