টঙ্গীতে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে ছিনতাই চাঁদাবাজী ও মাদক ব্যবসা॥ অতিষ্ট সাধারণ মানুষ

MRINALNEWS-POLISE SORS

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার কতিপয় এস.আই ও এ.এস.আইদের র্সোস পরিচয় দিয়ে ১০/১২ চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ছিচকে চোরেররা প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডসহ জমজমাট মাদক ব্যবসা।

এসব নামধারী সোর্সদের শিকার হয়ে এলাকার সাধারন মানুষ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্তা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে বসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার মিলগেইট এলাকার সেলিম মিয়া, চেরাগআলীর জনি, আউচপাড়ার ভুয়া পুলিশ সদস্য পরিচয় দাতা নূর হোসেনের ছেলে ফয়সাল, গাজীপুরার মোঃ জাকির, এরশাদনগর এলাকার হাতকাটা জাহের আলী, জহুর আলী, রাজু আহম্মেদ, শুক্কুর আলী, সাঈদ মিয়া, বারেক, আলমগীর হোসেন, কো-অপারেটিভ ব্যাংক বস্তির মিলন, কালা ফারুক, ষ্টেশন রোড-মাছিমপুরের ঠোন্ডা জাহাঙ্গীর, আঃ কাদির, আরিপুর, মিরাশপাড়া, পাগাড়, টঙ্গী বাজার, বিসিক এলাকার জাহাঙ্গীর, ফারুক, কিতাব আলী, শুভ মিরাজ, কুত্তা ফারুক, ইমন, কুতুব মিয়া, রাসেল, মাহাবুব, কুলসুম, জাবেদ, পলাশ, কমলার ছেলে আজাদ, ফরহাদ, বাবু, দত্তপাড়ার ময়মনসিংহ্যা খোকন. লিটন,
সুমন, ২৫/৩০ জন টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার একেক সময় একেক এ.এস.আইগন কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় পুলিশের কাজ করে দেয়ার নামে এলাকায় নিজেদের পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার সাধারণ মানুষসহ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের নামে টাকা আদায় করে থাকে।

কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে এসব নামধারী র্সোস বা মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের মনোনীত পুলিশের এ এস আইদের দিয়ে প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীকে ধরে টাকা আদায় শেষে ছেড়ে দেয়াসহ পুলিশী হয়রানী করে থাকে।

কখনো বনিবণা না হলে ঘটে বিপত্তি। ওইসব সোর্সরা কৌশলে মাদক দিয়ে পুলিশে দিয়ে ধরিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। থানার কতিপয় দু-একজন এ.এস.আই এসব র্সোসদের বিভিন্ন অপরাধের কথা জানা সত্বেও তাদের কথা শোনে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য মনে করে টাকার লোভে কাজ করেন।

অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনা জানা জানি হয়ে পড়লে ওইসব এ এস আই ধরেন একজনকে পরে তাকেসহ আরো কয়েক জনের নাম মামলঅয় ঢুকিয়ে আটককৃতকে আদালতে প্রেরণ করেন বলেও গেছে।

এ এস আইদের মধ্যে দু একজন আবার ওইসব মাদক ব্যবসায়ী নামধারী সোর্সদের শেল্টারও দিয়ে থাকেন মাদক ক্রয়-বিক্রয়সহ পুলিশের ভাষায় সামারী করার উদ্দ্যেশ্যে। অনেক সময় এসব র্সোসরা নিজেদের অপরাধ ডাকতে কিংবা যেসব অপরাধীদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত বকরা আদায় করে তাদের বাঁচাতে পুলিশ সদস্যদের জানন্তে বা অজান্তে পুলিশের কাজে বিভিন্ন ভাবে বাঁধা হয়েও দাঁড়ায় এবং পুলিশকে মিথ্যা তথ্যদিয়ে মূল অপরাধীদের রক্ষা করে থাকে।

এছাড়াও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ র্সোস নামধারী উপরোক্তরা প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে চুরি, ছিনতাই পরিচালনাসহ নিজেরা চাঁদাবাজী এমনকি মাদকদ্রব্য ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা বিক্রয়ের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে এ এস আই জাহাঙ্গীর গত প্রায় ২ মাস আগে টঙ্গী বাজার মোড়ল বাড়ি মোড় থেকে সোর্স ফরহাদের মাধ্যমে শফিককে ৭৩ পিচ ইয়াবাসহ আটকের পর ১১ হাজার টাকা, আনার কলি রোডের রিহ্যাব অফিসের ৪ তলায় জুয়ারী লিমন খান ও ড্রাইভার খলিলসহ ৫/৬ জনকে ধরে ২০ হাজার টাকা, প্রায় ১ মাস আগে মাদক বিক্রেতা রাব্বিকে ২ পিচসহ ধরে ১৫ হাজার প্রথম বার, আবারো ৪/৫ দিন আগে ২ পিচসহ ধরে ৬ হাজার টাকা এবং প্রায় ২০/২১ দিন আগে মাদক বিক্রেতা অমিতকে ২ পিচসহ ধরে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে এ.এস আই জাহাঙ্গীর ও এ এস আই দেলোয়ার মিলে তৃতীয় বারের মতো রাব্বিকে ২২ পিচ ইয়াবাসহ ১৫ মার্চ রাতে আটক করে এবং আরো কয়েক জনের নামে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।

একই থানার এ এস আই শরিয়ত উল্লাহ’র বিরুদ্ধেও একই ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, এ এস আই শরিয়ত উল্লাহ টঙ্গী বাজার, বউ বাজার ও আরিচপুর এলাকায় বেশীর ভাগ সময় সাদা পোষাকে ঘুরে সোর্স মাহবুব ও কুলসুমসহ রাসেল ও অমিতের মাধ্যমে প্রায়ই বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশী ভাষায় সামারী করে ছেড়ে দেন।

এ দুই এ এস আই সাদা পোষাকে সন্ধ্যার পর ওইসব মাদক ব্যবসায়ী ও নামধারী সোর্সদের নিয়ে এসব কাজ করে থাকেন বেশীর ভাগ সময়। পুলিশ র্সোসদের এসব কর্মকান্ড নিয়ে জানতে টঙ্গী পূর্ব থানার এ এস আই জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে এ এস আই শরিয়ত উল্লাহ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমার পেছনে কেউ ষড়যন্ত্র করছে। আমার কোন অপরাধ পেলে লিখবেন। আর কিছু বলার নেই। এব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার অফির্সাস ইনর্চাজ মো. জাবেদ মাসুদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ সোর্স কেনো পৃথিবীর যে কোন ব্যক্তি মাদক ক্রয় বিক্রয়ে জড়িত থাকলে এবং সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নেয়া হবে। কেউ-ই আইনের উর্দ্ধে নয়।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী