টঙ্গীতে চাঁদাবাজি মামলায় যুবলীগ নেতা নাদিম গ্রেফতার

Chadabaz Nadim Hayder

টঙ্গীতে যুবলীগ নেতা মো. নাদিম হায়দারকে চাঁদাবাজির মামলায় শুক্রবার রাতে দেওড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পশ্চিম থানা পুলিশ। শনিবার সকালে তাকে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোলেমান হায়দারের ভাতিজা মো নাদিম হায়দার এলাকার কনস্ট্রাকশন কন্ট্রাকটর আ: জলিল নামে এক ব্যক্তির নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং দাবীকৃত চাঁদার এক লাখ টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক আদায় করে নেয় ওই যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা।
গত ৩ মাস আগে আবারো ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো ৩০ হাজার টাকা আদায় করে তারা। গত বুধবার পূণরায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় যুবলীগ নেতা নাদিম হায়দারসহ তার সহযোগীরা মিলে আ: জলিলকে হাত মুখ ও চোখ বেঁধে অপহরণ করে স্থানীয় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে বেদম মারধর করে।

এব্যাপারে আ: জলিলের স্ত্রী মাকসুদা আক্তার মাসুদা বাদী হয়ে নাদিম হায়দারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানার প্রথমে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তভার থানার এস আই নাজমুল হুদাকে দেয়ার পর তিনি আ: জলিলকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।

অভিযানের বিষয়টি অপহরণের সাথে জড়িতরা জানতে পেরে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আ: জলিলকে গুরতর আহত ও হাত পা ও চোখ বেঁধে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ খবর পেয়ে থানার এস আই নাজমুল হুদাসহ একদল পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার এবং দেওড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত যুবলীগ নেতা নাদিম হায়দারকে গ্রেফতার করেন। ওইদিন রাতেই অভিযোগের সত্যতা প্রমান হওয়ায় থানার মামলা-৮ তারিখ ১৭ এপ্রিল-২০২১ রজু হয়। শনিবার সকালে গ্রেফতারকৃতকে আদালতে প্রেরণ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য : স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোলেমায় হায়দারের ভাতিজা পরিচয়ে যুবলীগ নেতা নাদিম হায়দার এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নাজমুল হুদা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নাদিম হায়দার এলাকার চিহ্নিত একজন চাঁদাবাজ এবং ভুমিদশ্যু।

তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তাকে গ্রেফতার করে ইতিমধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেনো, সত্যতা পেলে কোন ছাড় নেই। নাদিম হায়দারসহ অঞ্জাত আরো ২/৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী