টঙ্গীতে খাবার হোটেলগুলোতে নেই পরিস্কার পরিছন্নতা, বিক্রি হচ্ছে অজানা বিদেশী মাংস

tongi hotel,MrinalNews,Tongi

টঙ্গীর নামীদামী খাবার হোটেলগুলোতে নেই পরিস্কার পরিছন্নতা। ময়লাযুক্ত ও দূর্গন্ধময় পরিবেশে প্রতিনিয়ত বাবুর্চি খানায় অজ্ঞাত ও বিদেশী প্যাকেটজাত মাংসকে গরু বা খাসির মাংস হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন সু-স্বাদু খাবার সামগ্রী। এছাড়াও সরকার বা বিএসটিআই অনুমোদন বিহীন বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানীর নামে তৈরি করা হচ্ছে ঘি, দইসহ বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী।
সরেজমিনে টঙ্গীর ষ্টেশন রোডের গ্রীন হোটেল বাবুর্চি খানায় নেই পরিস্কার পরিছন্নতা। ময়লাযুক্ত ও দূর্গন্ধময় পরিবেশে প্রতিদিন গভীর রাতে গ্রীন হোটেলের মালিক পক্ষ পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি পাউডার দুধ দিয়ে অপরিচ্ছন্ন ভাবে তৈরি করছে দই এবং মিষ্টি জাতীয় খাবারসহ কস্তুরি নামে বিএসটিআই সিলযুক্ত ঘি এবং ওই পাউডার মিশ্রিতী দুধ ভোর বেলা উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করছে গরুর দুধ হিসেবে। অপরদিকে মামা বিরিয়ানী হাউজ বা নান্না বিরিয়ানী হাউরে বাবুর্চিখানার অবস্থাতো আরো নাজুক।

উক্ত বিরিয়ানী হাউজের মালিক পক্ষ বিমান বন্দর থেকে পলিথিন মোড়ানো ভারতীয় বোম্বের সিল করা প্যাকেটে আসা অজ্ঞাত ও বিদেশী মাংসকে গরু বা খাসির মাংস পরিচয়ে কাচ্চি বিরিয়ানী, তেহারী, টিক্কা, শিক কাবাব, রোল কাবাব, বটি কাবাব, সূতী কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের সু-স্বাদু খাবার তৈরি করে ভোক্তাদের সহনশীলতার বাইরে অধিক মূল্যে দেরাচ্ছে পরিবেশন ও বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ।
উপরোল্লিখিত প্রতিষ্ঠান ছাড়াও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন হোটেল, রেস্তুরা, চাইনিজ, মিষ্টির দোকানগুলোর একই অবস্থা বিরাজমান বলে জানান একাধিক ভোক্তারা।
এব্যাপারে মামা বিরিয়ানী হাউজ বা নান্না বিরিয়ানী হাউজের মালিক মো. হাসেম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরসহ বিএসটিআই এবং স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে এমনকি সরকারকে নিয়মিত ভ্যাট-টেক্স দিয়ে ব্যবসা করছি।

কোন অবৈধ কাজ করছি না। আমার মতো আশপাশের অনেক হোটেলই এমন করে থাকে। প্যাকেটজাত বিদেশী মাংসগুলো কিসের মাংস জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা বলতে পারবো না, তবে গরু না হলেও মহিষের মাংস অবশ্যই। সরকার বিদেশ থেকে আমদানী করার অনুমোদন দিয়েছে বলেই আমরা ক্রয় করে ব্যবসা করছি।

এব্যাপারে গ্রীন হোটেলের মালিক নিজেকে হোটেলের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, এ প্রতিষ্ঠান আমার নয়, আমার ভাতিজা সুমনের। আমি দুধ, দই, ঘি’র ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না।

পরে সুমনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার তৈরি ঘি খাটি, কোন ভেজাল খাদ্যদ্রব্য আমরা তৈরি করি না, যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে তা বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে করা হচ্ছে। আমি পরে আপনার সাথে কথা বলবো, আমি রোগী নিয়ে এখন হসপিটালে আছি বলেই মুঠোফোনটি কেটে দেন।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী