টঙ্গীতে কু-প্রস্তাবের সংবাদ প্রকাশের পর রোগীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

Mrinal Saykat

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে আউটসোর্সিং কর্মচারী রাকিব কর্তৃক কু-প্রস্তাব দেয়ার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের রক্ষার্থে হাসপাতােলর আউটেসামিং কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে মহিলাকে নগদ ৩ হাজার দিয়ে এবং কাগেজ আপোষনামা লিখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে তাকে মারধর ও টেনে হিজড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া হাসপাতালের ওই চক্রটি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। গত শনিবার বিকেলে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোজিনা আক্তার। এ সময় তিনি ও তার দুই শিশু সন্তান কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় হাসপাতােলর দুই সুইপার নারী ওই মহিলাকে টেনে হেচড়ে হাসপাতাল থেকে বের করছেন। এসময় বিষয়টি জানতে চাইলে দুই সুইপার নারী ওই রােগীকে চিটার বাটপা ও প্রতারক বলে গালি দিতেও দেখা দেখা যায়। ভিডিওতে তার প্রমান পরিলক্ষিত হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরায় হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সবাদ প্রকাশ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোর করে নেয়া আপোষ নামার আলোকে মিথ্যা বানোয়াট প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।
এদিকে হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার পশ্চিমবঙ্গা গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে রোজিনা আক্তার রুপা স্বামী সন্তান নিয়ে উত্তরার ১০ নং সেক্টর ফুল বাড়িয়া সিরাজ মার্কেট এলাকার মন্টু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বাস করে। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী রেজাউল করিম রনি ও তার পরিবারের লোকজন মিলে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে প্রায় এক মাস ব্যাপী কবিরাজী ঔষধ খাইয়ে ভালো করার নামে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে রোজিনা দাবী করেন। তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ৫ নভেম্বর টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে ভর্তি হন। গত ৪ দিন পূর্বে খাবার দেয়াকে কেন্দ্র করে আউটসোসিং রাকিব তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে ও তার সহযোগীরা ওই মহিলার সাথে প্রতিদিন খারাপ আচরণ করতেন। তিনি বাধ্য হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের তত্বাবধায় বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে তাকে না পেয়ে অভিযোগটি জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছে জমা দেন। কর্তব্যরত ডাক্তার লিখিত অভিযোগের কপিটি ওয়ার্ড ইনচার্জ মহুয়ার কাছে পাঠান। এতে মহুয়াসহ তার সহযোগীরা ওই মহিলার উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবের কোন বিচার না করে ভুক্তভোগী রোজিনাকে মারধর ও টেনে হিজড়ে জাের পূর্বক লিখিত নিয়ে গত শনিবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়।
এব্যাপারে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম ফোন রিসিভ করেননি ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. পারভেজ হোসেনের মুঠোফোনে যােগােযাগ করা হলে, তিনি বলেন অঅমি ঘটনাটি শুনেছি, ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া হাসপাতালটি শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার স্যারের নামে তাই আপনাদের একটু ছাড় দেয়া উচিৎ।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত,টঙ্গী

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap