টঙ্গীতে কাপড়ের হাটে লিজবিহীন খাজনার নামে চাঁদাবাজদের নির্যাতন ও হয়রানী

Tongi Chadabazi

টঙ্গী বাজারের সাপ্তাহিক ও অস্থায়ীভাবে বসা কাপড়ের হাচের ইজারা নিয়ে চলছে নাটকীয়তা। আর এই নাটকীয়তার মধ্যে একটি চাঁদাবাজ চক্র অবাধে এবং প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে বেপোরোয়া চাঁদাবাজি।

স্থানীয় প্রশাসন এসব চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বরং সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ এবং হয়রানীর অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহে একটি বাজারে দোকান বসিয়ে সরকারী খাজনা মাত্র ৩০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ৫/৭ টাকা খাজনার নামে চাঁদা দিতে বাধ্য হই।

ততাপিও চাঁদাবাজদেও অত্যাচারের পাশাপাশি পুলিশী হয়রানী এবং সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হচ্ছি আমরা। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, প্রতি শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত টঙ্গী বাজার বসা কয়েক হাজার কাপড়ের অস্থায়ী দোকান মালিকের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের নামে দোকান প্রতি ৫শ করে টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে ? এ টাকা কারা আদায় করছে সূনিদিষ্ট কারো সাম বলতে না পারলেও ব্যবসায়ীরা বলেন, এ টাকা সিটি কর্পোরেশনের হর্তাকর্তা, নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা নিয়ে থাকেন তা আমাদেও জানা নেই।

এদিকে এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন স্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম, নেতারা বলছেন সিটি কর্পোরেশনের খাস কালেক্টরের নাম আর কালেক্টর কর্মকর্তা বলছেন নির্বাহী কর্মকর্তার নাম। আসলে কারা নিচ্ছে এ টাকা এই বিপুল অংকের টাকা এনিয়ে পরিস্কার কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না কারো কাছ থেকে।

ফলে আইন শৃংখলা বাহিনী বাজার উচ্ছেদ বা চাঁদাবাজদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে একে অপরকে দোষারোপ করার সুযোগটি হাত ছাড়া করতে চাইছে না একটি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গ্রুপ।

তৃতীয় একটি পক্ষ অতি সু-কৌশলে চাঁদা আদায় করেই চলছে। স্থানীয় নেতা থেকে কর্তাব্যক্তি, হিজড়া থেকে সুইপার, বাড়িওয়ালা থেকে কেয়ারটেকার বা দারোয়ান সবাই যাঁর যাঁর মতো চাঁদা নিচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ! স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, ওইসব চাঁদার টাকা ওঠানো বন্ধে ভাসমান দোকানদারদের উচ্চেদের উদ্দ্যেশে স্থানীয় পুলিশ শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিকবার ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে ব্যবসায়ীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় ।

কিন্তু দুর-দুরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের হয়রানীর নতুন কৌশল অবলম্ভন করে গভীর রাত দেড়টায় পুলিশের অনুপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের উপর হায়েনার মতো হাতে বাঁশের লাঠি, লোহার রড কিংবা খালি হাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে কতিপয় কয়েক যুবক।

অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আর এলোপাথাড়ি ভাবে ব্যবসায়ীদের পিটানোর দৃশ্য দেখে অনেকেই মনে করেছিলো সাদা পোষাকধারী পুলিশের কেউ ! কিন্তু না, তারা পুলিশ না। তবে ব্যবসায়ীদের মারধরকারী এরা কারা ? কাদের নির্দেশে এমন অন্যায়ভাবে মারধর করছে ওরা ? একটি ভিডিও চিত্র ও ছবি দেখে মনে হয়, ইজারা (ডাকহীন) খাজনা আদায়ের নামে চাঁদা নেয় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় নেতারা আর মার বা নির্যাতনের শিকার হয় নিরীহ ব্যবসায়ীরা।

এব্যাপারে বাজারের সাবেক ইজারাদার মনির উদ্দিন সরকার (মনি সরকার) বলেন, ইজারার (ডাকের) মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমি বা আমার কোন লোকজন কোন প্রকার টাকা উঠাচ্ছে না। নতুন করে এখনো ডাক (ইজারা) হয়নি। কে বা কারা টাকা উঠাচ্ছে আমার জানা নেই। এব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর জানান, বাজার ইজারা (ডাক) না থাকায় সিটি কর্পোরেশনের খাস কালেক্টর খাজনার টাকা উঠিয়ে থাকেন।

এখানে কারো চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই। এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের খাস কালেক্টর শাওন আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, আমি নির্বাহী প্রধান স্যারে কথা মতো চলি, ওনি আমাকে যেতে বললে আমি যাই, চলে আসতে বললে চলে আসি। আপনি ওনার (নির্বাহী স্যারের) কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। আমি কিছু বলতে পারবো না। মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী