টঙ্গীতে ঈমাইল হত্যা মূলরহস্য উম্মোচণ, প্রধান আসামী গ্রেফতার

Tongi Pic

টঙ্গীতে ঈসমাইল হত্যা মামলা রজুর এক মাসের মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উম্মোচণ করে মামলার প্রধান আসামী মোহাম্মদ আতাউল হোসেন (৩৫) কে একটি সিএনজিসহ কামারপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।
জানা যায়, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ তুরাগ নদীর কিনারা থেকে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মৃতদেহ যার পরনে নীল রঙের জিন্স প্যান্ট এবং নীল রঙের টি শার্ট পরিহিত অবস্থা পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। মৃতের দুই চোখে জখম ও রক্তাক্ত ছিলো। পরে জিএমপির পশ্চিম থানার পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং আসামি গ্রেফতারের জন্য কাজ শুরু করে।
পুলিশের ধারনা ওইদিন ওই ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা খুনিরা হত্যা করে হত্যাকান্ডের আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ তুরাগ নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছিলো।
ঘটনার পরদিন রাতেই পুলিশেরে পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানার মামলা নম্বর ২৫ তাং ২০ মার্চ ২০২১, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রজু করা হয়। মামলাটির তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিকটিমের পরিচয় জানার জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটনসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ভিকটিমের ছবিসহ বেতার বার্তা প্রেরণ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মাধ্যম, রেলস্টেশন,বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মৃতের ছবি ছড়িয়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানতে পারেন, রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানায় একটা নিখোঁজ সাধারণ ডায়রী নং-৯১১ তাং- ১৮ মার্চ ২০২১ রজু হয়েছে।

উক্ত নিখোঁজ ডায়রীর সূত্র ধরে টঙ্গী পশ্চিম থানার একটি টিম ভিকটিমের অস্থায়ী ঠিকানায় কামারপাড়ায় গিয়ে ভিকটিমের বাবা-মা এবং স্থানীয় একজন সেলুনের নরসুন্দরকে ছবি জামা কাপড় দেখিয়ে নিহত ব্যক্তিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হন।
নিহত ব্যক্তি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার ধানগড়া গ্রামের নূর নবী সরকারের ছেলে ইসমাইল সরকার। সে কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ইলতুৎমিশ স্যারেরর সার্বিক দিক নির্দেশনায় ভিকটিমের বাবা-মায়ের নিকট থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রধান আসামি কামারপাড়ার বাসিন্দা এবং গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার রামনগর গ্রামের মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে মো. আতাউল হোসেন (৩৫) কে একটি সিএনজি নং-ঢাকা- থ-১১-৮৬৯১সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার পূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
গ্রেফতারকৃত আতাউল হোসেন পুলিশকে জানায়, সে ও তার অপর এক সহযোগী মিলে ঈসমাইলের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করে। অপহরণের পর ঈসমাইলের বাবার কাছে তারা পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। টাকা না পেয়ে ইসমাইল হোসেন কে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্ধেশ্যে তুরাগ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী