টঙ্গীতে আবারো শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ব্যবসা জমজমাট

Madok bebsha

টঙ্গীর বিভিন্ন বস্তি ও আবাসিক এলাকায় আবারো শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান নিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য বিশেষ করে হিরোইন, ইয়াবা, গাজা, বাংলা চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেকটা প্রকাশ্যে।

স্থানীয় আইন-শৃংখলা বাহিনী অভিযান বা গ্রেফতার উপেক্ষা করে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এসব মাদকদ্রব্যেও ব্যবসাসহ অসামাজিক কার্যক্রম । এ প্রশ্ন উঠেছে টঙ্গীবাসীসহ সচেতণ মহলে।
বিভিন্ন জানা যায়, টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ১৪টি এবং পশ্চিম থানা এলাকায় ছোট বড় ৭টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তির প্রায় সবগুলোতেই কম-বেশী মাদক বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

গত কয়েক বছর টঙ্গীর কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ, ভরাণ মাজার বস্তি, বাইদ্যা বহর বস্তি, কেরানীরটেক বস্তি, নামাপাড়া বস্তি, জিনাত বস্তি, কাঠালদিয়া কলাবাগান বস্তি এবং দেশের সর্ববৃহৎ জনবহুল খ্যাত এরশাদনগর বস্তি। এসব বস্তিতে আইন-শৃংখলা বাহিনী ব্যপক অভিযান চালিয়ে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের উচ্ছেদ করে। ওইসময় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা সাময়িক ভাবে বস্তি এলাকা ত্যাগ আবাসিক এলাকায় গিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সম্প্রতি আবারো এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা বস্তি এলাকায় তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা যায়, গাজীপুরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে টঙ্গী এরশাদনগর, ভরান মাজার বস্তি, কাঠালদিয়া বস্তি, মিলগেইট নামাপাড়া বস্তি, নতুন বাজার কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মাঠ বস্তি, টঙ্গী রেল ষ্টেশন, আমতলী (কেরানীরঠেক) বস্তি, মাছিমপুরে নজরুলের বস্তি, শিলমুন মোল্লার গ্যারেজ, মরকুন ঠেকপাড়া, গাজীপুরা, সাতাইশ, খৈরতৈল, দেওড়া, দত্তপাড়া, টঙ্গী বাজার, এলাকায় মাদক বেচাকেনা যেন অনেকটা ওপেন সিক্রেট।
টঙ্গী ভরাণ মাজার বস্তির এক সময়কার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত মো. বাচ্চুর এক সময়কার একান্ত সহযোগী দিল্লী আমির হোসেনের নেতৃত্বে তার মা মনি, হাজেরার মেয়ের জামাই নূর ইসলাম, বরিশাইল্যা দুলালের ছেলে রুবেল, কলি ও কলির ছেলে বাবু ও বাবুর বউ, বাবুর ভাই দুলাল, বাবুর বোন, আরিফ ও তার স্ত্রী লাইলী, মোহাম্মদ আলীর বউ বা বাগুর মা, হারুন, বাবুর মা, স্বপনের বউ, খোকনী, টুকনী, টেপী, আব্বাস, শহনবানু, খলিল, নূর আলম, খোকন শিকদার প্রমূখ। বাইদ্যা বহর বস্তির মাসুদ, পক্ষির বউ, ফারুক ও ভাঙ্গারী পট্রির আবুল ও নাজুসহ ফেন্সি বাবু, মিন্টুরা হিরোইন, ইয়াবা, বাংলা চোলাই মদ, গাঁজার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেকটা চাতুরতার সহিত।
কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তির মোমেলা, জামাল, আফরিনা, কল্পনা, টুকু, দিলজান, রিপা, রিপন, সজিব, রুনা, নাজমাসহ বেশ কয়েকজন অন্যতম। এছাড়াও তাদের ব্যাংক মাঠ বস্তিতে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মমতাজ, জাহাঙ্গীর, ইদ্রিস, শাহীন, বাদল, রহিমা, কাজলের মা, শেফালী, জহুড়া, শাহীনূর, ঝর্ণা, হাসনা, আকলিমা, ফারুক, রানী, মনির, বাচ্চু, বাচ্চুর বউ শিরিন, বাচ্চুর ছেলে শফিক, রাজু মালা, জরিনা, ছিকা, সবুজ, নিপাসহ অনেকেই।
টঙ্গীর রেলওয়ে ষ্টেশন প্ল্যাটফরমসহ আশপাশের এলাকায় ভাসমান প্রায় ৮/১০ জন চিহ্নিত পতিতাদের আনাগোনা আর মাদক ব্যবসাসহ ছিনতাই কার্যক্রমের সাথে ব্যাংকের মাঠের বাচ্চু, বাচ্চুর বউ শিরিন, বাচ্চুর ছেলে শফিক, ফারুক, লাইলী, কেরানীরটেকের সুজন, শাহিনূরসহ পাকনা পাড়া, গোপালপুর, আরিচপুর ও মরকুন এলাকার একাধিক মাদক ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে।
টঙ্গীর পাগাড় এলাকার খুকু মনি, বিল্লাল, অপু, নাচনেওয়ালী সীমা, লিটন শীল, সমর শীল, টিটু শীল, নির্মল, সবুজ, দিলীপ, স্বপন ওরফে চায়না সুমন, সেলিম. নাঈম, মিলন, তিতাস কলা বাগানের রাজু, মামুন, শাহিন, সুজন, রমজান ও পাভেল প্রমূখ বাংলা মদ ও ইয়াবাসহ ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত রয়েছে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়।
টঙ্গী বাজারের ইয়াবা ও মদসহ গাঁজা ব্যবসায়ী আজিজ, নয়ন, কাজল, সুমন আহম্মেদ, আলমগীর, দেহব্যবসায়ী শিরিন ও তার স্বামী ওয়াহিদসহ স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী মনির হোসেন, আমির হোসেন, ফেন্সি বাবু, মিন্টু, আবিরের মা, মানিক, মাহবুব, রুবেল, সাঙ্গু। আনারকলি রোডের মিঠু ওরফে মিন্টু, কিতাব, ফালান, মনির, জুয়েল, আমান, নজরুল, মফিজ, জসিম, সাকা রিপন।
মধুমিতা শেরে বাংলা রোডের চিহ্নিত দেহ ও মাদক ব্যবসায়ী শম্পা আক্তার, সূর্বণা জাহান, আলমগীর হোসেন, মিতু ওরফে সেতু. জাকির, শারমিন আক্তার, কুলসুম আক্তার ও সুমন মিয়া প্রমূখ।
বউ বাজার, জামাই বাজার, আরিচপুর ও গাজীবাড়ির শাহ আলম, কিতাব, জাহাঙ্গীর, লালন, জুয়েল, জাফর, কাইয়ুম, হীরা, শুভ, ভাইস্তা জাহাঙ্গীর, মাসুদ ওরফে জেএমবি মাসুদ, ছোট জাহাঙ্গীর, সাইফুল, মকবুল, মাউচ্ছা ফারুক, মামুন ও হুমায়ুন, মামুন, সোহেল, রাশেদ বাবু, সুমন প্রমূখ। কেরানীরটেক বস্তির রুনা, দুলু, কালু, ন্যাংটার বউ. বেবী, ঝর্ণা, কুলসুম, শারমিন, বকুলী, রোকেয়া, চম্পা, আখি, রহিমা, বকুলের বউ শাহনাজ, ছেলে সুমন, ওয়াহিদ, খোরশেদ, আমির হোসেন, রানী ওরফে বড় রানী, টুনী, টুনীর মেয়ে ও মেয়ের জামাই প্রমূখ। আলেরটেক-মিরাশপাড়া-ফকির মার্কেট ও বিসিকের কালু, অপু, শামীম, কালিয়া মামুন, পিচ্চি রাসেল, সুমন, নাজমুল, সাগর, মনোয়ার, অহিদের ছেলে জাহিদ প্রমূখ। সাতাইশ, খাঁপাড়ার এলাকার স্বপন, শাহীন, জাকির হোসেন, মুক্তার, শাহ আলম, বোরহান, ফাটা মনির, পিন্টু, হীরা, পাভেল, ফয়সাল, বায়োজিদ মিয়া, জাকির হোসেন, আলী আকবর প্রমূখ। মিলগেইট ও নামাপাড়ার সাগর, মোশারফ, সীমা, আরশাদ, আনোয়ার, বিল্লাল, পাখি আক্তার, জুম্মন, মোটা জালাল, ইব্রাহিম, জামাল, জামালের বউ আমেনা, কামাল, আছিয়া, মাইজী, ফালান, নূর নবী, রেধী, র্নূ ইসলাম প্রমূখ। দত্তপাড়ার মোশারফ, ইউসুফ, রফিক, শাহীন, ঝর্ণা এবং মরকুনের বিল্লাল, রনি, আল অমিন, লিটন। টঙ্গী ষ্টেশন রোড ও মাছিমপুরের ফেন্সি সুমন, বৃষ্টি আক্তার, অসিম, রফিক, রিংকু, পিচ্চি শফিক, ইব্রাহিম মাদক ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত।

খাঁপাড়ার আরমান, সজিব, শাহীন, আল আমিন, আবু বক্কর সিদ্দিক, নূর আলম। দত্তপাড়া, আউচপাড়া, চেরাগআলী, কলেজগেইট, হোসেন মার্কেট এলাকার রেজাউল করিম রনী ওরফে বেসত্কি রনি, সাজু, ঈসমাইল, বিল্লাল, আসলাম, সালাম, জালাল, রাজু, চোর জহির, বাবু, টোন্ডা শফিক, শুক্কুর, ইরফাজ, মাসুদ মিয়া, চোর শফিক, মকবুল, মিজান, সুমন, রুহুল আমিন, আলী হোসেন ফালান, শাহীন এরশাদনগরের আকতার হোসেন, জামাল, শামীম, কামরুল ইসলাম, লাইলী, মানিক মোহাম্মদ আলী, মোবারক, সাগর. মোস্তফা, ভ’ট্টু, জাকির হোসেন, রাসেল প্রমূখ ছিনতাই ও মাদকের সাথে জড়িত। উল্লেখ্যঃ উপরোক্ত এলাকার এসব মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত অভিযোগে র‌্যাব, থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ কিংবা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছে আবার কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য ঃ গত ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই-২০২০ ইং পর্যন্ত মাদক ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার ও মামলার তথ্য অনুসারে সংগৃহীত।
সূত্র মতে, এক সময় টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানাধীন কয়েকটি চিহ্নিত বস্তি আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ করে থানা পুলিশের কাছে স্বর্ণখনি হিসেবে পরিচিত ছিলো।

২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুর ২ আসনের জনপ্রিয় সাংসদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার খুন হওয়ার পর সেই চিত্র খানিকটা পাল্টে যায়। টঙ্গীবাসীসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃক এসব এলাকায় মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তাদের নির্মূলের প্রত্যয়ে লাগাতার অভিযান চালিয়ে শতকরা ৭০ ভাগ মাদক ও ছিনতাই নির্মূল করে।

ফলে এক সময়কার স্বর্ণক্ষনি গুলো রুপার ক্ষনিতে এস পড়ে। আইন শৃংখলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের ফলে মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারীরা তাদের এসব আস্তানা পরিবর্তন করে জনবহুল আবাসিক এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে প্রবেশ করে এবং ১২/২২ বছরের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের দিয়ে মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে বা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের মাদক ও ছিনতাই ব্যবসাসহ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। অনেকে আবার বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে অসামাজিক র্কাযক্রমের পাশাপাশি মেয়েদের দিয়েও বিভিন্ন ধরণের মাদক ব্যবসা চালিয়ে থাকে।
সম্প্রতি টঙ্গী অঞ্চলের এ দুটি থানা এলাকার বস্তিসহ আবাসিক এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ ছিনতাইকারীদের উপদ্রব গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে ! প্রতিনিয়ত থানা পুলিশ বা র‌্যাবের দ্বারা মাদক বা ছিনতাইকারীদের পাকড়াও অভিযান চলার পরও চতুর মাদক ও ছিনতাইকারী তাদের ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে বস্তি এলাকাসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে।

ততাপিও ওইসব মাদক ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ তাদের পুরোনো আস্তানায় ফিরে এসে আবারো মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। কি ভাবে-বা-কাদের সহায়তায় এসব মাদক ব্যবসায়ীরা বস্তিগুলোতে ফিরে এসে বাড়ি-ঘর পূর্ণ নির্মাণের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে, তা এলাকাবাসী কারো বোধগম্য নয়। স্থানীয় অনেকে মন্তব্য করে বলেন, তাহলে আবারো কি ওইসব রুপার ক্ষনিগুলো (মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্য বস্তিগুলো) স্বর্ণক্ষনিতে পরিণত হতে চলেছে !
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী