টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাঁই হাজী মাজার বস্তি,শতশত মানুষ-খোলা আকাশের নীচে!

Tongi Agun Manuser Durvog

টঙ্গীতে ভয়বহ আগুনে পুঁড়ে ছাঁই হয়েছে হাজী মাজার বস্তির কয়েক শতাধিক ঘর বাড়ি। সহায় সম্ভলহীন বস্তির শতশত দরিদ্র নারী পুরুষ শিশু কিশোর শীতকে উপেক্ষা করে গত কয়েকদিন যাবৎ খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন কাটাতে দেখা গেছে।

ইতিমধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল-এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরণ, জেলা প্রশাসক এস এম তরকিুল ইসলাম এবং স্থানীয় ৫৭ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর মো.গিয়াস উদ্দিন সরকারসহ “মানবিক বাংলাদেশ” নামে একটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র নিয়ে বস্তিবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শিশু কিশোর নারী পুরুষ সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নীচে পলিথিন বা ছালার চট টানিয়ে রাত্রি যাপন করছে গত কয়েকদিন। ঘটনাস্থল ঘুরে জানা যায়, গত শনিবার ২৭ নভেম্বর ভোর রাতে টঙ্গী বাজার সেনা কল্যাণ ভবন সংলগ্ন হাজীর মাজার বস্তির বাসিন্দা রাহিমা বেগমের টিনের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তে আগুন পুরো বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯ টি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওাহিমা বেগমের বড় বোন রহিমা বেগম (৬০) জানান, তার ছোট বোন রাহিমা শারীরিক ভাবে অসুস্থ, ভোর রাতে সে তার ঘরে আগুন জ¦ালিয়ে শীত পোহানোর সময় অসাবধানতাবশত তার পড়নে থাকা কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন নিভাতে গিয়ে পুরো ঘরে আগুন লাগে। সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বৃদ্ধ রাহিমা বেগম একাই ওই ঘরে থাকতেন। তার দুই ছেলে বিষু ও আশেদ আলী আলাদা বাসায় থাকে। স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকান্ডের পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল-এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরণ, জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম পৃথক ভাবে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের চাল ও কম্বল দিয়েছেন। মানবিক বাংলাদেশ বস্তিবাসীদের মধ্যে বিস্কুট বিতরণ করেছেন এবং স্থানীয় ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন সরকার তার নিজস্ব অর্থায়নে চিড়া মুড়ি এবং ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন প্রতি বেলা প্রায় ১ হাজার বস্তিবাসীর মধ্যে দু-বেলা (ভাত মাছ মাংস ডাউল) খাবার এবং সকালের নাস্তা সরবরাহ করছেন। এ খাবার চলবে আগামী ৭ দিন পর্যন্ত। এদিকে গত সোমবার রাতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল- এমপি’র ফুপু গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাজমা বেগম ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে প্রায় অর্ধশত নারী পুরুষকে চাল, ডাল ও কম্বল বিতরণ করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের খোঁজ খবর নেন। কাউন্সিলর মো.গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে প্রতিদিন দুপুরে ভাত- তরকারী, সন্ধ্যায় বিস্কুট-চা এবং রাতে ভাত-তরকারী বিতরণ করা হয়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও বাড়িওয়ালাদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাকে প্রায় ৯শর মতো ব্যক্তির নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা করা হয়েছে। এগুলো যাচাই বাচাই চলছে। অনেকে ঘটনার পর বাড়ি চলে গেছে তারা আসছে। সরকারী ভাবে ঘর বা স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত কোন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে বুধবার সকালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও সংস্থা প্রতিদিন আসছে। খুব শীঘ্রই তাদের দূর্ভোগ লাগব হবে আশা করছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন আমাদের সকলকে সর্বশান্ত করে গেছে। এ দূ-সময়ে আমাদের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক, কাউন্সিলরসহ মন্ত্রীর ফুফু নাজমা আপা এবং । কিছু এনজিও সংস্থা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা শীতবস্ত্র ও চাল ডাল খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগীতা করছেন। কাউন্সিলর গিয়াস ভাই আমাদের ৩ বেলা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। মাজারের ভেতর অস্থায়ী ভাবে আমাদের থাকার জায়গা করে দিয়েছেন। এজন্য আমরা উরোক্ত সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এবার আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু পূর্ণ নির্মাণ করে দিলে, ছেলে মেয়েসহ সকলকে নিয়ে রাতে একটু নিশ্চিন্তে ও শান্তিতে ঘুমুতে পারতাম।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap