টঙ্গীতে আউট সোর্সিং কর্মচারীর হামলায় টেলিভিশন সংবাদকর্মী আহত

MrinalNews

গাজীপুরের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহকালে আনন্দ টেলিভিশনের টঙ্গী প্রতিনিধি শাকিলের উপর হামলা চালিয়েছে ওই হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী এবং কথিত ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় ও তার সহযোগীরা। এসময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের ইন্ধনে তার নিজ কক্ষে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই সংবাদকর্মী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) কক্ষে একটি রিপোর্টের বিষয়ে ওই কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে তার অনুমতি সাপেক্ষে কক্ষে প্রবেশ করেন সংবাদকর্মী শাকিল। ওই সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাকিলকে বসতে বললেও ওই কক্ষে অবস্থান করা হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী এবং কথিত ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় ও তার সহযোগীরা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের ইশারায় সংবাদকর্মীকে বের হয়ে যেতে বলেন। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আউট সোর্সিং কর্মচারী হৃদয় ও তার লোকজন সংবাদকর্মী শাকিলকে এলোপাথারি মারধর করে তার সাথে থাকা ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আহত শাকিলকে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারসহ আউট সোসিং কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছওে বেশ কয়েকটি ঘটনার সূত্রপাত, ঘটনা ধামাচাপা দেয়া, রোগী, নার্স, ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিকে মারধর, অবৈধভাবে সরকারী হাসপাতালের মালপত্র বিক্রি, টেন্ডার বানিজ্য এবং সরকারী এ্যাম্বুলেস রোগীদের মাঝে দ্বিগুন টাকায় ভাড়া অথবা বেসরকারী এ্যাম্বুলেস নিয়ে রোগী প্রেরণের মাধ্যমে কমিশন আদায়, হাসপাতালে দালালদের আশ্রয় দিয়ে বেসরকারী হাসপাতালাল এবং দালালদেও কাছ থেকে কমিশন আদায় এবং হাসপাতাল মাঠে যানবাহন রেখে চাঁদা আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। একটি বিশেষ সূত্র জানায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মিলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে আউট সোসিং কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম হৃদয়কে ব্যবহার করে একের পর এক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এসব নিয়ে লেখালেখি করলে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাদের দিয়ে সংবাদকর্মীদের শ^াসানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের একাধিক স্টাফ, নার্স, ব্রাদাররা জানান, একজন আউট সোসিং কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম হৃদয়ের কাছে হাসপাতালের ডাক্তার থেকে শুরু করে সুইপার পর্যন্ত জিম্মি হয়ে আছে। আর তাকে রহস্যজনক কারণে সর্বাত্বক গাইড করছে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদ মাসুদ বলেন, হৃদয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের ইন্ধনে এবং তার অফিস কক্ষে একজন টেলিভিশন সংবাদকর্মীকে মারধর এবং ক্যামেরা ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক ভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকেই দায়িত্ব দেন বিষয়টি দেখার জন্য। এ নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত,সিনি : স্টাফ রিপোর্টার

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap