টঙ্গীতে অবৈক গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি

TITAS GAS

বাংলাদেশ সরকার গত ১৯ জুলাই ২০১০ তারিখ থেকে সারাদেশের আবাসিকখাতে নতুন গ্যাস সংযোগ ও সম্প্রসারণ বন্ধ করে করে দেয়ার পর সারাদেশে গ্যাস ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে জড়িত লক্ষাধিক ব্যবসায়ীসহ তাদের পরিবারের প্রায় ৫ লাখ সদস্য নিয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছে এমন দাবী গ্রাহক ও ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের থাকলেও সরকারী নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় কতিপয় দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারগন অতি-চাতুরতার সহিত নিত্যনতুন নির্মিত আবাসিক বাসাবাড়ীতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের।

অপরদিকে স্থানীয় ভাবে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা অবৈধ গ্যাসের সংযোগকৃত লাইন লোক দেখানো এবং নামমাত্র বিছিন্নকরণ অভিযানও করেন মাঝে মধ্যে। কিন্তু সপ্তাহ যেতে না যেতে আবারো সেই একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়।

বছরের পর বছর অবৈধ ভাবে সংযোগ দেয়া বা গ্যাস বিলের টাকা যায় কার বা কাদের পকেটে ? এ প্রশ্ন সরকারী ভাবে গ্যাস সংযোগ না পাওয়া টঙ্গীর আবাসিক গ্রাহকদের।

অবৈধভাবে সংযোগ নেয়া গ্যাসের গ্রাহকরা নাম ঠিকানা প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় দালাল ও ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় করে গ্যাস লাইন সংযোগ নেয়ার পর মাসিক বিলও পশিরোধ করেন তারা। হঠাৎ লাইনগুলো বিছিন্ন করার কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন। পওে অঅবার টাকা পয়সা খরচ করে লাইন চালু করেছেন। গ্যাস ঠিকাদার ও দালালরা লাইনগুলো ভবিষ্যতে বৈধ করে দেয়ার নামে দিনের পর দিন সরকারের সাথে প্রতারণা করছেন জেনেও আমাদেরকে তাদের কথা মতো গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে আমাদের হয়রানীর শিকার যেমন হতে হচ্ছে, তেমনি কিছুটা হলেও উপকার পাচ্ছি। একটি বিশেষ সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পুরোনো টিনসেডের শতাধিক বাড়ি ভেঙ্গে বহুতল ভবন করা হয়েছে। পুরোনো সেইসব বাড়িতে ৩/৪টি চুলার অনুমোদন থাকলেও নতুন বহুতল ভবনের জন্য গ্যাস সংযোগ না পেয়ে বাড়িওয়ালারা স্থানীয় গ্যাস ঠিকাদার, সহকারী ঠিকাদার বা দালালদের মোটা অংকের এককালীন ও মাসিক বিল প্রদানের মাধ্যমে অধিক চুলা লাগিয়ে অবাধে ব্যবহার করছেন। তবে বর্তমান টঙ্গী জোনের ম্যানেজারের নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করণ ও জরিমানা আদায় করার পরও থামছে না সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার মহোৎসব। সুত্রমতে, ২০১৩ সালের মে মাসে এক সমাবেশে টঙ্গী তিতাস গ্যাস ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দ ৩ মাসের মধ্যে আবাসিকসহ সকল প্রকার গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ ও সম্প্রসারণ বন্ধের আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুমকী দিয়েছিলেন। সে সময় নেতৃবৃন্দ আরো বলেছিলেন, গ্যাস কর্তৃপক্ষ কোন প্রজ্ঞাপন জারি ছাড়া আকষ্মিকভাবে ২০১০ সালের জুলাই থেকে গ্যাস লাইনের নতুন সংযোগসহ সম্প্রসারণ কাজ বন্ধ করে দেয়। সারাদেশের মোট চাহিদার শতকরা মাত্র ৮/১০ ভাগ গ্যাস আবাসিক খাতে ব্যয় হয়ে থাকে। অথচ বর্তমান সরকার তা বন্ধ করে দিয়ে সামগ্রিক গ্যাস ঘাটতি মোকাবেলার অপচেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই করছে না বলেও তারা মন্তব্য করেছিলেন। গত ১৯ জুলাই ২০১০ তারিখ থেকে নতুন গ্যাস সংযোগ ও সম্প্রসারণ বন্ধ থাকার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা যেমন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তেমনি সারাদেশের ঠিকাদার সমিতির সদস্যদের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন। ঠিকাদারগন আরো বলেছিলেন, এ পেশার সাথে জড়িত সারা দেশের সুপারভাইজার, ওয়েলডার, ফিটার, ওয়ার্কারসহ সমিতির প্রায় পঞ্চাশ হাজার সদস্য বেকার দিনযাপন করছে। ঠিকাদার ফার্মগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ৫০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫ লাখ সদস্য মানবেতর ভাবে দিন যাপন করছেন। ঠিকাদার নেতৃবৃন্দ বলেছিলেন, ঠিকাদার সমিতির মাধ্যমেই সরকার গ্যাস সেক্টর থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। গ্যাস সংযোগ ও সম্প্রসারণ লাইন বন্ধ থাকায় সরকার এ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। তৎকালীন সময়ে নেতৃবৃন্দ ৩ মাসের মধ্যে উক্ত বন্ধাদেশ প্রত্যাহার না করলে রাজপথে নেমে আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সারা দেশের আঞ্চলিক ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও ছিলো। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে তারা আন্দোলনে না গিয়ে অতি কৌশলে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকিসহ আত্বসাতের পথে পা রাখে। এরই অংশ হিসেবে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় টঙ্গী অঞ্চলের ঠিকাদার গ্রাহক ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক মো: আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবুল বাশার, সদস্য মো: রবিন হোসেন, মো: জাহিদ, মো: লোকমান হোসেন, মো: সাইফুল ইসলাম ও মো: শামিম হোসেনসহ তালিকা ভূক্ত ঠিকাদার ১০/১২ জন এবং সহকারী ঠিকাদার বা দালাল টুটুল, শরিফ, মোঃ হাসি, সানাউল্লাহ, আফজাল, জাহাঙ্গীর, সিরাজ, সালাউদ্দিন, বাবুসহ ১০/১২ জন মিলে অতি-গোপনে বিভিন্ন আবাসিক ও অনাবাসিক বাসা বাড়ীতে এককালীন ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তারও বেশী টাকা নিয়ে এবং প্রতি মাসে চুলা প্রতি আগে ছিলো ৮শ টাকা আর এখন ৯৭৫ টাকাসহ গ্যাসের ব্যবহার অনুয়ায়ী ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মাসিক বিল উত্তোলন এবং ভবিষ্যতে লাইন বৈধ করে দেয়ার শর্তে গ্যাস লাইন সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি সরকারী নির্দেশনায় গ্যাস কর্তৃপক্ষ যখন অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে ঠিক এই মুহুর্তে ঠিকাদার গ্রাহক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ থানা ও জেলায় পর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। যার অংশ হিসেবে গত রোববার ৫ ডিসেম্বর সকালে টঙ্গী বাজারে গ্যাস অফিনের সামনে টঙ্গী ঠিকাদার গ্রাহক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবুল বাশারের নেতৃত্বে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। রোববারের মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, সারা মাসে যা উৎপাদন হয় তার মাত্র ৮/১০ পার্সেন্ট আবাসিক খাতে খরচ হয়। দীর্ঘদিন যাবত গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এখন আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অনতিবিলম্বে বন্ধ আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ চালু করতে হবে। দেশের শিল্প মালিক সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশ সরকার গত ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে আবাসিকখাতের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে রাখেন। ফলে সারাদেশে গ্যাস ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে জড়িত লক্ষাধিক ব্যবসায়ীসহ তাদের পরিবারের প্রায় ৫ লাখ সদস্য নিয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। আমরা এর অবসান চাই। এদিকে টঙ্গীর পাগার ঝিনু মাকেট, ফরিদ খান রোড, মধুমিতা, কলেজ গেইট, দত্তপাড়া, আউচপাড়া, খাপাড়া, সাতাইশ, মুদাফা, চেরাগআলী, গাজীপুরা, টিএন্ডটি, তিস্তার গেইট, এরশাদনগর, বনমালা, পূবাই, মাঝুখান, মিরের বাজার, হারবাইদ, পাগাড়, ফকির মার্কেট, টঙ্গী বাজার, গাজীবাড়ি, জামাই বাজার, বউ বাজার ও বিসিক এলাকায় প্রায় ২/৩ হাজারের অধিক লাইন সংযোগ দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে। এব্যাপারে টঙ্গী আঞ্চলিক গ্যাস অফিসের জোনাল ম্যানেজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিন ২/৩ টি টিম ২/৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ লাইন বিছিন্ন করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে-থাকবে। আপনাদের কাছে অবৈধ সংযোগের তথ্য থাকলে আমাদের জানান, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। যে কোন ঠিকাদার বা দালাল এসব দূর্নীতির সাথে জড়িত থাকলে তার ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap